চট্টগ্রাম-কৃঞ্চপাত্তনাম রুটে বুকিং বন্ধ করলো ‘হ্যাপাগ-লয়েড’

বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম-কৃঞ্চপাত্তনাম সমুদ্ররুটে কন্টেইনার বুকিং সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে জার্মানভিত্তিক শিপিং কম্পানি ‌’হ্যাপাগ-লয়েড’। বন্ধের কারণ হিসেবে কম্পানিটি গ্রাহকদের বলেছে অপারেশনাল সীমাবদ্ধতার কথা।
কী কারণে পণ্য পরিবহন বন্ধ করা হয়েছে জানতে ‘হ্যাপাগ-লয়েড’ বাংলাদেশের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) আবুল কালাম আজাদকে হোয়াটসঅ্যাপ সরাসরি কল করার পরও সাড়া না দেয়ার তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে পণ্য পরিবহন বুকিং দেয়ার বিষয়টি গ্রাহকদের জানিয়ে দেয়ার একটি চিঠি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। সেই চিঠিতে সুনির্দিষ্ট কারণের কথা উল্লেখ নেই। তবে ‘অপারেশনাল কনস্ট্রেইটনস’ কারণ উল্লেখ করে সাময়িক সময়ের জন্য চট্টগ্রাম-কৃঞ্চপাত্তনাম; কৃঞ্চপাত্তনাম-চট্টগ্রাম রুটে পণ্য বুকিং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এই রুটে পণ্য পরিবহন করতে আমাদেরকে অন্য আরেকটি ট্রান্সশিপমেন্ট রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে। আমরা পরিস্থিতি ওপর নজর রাখছি; উন্নতি হলে গ্রাহকদের জানানো হবে।
এর আগে গত ১ জুলাই থেকে সিঙ্গাপুর-চট্টগ্রাম; চট্টগ্রাম-সিঙ্গাপুর রুটে পণ্য পরিবহন এক মাসের জন্য বন্ধ করেছিল ‘হ্যাপাগ-লয়েড’। মুলত সিঙ্গাপুর বন্দরে ব্যাপক জাহাজজটের কারণে বাংলাদেশমুখি এবং বাংলাদেশ থেকে আসা পণ্য পরিবহনে সাময়িক এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
শিপিং লাইনগুলোর সাথে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ভারতের কৃঞ্চপাত্তনাম রুটে নিয়মিত আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন করতো ‌’হ্যাপাগ-লয়েড’। ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর হিসেবে জনপ্রিয় সিঙ্গাপুর ও কলম্বো বন্দরে ব্যাপক জাহাজজটের কারণে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা পণ্য রপ্তানিতে যখন বাড়তি সময়ক্ষেপন করছিল তখন চট্টগ্রাম-কৃঞ্চপাত্তনাম রুটে পণ্য রপ্তানিতে ভালোই সাড়া পেয়েছিল এই শিপিং কম্পানিটি। কারণ কৃঞ্চপাত্তনাম থেকেই ‘হ্যাপাগ-লয়েড’ কম্পানির ইউরোপ-আমেরিকা রুটে বড় জাহাজ বা মাদার ভ্যাসেল ছিল।
চট্টগ্রাম থেকে কৃঞ্চপাত্তনাম বন্দরে গিয়ে সেই বন্দর থেকে ইউরোপ-আমেরিকায় যাচ্ছিল বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্য। এই রুটে পণ্য পরিবহনের জন্য জাহাজ কম্পানিটি বাংলাদেশি শিপিং লাইন কর্ণফুলী গ্রুপের দুটি জাহাজের স্লট নিয়েছিল। কিন্তু গত আগস্ট মাসে কৃঞ্চপাত্তনাম থেকে আমদানি পণ্য জাহাজে বোঝাই করার পর জানা যায় জাহাজ দুটির অনুমোদন মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। অথচ সেই বন্দরে বাংলাদেশি ৩ হাজার একক আমদানি পণ্য বুকিং করা ছিল। এরমধ্যে দুই হাজার একক আমদানি পণ্য বোঝাই করেছিল ‘এসএসএল কচি’ জাহাজে। সেই জাহাজে বোঝাইয়ের পর বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিপাকে পড়ে ‘হ্যাপাগ-লয়েড’। এতে ক্ষুদ্ধ হন আমদানি পণ্যের মালিকরা।
‘হ্যাপাগ-লয়েড’ পরে বিভিন্নস্থানে তদবির করে আটকে পড়া কন্টেইনারগুলো সীকনের এক্সপ্রেস নিলওয়ালা’ জাহাজে আনার চেষ্টা চালায়। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ সেটির অনুমোদন না দেয়ায় সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
জানতে চাইলে বিদেশি শিপিং লাইন সী কন শিপিংয়ের চট্টগ্রাম ইনচার্জ মাইকেল রুদ্রিগেজ বলেন, আপনি ঠিকই শুনেছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে এডহক ভিত্তিতে সেই জাহাজ চালানোর অনুমোদন দেয়নি। ফলে আমাদের দ্বারা সেই আটকে পড়া পণ্য চট্টগ্রাম আনা সম্ভব হচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *