চট্টগ্রাম কাস্টমসে শতভাগ ই পেমেন্ট ১ জানুয়ারি থেকে

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

1 February, 2023

Views

শুল্ক পরিশোধে শতভাগ অনলাইন পদ্ধতি বা ইলেকট্রনিক পেমেন্ট চালু করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। গত ১ জুলাই থেকে ২ লাখ টাকার ওপরে রাজস্ব পরিশোধে অনলাইন পদ্ধতি বা ই পেমেন্ট চালু করেছিল। এতে বেশ সাড়া পেয়েছে রাজস্ব আয়ে এককভাবে শীর্ষৈ থাকা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। এরই ধারাবাহিকতায় শতভাগ ই পেমেন্ট পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
শতভাগ অনলাইন পদ্ধতি চালু হলে রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হবে, সময় সাশ্রয় হবে এবং রাজস্ব ফাঁকি রোধ হবে বলছেন কাস্টমস ব্যবহারকারীরা। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহমেদ বলেন, জুলাই থেকে ই পেমেন্ট পদ্ধতি চালুর পর রাজস্ব পরিশোধে আমদানিকারক এবং ব্যবহারকারীরা নতুন পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হয়েছেন। কিছু ত্রুটি ছিল সেগুলো দুর করা হয়েছে।ফলে ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শতভাগ ই-পেমেন্টে সিস্টেম কার্যকরের নতুন কোন জটিলতা নেই। ব্যবহারকারীরাই আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ই-পেমেন্ট সিস্টেমে আমদানিকারক দেশের যে কোন ব্যাংক থেকে শুল্ক পরিশোধ করতে পারবেন। তফসিলী ব্যাংকের যে শাখা থেকে শুল্ক পরিশোধ করা হবে সেই ব্যাংকের সাথে সোনালী ব্যাংক চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ শাখার মধ্যে গেইটওয়ে হিসেবে কাজ করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরটিজিএস সিস্টেম। ই পেমেন্টের একমাত্র গেইটওয়ে সোনালী ব্যাংক। এসাইকুডা সফটওয়্যারের মাধ্যমে ( শুল্ক সংক্রান্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সফটওয়্যার) আমদানিকারকের ইউজার আইডি ব্যবহার করে এই প্রক্রিয়ায় শুল্ক পরিশোধ করতে সময় লাগবে দুই মিনিট।  ই-পেমেন্ট করতে ছয় ধরনের তথ্য প্রয়োজন হয়। বিল অব এন্ট্রি নম্বর, অর্থবছর, কাস্টম হাউজের অফিস কোড, পরিশোধকৃত শুল্কের পরিমাণ, এআইএন নম্বর এবং ফোন নম্বর। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শুল্ক পরিশোধ করা হলে আমদানিকারকের ফোন নম্বরে শুল্ক পরিশোধ সংক্রান্ত কনফার্মেশন এসএমএস পৌছে যাবে। আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসাইকুডা সফটওয়্যার নেটওয়ার্কে শুল্ক পরিশোধ সংক্রান্ত তথ্য আপডেট হবে

তবে আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, কাস্টমসের সফটওয়্যারে ই-পেমেন্ট সিস্টেম মাঝে মাঝে কারিগরি ত্রুটির কারণে ধীরগতির হয়ে যায়। তখন শুল্ককর পরিশোধ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। তাই শতভাগ ই-পেমেন্ট সিস্টেম কার্যকরের পাশাপাশি সফটওয়্যারও যাতে শতভাগ গতিশীল থাকে সেই বিষয়টি শুল্ক বিভাগকে নিশ্চিত করতে হবে।

কাস্টমস বলছে, নতুন এই সিস্টেমে আমদানিকারকরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে ইউজার আইডি দিয়ে আরটিজিএস গেটওয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই শুল্ক পরিশোধ করতে পারছেন। এর আগে ব্যাংকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন ধরে শুল্ককর পরিশোধ করতে হতো।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ই-পেমেন্ট চালু রাজস্ব পরিশোধে একটি বড় অগগ্রতি। আমরা মনে করি এর মধ্য দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কাজে ভোগান্তি অনেক কমে আসবে, স্বচ্ছতা নিশি্চত হবে। কস্ট অফ ডুয়িং বিজনেস কমে আসবে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে প্রতিদিন গড়ে ৭ হাজার বিল অব এন্ট্রি এবং বিল অব দাখিল হয় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে। এর মধ্যে ২ হাজার আমদানি পণ্যের এবং ৫ হাজার রপ্তানি পণ্যের। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয় এই শুল্ক স্টেশনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.