চট্টগ্রাম কাস্টমসে ই পেমেন্টে কড়াকড়ি ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে

বিশেষ প্রতিনিধি
ব্যাংকে পে অর্ডার বা চালানের মাধ্যমে শুল্ক পরিশোধের দিন শেষ হয়েছে গত জুলাই মাসেই। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে সব শুল্ক স্টেশনে ম্যানুয়ালের বদলে অনলাইনে বা ইলেকট্রিনক পেমেন্ট পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করে। এরপর থেকেই সব শুল্ক স্টেশনে ই পেমেন্ট রাজস্ব পরিশোধ হয়ে আসছে কিন্তু এখনো পুরোপুরি অনলাইন নির্ভর হয়নি সব শুল্ক স্টেশন।
অবশ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে একটু শিথিল করেছে বিধিবিধান। এজন্য আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত ২ লাখ টাকা পর্যন্ত শুল্ক পরিশোধে ই পেমেন্ট বা পে অর্ডারে টাকা জমার সুযোগ রাখা হয়েছে। আর ২ লাখ টাকার ওপরে সব রাজস্ব ১৫ সেপ্টেম্বর থেকেই ই পেমেন্টে পরিশোধের কড়া নির্দেশনা আরোপ করেছে।
এই নির্দেশনা পাওয়ার পর চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস নড়েচড়ে বসেছে। গত বুধবার শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে ২ লাখ টাকার পর সব রাজস্ব ই পেমেন্টে জমার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এসব তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠিত হয়েছে।
রাজস্ব বোর্ডের তথ্যমতে, পানগাঁও কাস্টমস ই-পেমেন্ট বাস্তবায়নে সবচেয়ে এগিয়ে আছে। এ কাস্টম হাউজ প্রায় শতভাগ শুল্ক-কর এ পদ্ধতিতে আদায় করেছে। ৩৫২টি চালানের মধ্যে ৩৫১টিরই শুল্ক এভাবে আদায় করা হয়েছে, যা ৯৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। এর পরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে কমলাপুর আইসিডি (৯৭ দশমিক ৩২ শতাংশ), মোংলা কাস্টমস (৯৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ), ঢাকা কাস্টম হাউজ (৮২ দশমিক ৬৫ শতাংশ), বেনাপোল কাস্টমস (৭৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ)। চট্টগ্রাম কাস্টমসে ১৩ হাজার ৩৩৪টি চালানের (বিল অব এন্ট্রি) মধ্যে ২ হাজার ৬৮৩টির শুল্ক এ পদ্ধতিতে আদায় করা হয়েছে, যা মোট চালানের ২০ দশমিক ১২ শতাংশ।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার ফখরুল আলম বলেন, অন্য হাউজের তুলনায় চট্টগ্রামে কাজের পরিধি অনেক বেশি, ভিন্নতাও রয়েছে। করোনার কারণে কিছুটা শিথিলতা ছিল। এনবিআরের চিঠি পাওয়ার পর সব অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক করে ই-পেমেন্টে শুল্ক-কর পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। এজন্য গণবিজ্ঞপ্তিও জারি হয়েছে। ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে এ পদ্ধতিতে শুল্ক-কর পরিশোধের হার বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।
উল্লেখ্য, ই-পেমেন্ট সিস্টেমে আমদানিকারক দেশের যে কোন ব্যাংক থেকে শুল্ক পরিশোধ করতে পারবেন। তফসিলী ব্যাংকের যে শাখা থেকে শুল্ক পরিশোধ করা হবে সেই ব্যাংকের সাথে সোনালী ব্যাংক চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ শাখার মধ্যে গেইটওয়ে হিসেবে কাজ করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের আরটিজিএস সিস্টেম। ই পেমেন্টের একমাত্র গেইটওয়ে সোনালী ব্যাংক। এসাইকুডা সফটওয়্যারের মাধ্যমে ( শুল্ক সংক্রান্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সফটওয়্যার) আমদানিকারকের ইউজার আইডি ব্যবহার করে এই প্রক্রিয়ায় শুল্ক পরিশোধ করতে সময় লাগবে দুই মিনিট।  ই-পেমেন্ট করতে ছয় ধরনের তথ্য প্রয়োজন হয়। বিল অব এন্ট্রি নম্বর, অর্থবছর, কাস্টম হাউজের অফিস কোড, পরিশোধকৃত শুল্কের পরিমাণ, এআইএন নম্বর এবং ফোন নম্বর। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শুল্ক পরিশোধ করা হলে আমদানিকারকের ফোন নম্বরে শুল্ক পরিশোধ সংক্রান্ত কনফার্মেশন এসএমএস পৌছে যাবে। আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসাইকুডা সফটওয়্যার নেটওয়ার্কে শুল্ক পরিশোধ সংক্রান্ত তথ্য আপডেট হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *