চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য উঠানামার কাজে ১৪ বছর ধরে ঘুরেফিরে একই প্রতিষ্ঠান

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

5 December, 2021 21 Views

21

১৪ বছর ধরে ঘুরেঘিরেই একই প্রতিষ্ঠানই বন্দরের পণ্য উঠানামার কাজ করছে। সাধারন কার্গাো বার্থে ৬টি, কন্টেইনার বার্থে ৬টি এবং টার্মিনালে একজন অপারেটর ২০০৭ সাল থেকেই কাজ পেয়ে আসছে। প্রতিবার চট্টগ্রাম বন্দর দরপত্র ডাকে ঠিকই কিন্তু বর্তমানে কর্মরতরাই নির্বাচিত হয়ে কাজ পাচ্ছেন। এরফলে নতুন কারো এই কাজে আসার সুযোগ বঞ্চিত হচ্ছে। এতে বন্দরের কাজে প্রতিযোগিতা যেমন নেই; তেমনি কাজের ক্ষেত্রে দক্ষতা-নতুনত্ব থাকছে না।

তবে এই প্রথম অনিয়মের কারণে ৬টি কন্টেইনার নিয়োগের দরপত্র বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। ৬টি কন্টেইনার বার্থের অপারেটররা দরপত্রে নতুন শর্ত যোগ করা থেকে শুরু করে বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঠিকঠাকভাবেই ম্যানেজ করে ফেলেছিল। অবশ্য একজন অপারেটররের জমা দেয়া ডকুমেন্টে ঘাটতি থাকায় সেটি বাতিল করে দেয়। আর বন্দর থেকে চুড়ান্তভাবে ৫ প্রতিষ্ঠানের নাম পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। মন্ত্রনালয় থেকে তাদের নিয়ােগ পাওয়া ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু শেষদিকে এসে পুরো দরপত্র প্রক্রিয়াই বাতিল করে দেয় নৌ মন্ত্রনালয়।

এতে হতভম্ব হয়ে পড়ে বার্থ অপারেটররা। জানতে চাইলে বার্থ অপারেটর ইউনাইটেড ট্রেডিংয়ের মালিক এম এ বকর বলছেন, আমি আপনার মতো দরপত্র বাতিলের খবর শুনেছি। কী কারণে আমি জানি না।

অনিয়মের কারণে দরপত্র বাতিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ফজলে ইকরাম চৌধুরী ভালো বলতে পারবেন। আমি তো সাধারন কার্গো জেটিতে কাজ করি। এক বছর আগে আমরা কাজ পেয়েছি নতুন করে। ফলে আমাদের কোন সমস্যা নেই। এটা কন্টেইনার বার্থ অপারেটরদের সমস্যা।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ প্রতিবছর বেড়েই চলেছে। বন্দরের ৬, ৯, ১০, ১১, ১২ এবং ১৩ নম্বর বার্থে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং অপারেটর নিয়োগে টেন্ডার শিডিউলে এমন সব শর্তজুড়ে দেওয়া হয়, যেন বিদ্যমান যারা আছে তারা ছাড়া যেন অন্য কেউ দরপত্রে অংশ নিতে না পারে। এবার দরপত্রে তাদেরকে কাজ পাইয়ে দিতে শেষদিকে এসে যোগ্যতার শর্তও শিথিল করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থের (জিসিবি) ছয়টি টার্মিনালে কন্টেনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ছয়টি বার্থ অপারেটর নিয়োগের জন্য টেন্ডার আহবান করা হয় ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর। গত ৮ ফেব্রুয়ারি টেন্ডার জমা দেয়ার শেষ দিন এবং টেন্ডার বাক্স খোলার দিন নির্ধারিত ছিল। ‘সিঙ্গেল স্টেজ টু এ্যানভেলপ’ পদ্ধতিতে আহূত উক্ত টেন্ডারে ছয় লটে ১৪টি দরপত্র জমা দেয়া হয়। বর্তমানে উক্ত ছয়টি টার্মিনালে যেই ছয়টি বার্থ অপারেটর প্রতিষ্ঠান এবং একটিমাত্র টার্মিনাল অপারেটর দুটি করে লটে টেন্ডার জমা দিয়েছিল। এতে ১ও ৫ নম্বর লট ছাড়া অপর ৪টি লটে বর্তমান অপারেটররাই দুটি করে দরপত্র জমা করেছিলেন। টেন্ডারে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল-৬ নম্বর বার্থে এফ কিউ খান এন্ড ব্রাদার্স, ফজলী এন্ড সন্স ও সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। ৯ নম্বর বার্থে এফ কিউ খান এন্ড ব্রাদার্স ও ফজলী সন্স। ১০ নম্বর বার্থে বশির আহমেদ এন্ড কোম্পানি এবং মেসার্স এ এন্ড জে ট্রেডার্স। ১১ নম্বর বার্থে বশির আহমেদ এন্ড কোম্পানি ও মেসার্স এ অ্যান্ড জে ট্রেডার্স। ১২ নম্বর বার্থে এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস, এমএইচ চৌধুরী ও সাইফ পাওয়ারটেক। ১৩ নম্বর বার্থে এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস ও এম এইচ চৌধুরী টেন্ডার দাখিল করে।

এরমধ্যে এভারেস্ট এন্টারপ্রাইজের দরপত্র ছাড়া বাকি ৫টি প্রতিষ্ঠানকে চুড়ান্ত করে ৫ বছরের জন্য অপারেটর হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শেষ দিকে এসে মন্ত্রনালয় পুরো প্রক্রিয়াটাই বাতিল করে দেয়া হলো।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলচেন, নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের মনোপলি ব্যবসার কারণে বন্দরের পণ্য উঠানামার ব্যয় প্রতিযোগিতামূরক হচ্ছে না। অথচ উন্মুক্ত টেন্ডারে সবার অংশগ্রহণের পথ বন্ধ করে না দিলে প্রতিযোগিতামূলকভাবে অনেক কম দর পাওয়া যেত, যাতে বন্দরের শত-কোটি টাকা সাশ্রয়ও হতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *