চট্টগ্রাম-চীন রুটের সব সার্ভিসই আমদানি নির্ভর

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

30 June, 2022

Views

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে চীনের বন্দরগুলোতে সরাসরি কন্টেইনার জাহাজ সার্ভিস আছে তিনটি শিপিং লাইনের। ২৫ এপ্রিল থেকে যুক্ত হচ্ছে নতুন আরেকটি জাহাজ সার্ভিস। সবগুলো জাহাজ সার্ভিসই আমদানি নির্ভর। অর্থ্যাৎ চীন থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে জাহাজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। ফিরতি পথে চীনে নেয়ার মতো রপ্তানি পণ্য পাওয়া যায় না। এরফলে আমদানি নির্ভরতা মাথায় রেখেই জাহাজগুলো পণ্য পরিবহন করে চলেছে।

২০১১ সালে চীন-চট্টগ্রাম সার্ভিস চালু করেছিল বিদেশি শিপিং কম্পানি প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল লাইন (পিআইএল)। বেশ কিছুদিন চলার পর সেটি বন্ধ হয়ে যায়। সেই সার্ভিস পরিচালনার সময় যুক্ত ছিলেন তখনকার মহাব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ জহীর। তিনি বলেন, শুরু থেকেই এই সার্ভিসটি ছিল আমদানি নির্ভর।
চীন থেকে চট্টগ্রাম আসার পথে বিপুল আমদানি পণ্য ভর্তি করেই জাহাজ আসছে। কিন্তু ফিরতি পথে কোন রপ্তানি পণ্য না নিয়েই চীন যাচ্ছে। বিষয়িট মাথায় রেখে্ই আমরা সার্ভিস শুরু করেছিলাম। কিন্তু সেসময় খরচ এবং আয়ে সামঞ্জস্য রাখতে না পারা এবং আমদানি নির্ভরতার কারণেই একপর্যায়ে সার্ভিসটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে নতুন যারা এই রুটে সার্ভিসটি চালু করেছে তারা সেগুলো উত্তরণ ঘটিয়েই এখন পর্যন্ত পণ্য পরিবহন করছে বেশ ভালোভাবেই। তিনি বলেন, এমএসসি এই রটে পণ্য পরিবহন শুরু করায় আমদানিকারকদের সার্ভিস বেছে নেয়ার সুযোগ তৈরী হবে। অবশ্যই প্রতিযোগিতামূলক ভাড়ায় পণ্য পরিবহন করতে পারবেন। আর এমএসসি এমন সময়ে সার্ভিসটি চালু করেছে যখন করোনার কারণে এখন জাহাজ ভাড়া এখন অনেক বেশি। আমাদের সময়ে ভাড়া ছিল খুবই কম।

বর্তমানে চট্টগ্রাম-চীন রুটে সবচে কম সময়ে পণ্য পরিবহন করছে ড্যানিশ কম্পানি এমসিসি এবং হুন্দাই-সিনোকর সার্ভিস। তাদের প্রত্যেকে চীন থেকে চট্টগ্রাম আসতে সময় লাগছে মাত্র ১১-১২দিন। এমসিসি সার্ভিসও সরাসরি চীনের সাংহাই নিমবো থেকে সরাসরি চট্টগ্রামে পণ্য পরিবহন করছে ।
হুন্দাই-সিনোকর সপ্তাহে ৫টি জাহাজ দিয়ে কোরিয়ান-চীন-বাংলাদেশ (কেসিবি) বেশ ভালোভাবেই পণ্য পরিবহন করছে। চীনের নিমবো-সাংহাই-চট্টগ্রাম রুটে মাত্র ১০/১১দিনে তারা চট্টগ্রাম পৌঁছে দিচ্ছে। তাদের পরিবহন ভাড়া বেশি হলেও সার্ভিসটি খুবই দ্রুত। আর এসআইটিসি-সিএমএ যে সার্ভিসটি চালাচ্ছে সেটি আরাে একটু বেশি সময় লাগে। কম্পানিটি সপ্তাহে ৫টি সার্ভিস দিয়ে পণ্য পরিবহন করছে।

তিনটি সার্ভিসই আমদানি নির্ভর স্বীকার করে হুন্দাই-সিনোকর সার্ভিসের এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি জেনেই আমরা রুট প্ল্যানে পরিবর্তন এনেছি। চীন থেকে চট্টগ্রাম সরাসরি আসলে চট্টগ্রাম থেকে চীন যেতে অনেকগুলো ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে আমরা থামি। এবং ফিরতি পথে কন্টেইনার নিয়েই চীন যাই। এতে ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছি। এই কারণে এখন সার্ভিসগুলো সবাই বেশ ভালো করছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের আমদানি পণ্যের বড় একটি অংশই আসে চীন থেকে। ২০২০-২১ অর্থবছর দেশটি থেকে ১২ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়েছে। রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের কাঁচামাল, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও বাণিজ্যিক পণ্যসবই আসে চীন থেকে। এসব পণ্যের বড় অংশই আমদানি হয় কনটেইনারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.