চট্টগ্রামসহ তিন সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে পণ্য পরিবহন করবে ভুটান

0
911

বিশেষ প্রতিনিধি
ভূমিবেষ্টিত বলে ভুটানের কোন সমুদ্রবন্দর নেই। পণ্য পরিবহনের জন্য স্থলবন্দর এবং আকাশপথই ভরসা দেশটির। এখন সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের জন্য ভুটানকে বাংলাদেশের তিন সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম, মোংলা এবং পায়রা ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে সরকার। গতকাল ৬ ডিসেম্বর দুই দেশের অগ্রাধিকার বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঘোষণা দেন।এরফলে ভুটান থেকে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বোল্ডার পাথর এবং সতেজ ফলমূলও আসবে। আর ভুটানিরা বাংলাদেশের কাপড় এবং ওষুধ নিতে পারবেন।

ভুটানকে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে দিলে প্রস্ততি কতটুকু জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের এক কর্মকর্তা শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, ভুটানকে বন্দর ব্যবহারের জন্য আলাদা বা বাড়তি প্রস্তুতির কোন দরকার নেই। কারণ তারা যে পরিমান পণ্য ভুটান আনা-নেয়া করবে তা আমরা আজকে থেকেই অনায়াসেই শুরু করতে পারি। তবে কাস্টমসের অফিসিয়ালি প্রস্তুতির দরকার আছে।

পাথর আমদানিকারকরা বলছেন, পদ্মা সেতুসহ দেশের বড় অবকাঠামো নির্মান প্রকল্পের জন‌্য ভুটান থেকে বোল্ডার পাথর আমদানি করায় দেশটি থেকে আমদানি বেড়েছে। ভুটান থেকে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে প্রথম পণ্যবাহি জাহাজ এসেছিল নারায়নগঞ্জে।ভারতের অভ্যন্তরীণ নৌ-কর্তৃপক্ষের এই জাহাজটি ভারতের আসামের ধুবরি থেকে যাত্রা শুরু করে। এরপর ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে নারায়াণগঞ্জ পৌঁছায়। আসামের ধুবড়ি থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরে ভুটানের ফুয়েন্টশোলিং থেকে ট্রাকে করে পাথর আনা হয়েছে।জাহাজটি এক হাজার মেট্রিকটন পাথর পরিবহন করছে, যা স্থলপথে পরিবহন করতে ৫০টিরও বেশি ট্রাক প্রয়োজন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভূটান চাইলে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রাবন্দর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারে। এছাড়া আন্তঃদেশীয় পরিবহন ব্যবস্থার সুবিধার্থে তারা চাইলে, বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে গুদামও তৈরি করতে পারে।ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্টের ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলো দিয়ে মালামাল পরিবহন করতে চায় ভূমি বেষ্টিত দেশ ভূটান। তবে এক্ষেত্রে কিছুটা মাশুল ছাড়ের জন্য তারা দাবি করছে।

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর থেকে আমাদের নদীপথগুলো ব্যবহার করে ভারতের ধুবড়ি বন্দরে মালামাল নিয়ে যেতে চায় ভূটান। ধুবড়ি থেকে ভূটান অনেক কাছে, ফলে তারা বাংলাদেশের নদীপথগুলো তারা ব্যবহার করে সেখানে পণ্য পরিবহন করতে চায়।নৌপথে রৌমারী-চিলমারী হয়ে পণ্য আনা-নেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বাংলাদেশ।

পাশাপাশি রেলপথেও ভূটানকে পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুযোগ করে দিতে বাংলাদেশ প্রাথমিকভাবে রাজি হয়েছে। এজন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রোহনপুর-সিংগাবাদ রেলরুটটি চালু করা হবে।

উল্লেখ্য, ভূটানের সঙ্গে বাংলাদেশের এই চুক্তি হওয়ায় বাংলাদেশের ১০০টি পণ্য ভুটানে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে আর ভূটানের ৩৪টি পণ্য বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আরো বাড়বে।রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-২০১৯ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য হচ্ছে ৫৭.৯০ মিলিয়ন ডলারের। ভূটান থেকে বাংলাদেশে সবজি ও ফলমূল, খনিজ দ্রব্য, নির্মাণ সামগ্রী, বোল্ডার পাথর, চুনাপাথর, কয়লা, পাল্প, রাসায়নিক আমদানি করা হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে ভূটানে তৈরি পোশাক, আসবাব, খাদ্য সামগ্রী, ওষুধ, প্লাস্টিক, বৈদ্যুতিক পণ্য রপ্তানি হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব বলেছেন, বাংলাদেশি পণ্যের অন্যতম গন্তব্যস্থল না হলেও ভূটানকে দিয়েই অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি শুরু করেছে বাংলাদেশ। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দেশের সঙ্গেও এধরণের চুক্তি হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here