চট্টগ্রাম-কলম্বো রুটে জাহাজ বাড়িয়ে দ্রুত রপ্তানি পণ্য পাঠানোর উদ্যোগ চট্টগ্রাম বন্দরের

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

25 October, 2021 0 Views

0

বিশেষ প্রতিনিধি
রপ্তানি পণ্য দ্রুত জাহাজীকরণ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম-কলম্বো রুটে বাড়তি কন্টেইনার জাহাজ পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে নতুন করে কন্টেইনার জাহাজ পরিচালনার আবেদন করলে  সাথে সাথেই অনুমোদন দিবে বন্দর।
আজ সোমবার চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে বিদেশি শিপিং লাইনগুলোর প্রতিনিধির সাথে বৈঠকে এমন ঘোষনা দিয়েছেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম. শাহজাহান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দর ও বেসরকারী কন্টেইনার ডিপোতে থাকা রপ্তানি কন্টেইনারের তথ্য যাচাই করে দেখেছি বেশিরভাগ কন্টেইনারই কলম্বো বন্দর হয়েই ইউরোপ-আমেরিকায় যাবে। তাই কলম্বো বন্দর হয়ে এসব কন্টেইনার পাঠাতে আমরা বিভিন্নমুখি উদ্যোগ নিয়েছি।
তিনি বলছেন, আজ থেকে কলম্বো রুটে বাড়তি জাহাজ পরিচালনা বা জাহাজ রিপ্লেসমেন্টের আবেদন করলে সাথেসাথেই আমরা অনুমোদন দিবো। একইসাথে মায়ের্কসলাইনের সহযােগী এমসিসি’কে বলেছি পণ্য পরিবহনে যুক্ত থাকা তাদের ১২টি জাহাজের মধ্যে অন্তত তিনটি জাহাজ চট্টগ্রাম-কলম্বো হযে পরিচালনার। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। এরফলে মায়ের্কস লাইনের পণ্য তো দ্রুত যাবেই; সাথে অন্য লাইনের রপ্তানি কন্টেইনার দ্রুত জাহাজীকরণ নিশ্চিত হবে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কলম্বো রুটে এই মুহুর্তে অন্তত ৬টি লাইনের ১৩টি কন্টেইনার ফিডার জাহাজ পণ্য পরিবহন করছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ চাইছে আরো বাড়তি জাহাজ পরিচালনা করে রপ্তানি পণ্য দ্রুত জাহাজীকরণ নিশ্চিত করতে।
জানতে চাইলে এই রুটে জাহাজ পরিচালনাকারী জিবিএক্স লজিক্টিকসের অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনতাসির রুবাইয়াত বলছেন, বন্দরের আহবানে সাড়া দিয়ে অনেকেই এই রুটে জাহাজ পরিচালনার অনুমতি নিবেন। এটা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। এতে করে দ্রুত রপ্তানি কন্টেইনার পাঠানো যাবে। একইসাথে বন্দর জেটিতে কন্টেইনার জাহাজের কোটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছেন বন্দর চেয়ারম্যান।
বন্দর ভবনে উপস্থিত আজ সোমবারে বৈঠকে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার এসােসিয়েশনের সহ-সভাপতি খায়রুল আলম সুজন বলেন, এমসিসি লাইন আমদানি কন্টেইনার নিয়ে আসে চীনের সাংহাই বন্দর থেকে। ফিরতি পথে চট্টগ্রাম থেকে পুরো জাহাজে রপ্তানি কন্টেইনার বোঝাই করে যদি সাংহাই নিয়ে, সেখান থেকে ইউরোপ-আমেরিকামুখি জাহাজে তোলা যায় তাহলে দ্রুত রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণ করা যায়।
এ বিষযে জানতে চাইলে মায়ের্কস লাইনের এক কর্মকর্তা বলছেন, বন্দর-শিপিং লাইন থেকে পাওয়া একাধিক প্রস্তাব আমরা কেন্দ্রীয় অফিসে পাঠাচ্ছি। সেখান তেকে সিদ্ধান্ত আসলে বাস্তবায়ন করা হবে।
উল্লখ্য, কভিড মহামারির কারণে বিশ্বব্যাপী গত এক বছরে বিভিন্ন দেশে লকডাউনের ফলে শ্রমিক সংকট, আমদানী-রপ্তানী বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা, বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে জাহাজজটের কারণে বিশ্বের সকল প্রান্তেই পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। জটের কারণে সিঙ্গাপুর কলম্বো বন্দর জেটিতে জাহাজ ভিড়তে ৮ থেকে ১০ দিন সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশ, ভারত, কম্বোডিয়ার মতো ছোট বন্দর হতে সেসব ট্রান্সিশপমেন্ট বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানি কন্টেইনার বড় জাহাজে তুলতে বিলম্ব হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর হতে কন্টেইনার সেসব বন্দরে পৌঁছানোর পর বড় জাহাজে তুলতে প্রায় ২ সপ্তাহ সময় লাগছে। অর্থ্যাৎ ২৪ দিন বাড়তি সময় লাগছে শুধু বড় জাহাজে পণ্য তুলতে। একে চরম বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *