গার্মেন্টের কাঁচামাল আমদানিতে জটিলতায় ব্যবসায়ীরা

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

8 August, 2022

Views

গার্মেন্টস শিল্পের জন্য আমদানিকৃত কাঁচামালের ওজন এবং এইচএসকোড নিয়ে জটিলতায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এরফলে নির্ধারিত সময়ে পণ্য উৎপাদন করে রপ্তানি কঠিন হয়ে পড়ছে। পোশাক শিল্প মালিকরা একে কাস্টমসের হয়রানি বললেও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে আইনের মধ্যে থেকেই সব করা হচ্ছে।

বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলছেন, বর্তমানে রপ্তানি আদেশ কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও ক্রেতা কর্তৃক পোশাকের মূল্য দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। অপর দিকে অভ্যন্তরীণ বিবিধ খরচসহ কাস্টমস সংক্রান্ত জটিলতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে নির্ধারিত লিড টাইমের মধ্যে পণ্য চালান রপ্তানি অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের সমন্বয় করে পোশাক শিল্পের আমদানিকৃত চালান শুল্কায়ন পূর্বক একই দিনে ডেলিভারির ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখার স্বার্থে পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট কাস্টমস ও বন্ডের কার্যক্রম সহজীকরণ করে দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করার তাগাদা দেন তিনি।

পোশাকখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবসায়ীরা গজ মেপে পণ্য আমদানি করেন। আর চট্টগ্রাম কাস্টমসে কেজিতে এসব পণ্য পরিমাপ করা হয়। এ কারণে পণ্যের ওজন কমবেশি হয়ে থাকে। ওজনে বাড়তি থাকলে শুরু হয় নানা ধরনের হয়রানি। অনেক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করে বসে। এরপর পণ্য ছাড়করণে নানা ধরনের হয়রানি শিকার হতে হয়। আবার এইচএস কোড নিয়ে হয়রানি তো বলা বাহুল্য। এটি নিয়ে বেশি হয়রানি করা হচ্ছে। আর ডকুমেন্ট করার সময় এদিক ওদিক হয়ে থাকে। সামান্য ত্রুটির কারণে বড় ধরনের জরিমনা দিতে হচ্ছে। এ কারণে মালামাল ৭ থেকে ১০ দিন পড়ে থাকে। আবার তারা না বুঝে অনেক সহজ জিনিসকে কাস্টমসের ল্যাব টেস্টে পাঠিয়ে দিচ্ছে। ল্যাব টেস্টের কথা বলে ১৫ দিন থেকে ১ মাসও মালামাল পড়ে থাকে। এছাড়া বন্ডের অডিট নিয়ে অযথা ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের এক অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, আমদানিকৃত পণ্যের মান নিয়ে সন্দেহ হলে ল্যাব টেস্টে পাঠানো হয়। ল্যাব রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা যদি হয়রানি হয় তাহলে তো বলার কিছু নেই। আর এইচএসকোড নিয়ে জটিলতা তৈরী হয় তখনই; যখন ভুল কোড দিয়ে বিল অব এন্ট্রি জমা হয় তখন। আমরা রপ্তানি পণ্যখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব অগ্রাধিকার দিচ্ছি। সর্বোচ্চ চেষ্টা করি হয়রানি-ঝামেলা কমানোর।

Leave a Reply

Your email address will not be published.