চট্টগ্রাম বন্দরের চার উদ্যোগের সুফল; ডিপোতে রপ্তানি পণ্যের কন্টেইনারজট নেই

বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের ১৯টি বেসরকারী কন্টেইনার ডিপােতে রপ্তানি পণ্যভর্তি কন্টেইনারের সংখ্যা একেবারে স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। এসব ডিপোতে মোট ৬ হাজার একক রপ্তানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার থাকলে সেটিকে স্বাভাবিক ধরা হয়।গত ৫ আগস্ট সব ডিপোতে রপ্তানি কন্টেইনার ছিল সাড়ে ৫ হাজার একক; অর্থ্যাৎ পুরোপুরি স্বাভাবিক। তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে ডিপোতে আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার বেড়েছে।
বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, মুলত চট্টগ্রাম বন্দরের দ্রুত চারটি উদ্যোগের ফলে এই সুফল মিলেছে। একটি হচ্ছে, চট্টগ্রাম-কলম্বোগামি কন্টেইনার জাহাজকে জেটিতে ভিড়তে অগ্রাধিকার দেয়া। দ্বিতীয়ত চট্টগ্রাম-কলম্বো রুটে আটটি নতুন কন্টেইনার জাহাজ চলাচলের অনুমতি। তৃতীয়ত, বন্দর জেটিতে একসাথে ১১-১২টি কন্টেইনার জাহাজ ভিড়তে দেয়া আর সর্বশেষ হচ্ছে আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার ডেলিভারি বন্দরের বদলে বেসরকারী অফডক থেকে সরবরাহ দেয়ার নিয়ম চালু।
বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি খায়রুল আলম সুজন বলছেন, এটা নিঃসন্দেহে বলতেে হবে চট্টগ্রাম বন্দরের দ্রুত-কার্যকরী উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলেই বড় ধরনের কন্টেইনার জট এড়ানো গেছে। আমরা চাই আরো কিছুদিন বন্দরের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকুক। কারণ ইতোমধ্যে শিল্প কারখানা খুলেছে; এতে করে রপ্তানি পণ্য অফডকে আসার পরিমান অনেক বেড়ে যাবে।
খায়রুল আলম সুজন বলছেন, এখনই সিদ্ধান্ত বন্ধ করা হলে জট আবারো বেড়ে যাবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত বন্দরের।
বেসরকারী কন্টেইনার ডিপোর হিসাবে, ১৯টি বেসরকারী কন্টেইনার ডিপোতে ৬ হাজার এককক কন্টেইনার থাকলেই সেটিকে স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়। ৫ আগস্ট সেখানে রপ্তানি পণ্যের কন্টেইনার ছিল ৫ হাজার ৫৭৩ একক। অথচ ১ আগস্ট ছিল ৯ হাজার ৮শ একক; ৩১ জুলাই ছিল ১১ হাজার একক। ২৫ জুলাই থেকে যখন লকডাউন শুরু হয় তখণ রপ্তানি পণ্যের কন্টেইনার ছিল প্রায় ১৩ হাজার একক অর্থ্যাৎ ৫ আগস্টের তুলনায় প্রায় দ্বিগুনের বেশি।
বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলছেন,  বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম. শাহজাহান মহোদয়ের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া এবং কার্যকরী উদ্যোগের ফলেই বন্দরেরর ভিতর কন্টেইনারজট এড়ানো গেছে। সিদ্ধান্ত নিতে ২/৩ দিন দেরি হলেই আমরা বিপদে পড়তাম কোন সন্দেহ নেই।আর একবার বিপদে পড়লেই কন্টেইনার জট স্বাভাবিক করা কঠিন হয়ে পড়তো। এক্ষেত্রে নৌ মন্ত্রনালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং শিপিং লাইন-বন্দর ব্যবহারকারীরা আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *