খালি ও আমদানি কন্টেইনারের দখলে বেসরকারী ডিপো

বিশেষ প্রতিনিধি
বেসরকারী কন্টেইনার ডিপোতে আটকে পড়া রপ্তানি পণ্যভর্তি কন্টেইনারের সংখ্যা ক্রমাগত কমলেও আমদানি পণ্যের কন্টেইনার বাড়ছে। সেইসাথে বেড়েই চলেছে খালি কন্টেইনারের সংখ্যা। এখন খালি কন্টেইনার নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে বেসরকারী কন্টেইনার ডিপােগুলােকে।
বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, যত কন্টেইনার অফডকে রেখে দেয়া যায়; ততই আয় বাড়ে মালিকদের। ফলে কৌশল করে পণ্যছাড় দীর্ঘায়িত করা এখন নিয়মে পরিনত হয়েছে তাদের।
বিকডা ‘র এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলছেন, গত ২৫ জুলাই সব আমদানি পণ্য বন্দরের বদলে বেসরকারী কন্টেইনার ডিপাে থেকে খালাসের যে নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড; এরপর থেকেই অফডকে কন্টেইনারজট বাড়তে থাকে। আমরা প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবার দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন. স্বস্তির বিষয় হচ্ছে রপ্তানি পণ্যভর্তি কন্টেইনারের জট এখন আর অফডকে নেই।
কন্টেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা’র হিসাবে, ১০ আগস্ট ১৯টি ডিপোতে মোট কন্টেইনার ছিল প্রায় ৬০ হাজার একক; এরমধ্যে শুধু খালি কন্টেইনারই ছিল ৪০ হাজার একক। আমদানি কন্টেইনার ছিল  ১৫ হাজার ৩১৯ একক আর রপ্তানি পণ্যের কন্টেইনার ছিল ৪ হাজার ৪৮৯ একক। ২৩ জুলাই যখন দেশে নতুন করে লকডাউন শুরু হয় তখন থেকেই মুলত বেসরকারী কন্টেইনার ডিপােগুলোতে কন্টেইনার জট দেখা দেয়। ২৩ জুলাই সব ডিপোতে মোট কন্টেইনার ছিল ৫৪ হাজার একক; এরমধ্যে খালি কন্টেইনারই ছিল ৩০ হাজার একক। রপ্তানি পণ্যের কন্টেইনার ছিল বেশি ১৪ হাজার একক; আর আমদানি কন্টেইনার ছিল তুলনামূলক কম প্রায় সাড়ে ৯ হাজার একক। সেই দিনের বিবেচনায় নিলে মোট কন্টেইনারের সংখ্যা যেমন বেড়েছে তেমনি খালি কন্টেইনারের সংখ্যা বেড়েছে অনেক।
জানতে চাইলে গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলছেন, বেসরকারী কন্টেইনার ডিপোগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা দিচ্ছে । অথচ বাড়তি মাশুল নিচ্ছে; পণ্য ছাড়ে ধীরগতি। ফলে আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি গার্মেন্ট শিল্পের কাঁচামাল আমরা অফডক নয় বন্দর থেকেই ডেলিভারি নিবো। আমরা সেই অবস্থানে এখনো অটল আছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *