খনন শেষে ৭ দিন পর কর্ণফুলী ড্রাইডক জেটিতে ভিড়লো ‘দিনা ওশান’ জাহাজ

0
778

বিশেষ প্রতিনিধি

জাহাজজট কমাতে ‌’কর্ণফুলী ড্রাইডক জেটি’তে জাহাজ ভিড়াচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে বেসরকারী এই জেটি মুলত জাহাজ মেরামতের জন্য নির্মিত হয়েছে একটি কম্পানি। বন্দরে খোলা পণ্যবাহি জাহাজ ভিড়তে ১৫ থেকে ২৫ দিন সময় লাগায় বিশেষায়িত এই জেটিতে জাহাজ ভিড়াচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর আগে কর্ণফুলী নদীর উত্তরপাড়ে সরকারী চট্টগ্রাম ড্রাইডক জেটিতে জাহাজ ভিড়ানো হয়েছিল। দক্ষিনপাড়ে পণ্যবাহি বাণিজ্যিক জাহাজ ভিড়ানোর উদ্যোগ এই প্রথম।

গত ২৩ মার্চ ‘কর্ণফুলী ড্রাইডক জেটি’তে জাহাজ ভিড়ানোর জন্য গিয়েছিল ‘দিনা ওশান’ জাহাজ। কিন্তু জেটির পাশে নাব্যতা সংকটের কারণে জাহাজটি ভিড়ানো সম্ভব হয়নি। এরপর জাহাজটি বহির্নোঙরে ফেরত যায়। জেটির পাশে খনন করে নাব্যতা সংকট কাটানোর পর এক সপ্তাহ পর আজ মঙ্গলবার জাহাজটি জেটিতে ভিড়তে পেরেছে। জাহাজটি দেশের শীর্ষ শিল্পগ্রুপ বিএসআরএম এর জন্য স্ক্র্যাপ বা পুরণো জাহাজভাঙ্গার পণ্য নিয়ে এসেছে।

জানতে চাইলে ‘দিনা ওশান’ জাহাজের শিপিং এজেন্ট এভারেট শিপিংয়ের পরিচালক আসিফ ইফতেখার হোসাইন শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, ‘নতুন নির্মিত জেটিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ভিড়ানোর উদ্যোগ এই প্রথম। চট্টগ্রাম বন্দরে খোলা পণ্যবাহি জাহাজ ভিড়তে ২০ দিনের বেশি সময় বহির্নোঙরে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। এরচেয়ে তুলনামূলক নতুন জেটিতে জাহাজ ভিড়ানো ভালো।

তিনি বলছেন, কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড় থেকে পণ্য পরিবহন করে কর্ণফুলী সেতু পাড়ি দিয়ে বিএসআরএম কারখানায় এসব পণ্য নেয়া সময়সাপেক্ষ। এরপরও বহির্নোঙরে এতদিন বসে থাকার চেয়ে অনেক সাশ্রয়ী; এই বিবেচনায় জাহাজ ভিড়িয়েছে আমদানিকারক।

জানা গেছে, দেশের শীর্ষ শিল্পগ্রুপ বিএসআরএম এর জন্য স্ক্র্যাপ পণ্য আনা হয়েছে ‘দিনা ওশান’ জাহাজে। জাহাজটি ১৮ দিন আগে জাপানের টোকি ও বন্দর থেকে রওনা দেয়। গত ২৩ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় পৌঁছে। এরপর জাহাজটি কর্ণফুলী ড্রাইডক জেটিতে ভিড়ে এবং বিকালেই পণ্য উঠানামার কাজ শুরু করে।

জাহাজটি থেকে পণ্য নামানোর কাজটি করছে চট্টগ্রাম বন্দর বার্থ অপারেটর রুহুল আমিন এন্ড ব্রাদার্স। যদিও এসব জেটিতে কাজ করার জন্য দরপত্রে অনুমোদিত নয় প্রতিষ্ঠানটি।

জানা গেছে, জাহাজটি থেকে পণ্য নামিয়ে স্ক্র্যাপ পণ্যগুলো আনোয়ারা থেকে সড়কপথে কর্ণফুলী সেতু পার হয়ে বিএসআরএম’র সীতাকুন্ডের কারখানায় নেয়া হবে। সেখানে প্রক্রিয়াজাত-পরিশোধন করার পর লোহা-স্টিল সামগ্রী তৈরী হবে। আনোয়ারা থেকে এত দীর্ঘ সড়কপথ পাড়ি দিলেও বহির্নোঙরে ২০-২৫ দিন জাহাজ অপেক্ষমান থাকার চেয়ে অনেক সাশ্রয় হবে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here