চট্টগ্রাম-ইতালি সরাসরি কন্টেইনার জাহাজ সার্ভিস

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

19 May, 2022

Views

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ইতালির সমু্দ্রবন্দরে সরাসরি কন্টেইনার জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে।’ক্যাপ ফ্লোরেস’ নামের একটি ছোট আকারের কন্টেইনার জাহাজ গতকাল বৃহষ্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়েছে। আগামীকাল শনিবার সেটি রপ্তানি কন্টেইনার নিয়ে ইতালির সিভিটাভিসিয়া বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে। এরমধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রথমবার সরাসরি ইউরোপে রপ্তানি পণ্য পৌঁছানোর সুযোগ তৈরী হলো।

এতদিন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রপ্তানি পণ্য নিয়ে জাহাজটি প্রথমে ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর-শ্রীলংকার কলম্বো, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং ও তানজুম পেলিপাস বন্দরে যেত। সেখান থেকে বড় জাহাজে করে ইউরোপ-আমেরিকায় পৌঁছতো। এই সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি রপ্তানি পণ্য পাঠানোর সুযোগ তৈরী হলো।এতে সময় সাশ্রয় হবে, খরচ কমবে বলে আশা রপ্তানিকারকদের।

জাহাজটির স্থানীয় প্রতিনিধি রিলায়েন্স শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, সুয়েজ খাল হয়ে ইতালির সিভিটাভিসিয়া বন্দর থেকে ১৬ দিনে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। খালি কনটেইনার নামিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনার নেওয়ার কথা রয়েছে। নতুন এই সেবার মাধ্যমে কম সময়ে রপ্তানি পণ্য ইউরোপে নেওয়া সম্ভব হবে বলে।

১৯৭৭ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার পরিবহন সূচনার পর ইউরোপ থেকে কনটেইনার জাহাজ চলাচলের এটিই প্রথম ঘটনা। পরীক্ষামূলক চলাচল সফল হলে এই নৌপথে নিয়মিত দুটি জাহাজ দিয়ে কনটেইনার পরিবহনের সেবা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাহাজটির স্থানীয় প্রতিনিধি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরাসরি কনটেইনার জাহাজ চলাচল করে মূলত সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কার কলম্বো, মালয়েশিয়ার তানজুম পালাপাস ও কেলাং এবং চীনের কয়েকটি বন্দরের মধ্যে। এসব বন্দর হয়ে রপ্তানি পণ্য ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে যায়। একইভাবে আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার এসব দেশের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হয়। এ ছাড়া ভারতের কয়েকটি বন্দরে অনিয়মিত কনটেইনার পরিবহন সেবা রয়েছে। মূলত চট্টগ্রাম বন্দরে বড় জাহাজ ভিড়ানোর সুযোগ না থাকায় বিশ্বের বড় বড় বন্দরের সঙ্গে কনটেইনার জাহাজ চলাচল করেনি। এখন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় ও সময় বেশি লাগায় ছোট জাহাজে কনটেইনার পরিবহনে সুফল পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানিতে কনটেইনার পরিবহনের ভাড়া ঠিক করেন বিদেশি ক্রেতারা। ফলে এখন বাড়তি ভাড়ার টাকা তাদের পকেট থেকেই যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠান আরআইএফ লাইন এবং এটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ক্যালিপসো কোম্পানিয়া ডি নেভিগেশন নতুন এই সেবা চালু করেছে। মূলত ইতালির ক্রেতাদের সহযোগিতায় ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠানটি এই সেবা চালু করেছে।

এ উদ্যোগে সবচেয়ে বেশি সুফল পাবে পোশাকশিল্প। কারণ, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ৬০ শতাংশ ইউরোপের দেশগুলোতে যায়। এই উদ্যোগের ফলে এখন ইউরোপে আগের চেয়ে অন্তত সাত-আট দিন কমে বিদেশি ক্রেতাদের হাতে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে মনে করেন বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। কারণ, ক্রেতারা দ্রুত পণ্য নিতে চায়। এই উদ্যোগ সফল হলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাবে দেশের পোশাক শিল্প।

Leave a Reply

Your email address will not be published.