চট্টগ্রাম বন্দরের ভিতর অতিরিক্ত সময় অবস্থানকারীদের সতর্ক করলো  কর্তৃপক্ষ

0
653
বিশেষ প্রতিনিধি
সাময়িক প্রবেশ পাশ নিয়ে একজন বন্দর ব্যবহারকারী চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত এলাকার ভিতর দীর্ঘসময় অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের ভিতর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে গিয়ে বিষয়টি চিহ্নিত হয় এরপরই চিঠি দিয়ে বিষয়টি সরকারী, বেসরকারী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে অবহিত করা হয়। চিঠিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, এই ধরনের বন্দর ব্যবহারকারীরা বন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরুপ।

চট্টগ্রাম বন্দর নিরাপত্তা পরিচালক লে কর্ণেল মোস্তফা আরিফ উর রহমান খান গত ১৭ জানুয়ারি এক আদেশে বিষয়টি উল্লেখ করে লিখেছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত এলাকার ভিতর সরকারী, বেসরকারী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মীর নির্ধারিত কর্মঘন্টা পর ভেতরে অবস্থান অবৈধ। কিন্তু ইদানিং আমরা লক্ষ করছি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা নিজ প্রতিষ্ঠানের অগোচরে বন্দরের ভিতর নির্ধারিত ৮-১২ ঘন্টার বাইরে অতিরিক্ত সময় অবস্থান করছে। এমনকি ২০-২৩ ঘন্টা থাকছে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। যা বন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরুপ।
তিনি লিখেন, আমরা সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছি যাতে নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা কাজছাড়া অতিরিক্ত বন্দরের ভিতর অবস্থান না করেন। প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি ছাড়া অবস্থান করার প্রমান মিললে তাদের সাময়িক পাশ বন্ধসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত এলাকার ভিতর দিন ১৫ থেকে ২০ হাজার ব্যক্তি প্রবেশ করেন। বন্দর ভিতর পণ্য উঠানামা, স্থানান্তর, পণ্য ডেলিভারি, বাইরে থেকে পণ্য আনা, কাস্টমসের পরীক্ষা, বার্থ অপারেটর, শিপিং এজেন্ট, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ঠিকাদার, কাস্টমসসহ সরকারী বিভিন্ন সংস্থা এবং সংশ্লিষ্টরা বন্দরের ভিতর প্রবেশ করেন। এদের মধ্যে একশ্রেনীর কর্মী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে মিলে অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন। তাদের যোগসাজশে বন্দরের ভিতর থেকে কৌশলে পণ্য পাচারের ঘটনা ঘটছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের ভিতর প্রবেশে এখন আধুনিক ‘এক্সেস কন্ট্রোল গেইট’ বসানোর পর থেকে প্রবেশের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা এসেছে। যদিও এখন পর্যন্ত পুরোপুরি সুফল মিলেনি।  এরপর থেকেই মুলত বন্দর কর্তৃপক্ষ তদারকি শুরু করে। পর্যবেক্ষনে দেখা গেছে, বন্দরের ভিতর একজন কর্মী প্রবেশ করে সাধারনত ৮-১২ ঘন্টার বেশি থাকেন না। কিন্তু এমন অনেক কর্মী আছেন যারা কোন কাজ ছাড়াই ২০-২৩ ঘন্টা অর্থ্যাৎ পুরো একদিন বন্দরের সংরক্ষিত এলাকার ভিতর অবস্থান করছেন।

নিরাপত্তা বিভাগের এক কর্মকর্তা বলছেন, কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্মীর কাজের ধরন মাত্র কয়েক ঘন্টার কিন্তু তারা দীর্ঘ সময় বন্দরের ভিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রয়োজন ছাড়াই ঘুরছেন। নিরাপত্তার স্বার্থেই আমরা তাদের সতর্ক করেছি। এরপর নাম উল্লেখ করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিবো। কাজ না হলে আমরাই পরবর্তী পদক্ষেপ নিবো। আমরা বলছি প্রয়োজন থাকলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আপনি অবস্থান করবেন। কিন্তু অপ্রয়োজনে ঘুরবেন সেটা হতে দিব না। এটা নিশ্চিত করা গেলে অনিয়ম অনেক বন্ধ হয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here