কৃঞ্চপাত্তনামে আটকে পড়া পণ্য আনা হচ্ছে ‘এক্সপ্রেস নিলওয়ালা’ জাহাজে

বিশেষ প্রতিনিধি
ভারতের কৃঞ্চপাত্তনাম সমুদ্রবন্দরে আটকে পড়া বাংলাদেশি আমদানি পণ্যবাহি কন্টেইনার আনা হচ্ছে ‘এক্সপ্রেস নিলওয়ালা’ নামের আরেকটি জাহাজে। বাংলাদেশি আমদানিকারকের ৩ হাজার একক কন্টেইনার পণ্য আনার জন্য অবৈধভাবে বুকিং নিয়েছিল কর্ণফুলী গ্রুপের জাহাজ ‘এসএসএল কচি’ কিন্তু সেই জাহাজ কৃঞ্চপাত্তনাম-চট্টগ্রাম রুটে চলার অনুমোদন অনেক আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে।
মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও ‘এসএসএল কচি’ জাহাজে দুই হাজার একক আমদানি পণ্য বোঝাই করা হয়েছিল; কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরের অনুমোদন না পাওয়ায় সেটি আর চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে পারেনি। এই অবস্থায় জাহাজটি থেকে পণ্য নামিয়ে কৃঞ্চপাত্তনাম বন্দরে রাখা হয়েছে। এখন আটকে পড়া পণ্য আরেকটি জাহাজে আনার প্রক্রিয়া চুড়ান্ত হয়েছে।
জানতে চাইলে হ্যাপাগ-লয়েড বাংলাদেশের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) আবুল কালাম আজাদ বলছেন, ‌কৃঞ্চপাত্তনাম বন্দরে আমাদের ৩ হাজার একক আমদানি কন্টেইনার আছে। এরমধ্যে ২ হাজার একক কন্টেইনার জাহাজে বোঝাই করার পর জানলাম ‘এসএসএল কচি’ জাহাজটি চট্টগ্রাম আসবে না। এমন তথ্য জানার পর আমরা এবং পণ্যের আমদানিকারক দুপক্ষই বিপদে পড়েছি।
তিনি বলছেন, গ্রাহকদের কাছে দ্রুত পণ্যগুলো পৌঁছাতে আমরা সীকন শিপিংয়ের সাথে কথা বলে জাহাজ দেয়ার বিষয়ে রাজি করিয়েছি। আশা করছি দুটি ভয়েজে সব আমদানি পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছবে।
জানা গেছে, সীকন শিপিংয়ের ‘এক্সপ্রেস নিলওয়ালা’ জাহাজটি মুলত চট্টগ্রাম-সিঙ্গাপুর রুটে চলাচল করে। হ্যাপাগ-লয়েডের আটকে পড়া পণ্য আনতে সেই জাহাজটি চট্টগ্রাম-কৃঞ্চপাত্তনাম রুটে এডহক ভিত্তিতে চলাচল করবে। জাহাজটি এখন সিঙ্গাপুর থেকে চট্টগ্রামের পথে আছে। ১৩ আগস্ট জাহাজটি বহির্নোঙরে পৌঁছবে; ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়বে। এরপর চট্টগ্রাম থেকে রওনা দিয়ে ২১ আগস্ট কৃঞ্চপাত্তনাম বন্দরে পৌঁছবে। সেখান থেকে ২৩ আগস্ট দেড় হাজার একক আমদানি পণ্য বোঝাই করে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছতে পারে ২৬ আগস্টের দিকে। আটকে পড়া পণ্যের মধ্যে ভারী পণ্য রয়েছে বেশি। এছাড়া পোশাক শিল্পের কাঁচামাল রয়েছে। আরেকটি জাহাজে পণ্য আনার কারণে বাড়িত মাশুল গুনতে হবে কিনা জানতে চাইলে হ্যাপাগ-লয়েডের আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রশ্নই আসে না। এটা গ্রাহকের সাথে আমাদের কমিটমেন্টের বিষয় নির্ধারিত সমযে চুক্তি অনুযায়ী পণ্য পৌঁছানো। এরজন্য বরং আমি দুঃখিত গ্রাহকদের কাছে; তাদের কাঙ্খিত সময়ে পণ্য পৌঁছাতে পারিনি। যদিও এতে আমাদের কোন দোষ ছিল না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *