কেডিএস ডিপোতে আটকে পড়া ১৪শ রপ্তানি কন্টেইনার কবে জাহাজীকরণ হবে?

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

5 December, 2021 48 Views

48

চট্টগ্রামের কেডিএস ডিপোতে শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে ৬দিনে মোট ১৪শ একক রপ্তানি কন্টেইনার জাহাজীকরণ করা যায়। ১ অক্টোবর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১৪টি জাহাজে এসব রপ্তানি কন্টেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে জাহাজীকরণ করে ইউরোপ-আমেরিকায় পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু ধর্মঘটে ডিপো থেকে কন্টেইনার বন্দরে না আসায় সেগুলো ডিপােতেই আটকে আছে।

যথাসময়ে জাহাজীকরন না করায় বিপুল আর্থিক ক্ষতিতে পড়বেন রপ্তানিকারকরা। ফিডার ভ্যাসেল অপারেটরের স্লট খালি যায়ায় সে নির্ধারিত মাশুল পায়নি। আর কন্টেইনার লাইন বা বক্স অপারেটর মাদার ভ্যাসেল স্লট ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। এই কারণ পণ্য জাহাজীকরন আরো পিছিয়ে যাবে।

তাহলে আটকে পড়া সেই রপ্তানি কন্টেইনার কিভাবে কবে নাগাদ চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়বে তা নিশ্চিত নয়। শিপিং এজেন্ট জিবিক্স লজিস্টিকসের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনতাসির রুবাইয়াত বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ‘এসওএল হিন্দ’ ও ‘এসওএল বাংলাদেশ’ জাহাজে দুই দিনে ২৮৩ একক রপ্তানি পণ্যবাহি কনটেইনার নিয়ে শাটআউট হয়েছে। আগামী ৯ অক্টোবর সিঙ্গাপুর বন্দরে পৌছানোর কথা ছিলো। এখন সেই পণ্য সিঙ্গাপুরে পৌঁছেনি বলে মাদার ভ্যাসেলে সেই পণ্য উঠানো যায়নি।

তিনি বলছেন, বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়ার সময় নির্ধারিত স্লট খালি রেখেই জাহাজকে বন্দর ছাড়তে হয়েছে। আগে জানলে এই স্থানে আমি অন্য কারো কন্টেইনার নিতে পারতাম।কিন্তু ধর্মঘটের কারণে সেটি হয়নি। আর এখন সেই কন্টেইনার কোন জাহাজে কবে নাগাদ চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজীকরণ হবে সেটি কেবল রপ্তানিকারকই জানবে।

জানা গেছে, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রাক-লরি চালক-শ্রমিক ধর্মঘট শুরু হওয়ায় ১ অক্টোবর ছেড়ে যায়া জাহাজেই শাটআউট হয়েছে। ১ অক্টোবর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ১ হাজার ৩৯৬ একক রপ্তানি কন্টেইনার জাহাজে তোলা যায়নি। এখন সেই কন্টেইনার ডিপোতে পড়ে আছে।এছাড়া আরো অন্তত আড়াই হাজার একক রপ্তানি কন্টেইনার কেডিএস ডিপোতে আটকে আছে।

গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলছেন, আগামী ডিসেম্বরে ক্রিস্টমাস ঘিরে বিক্রির লক্ষ নিয়েই আগেই এই পণ্য বিদেশি ক্রেতার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল। এখন ধর্মঘটের কারণে আটকে পড়া রপ্তানি কন্টেইনার আবারো জাহাজীকরন করতে ১০ দিন পিছিয়ে যাবে। সেই পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছলেই আমার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সিএম এর পর ডিসকাউন্ট চাইবে। আর এই ডিসকাউন্ট দিতে গেলেই মুল লাভের অংশ শেষ। ধর্মঘট করার কারণ কী পরিমান আর্থিক লস সেটা যদি শ্রমিকরা বুঝতো তাইলে দেশ আরো এগিয়ে যেত।

উল্লেখ্য ধর্মঘটকারীদের সাথে দীর্ঘ আলোচনা শেষে সচল হয়েছে কেডিএস ডিপো। রপ্তানি পণ্য আসতে শুরু করেছে; এই কারণে আজ বুধবার থেকে আর শাটআউটের সম্ভাবনা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *