কারনেটের গাড়ি নিলামে বন্দরের কী লাভ?

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

7 December, 2021 16 Views

16

পর্যটন–সুবিধায় আনা বিলাসবহুল ব্রান্ডেড দামি গাড়ির মধ্যে ১১৩ গাড়ি ৪ নভেম্বর ইলেকট্রনিক অকশনে (ই অকশন) তুলছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। নিলাম তালিকায় আছে, ল্যান্ড রোভার, মার্সিডিজ বেঞ্জ, বিএমডব্লিউ, লেক্সাস, জাগুয়ার, ফোর্ড, মিতসুবিশির মতো বিখ্যাত ব্র্যান্ডের গাড়িগুলো

১০ বছর ধরে বন্দর শেড দখল করে রাখা এই গাড়িগুলো অন্তত চারবার নিলামে তুললেও সেগুলাে বিভিন্ন জটিলতায় শেষ পর্যন্ত বিক্রি হয়নি। এতে কাস্টমস রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর চট্টগ্রাম বন্দর দুইভাবে ক্ষতির মুখে পড়েেছে। একটি হচ্ছে, ১০ বছর ধরে এই শেডটি অন্য কন্টেইনার রাখার কাজে ব্যবহার করা যায়নি। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, শেডে কন্টেইনার রাখার মাশুলও পাচ্ছে না বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, নিলামে বিক্রি করেও বন্দরের ভাড়া পাওয়ার আশা নেই, এটা ঠিক। এরপরও গাড়িগুলো নিলামে বিক্রি করা হলে বন্দরের কিছু জায়গা খালি হবে; যেগুলো অন্তত ১০ বছর ধরে আটকে ছিল। ১২৫ কন্টেইনার রাখার স্থান খালি হলে তাতে বন্দরের পরিচালন কাজ সহজ হবে। আমরা এখন সেটাই চাইছি।

জানা গেছে, কার নেট দ্যা পেসেজ বা পর্যটন–সুবিধায় গাড়ি আনলে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যায়, তবে সেই গাড়ি আবার নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার শর্তও থাকে। কিন্তু অতীতে এ সুবিধায় আনা অনেক গাড়ি ফেরত নেওয়া হয়নি। প্রবাসী বাংলাদেশিরা গাড়ি এনে বাংলাদেশে ব্যবহারের পর সেই গাড়ি দেশেই অবৈধভাবে বিক্রি করে দিচ্ছিলেন। বিষয়টি ধরা পড়ার পর প্রথমে কড়াকড়ি আরোপ করে কাস্টমস। তাতে সুফল না আসায় এসব গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়।একইসাথে ব্যাংক গারান্টি দিয়ে খালাসের শর্ত আরোপ করে কাস্টমস। এরপর থেকেই মুলত বন্দর থেকে এসব গাড়ি ছাড় বন্ধ হয়; আটকা পড়ে বিপুল দামি গাড়ি।
আটকা পড়া এসব গাড়ি চারবার নিলামে তুলে বিক্রি করতে পারেনি কাস্টমস। ফলে গাড়িগুলো বন্দর শেডে আটকে থাকে বছরের পর বছর। এই গাড়ির সঠিক অবস্থান নিরুপন করে জাতীয় রাজস্ব একটি কমিটি গঠন করে দেয়। এরপর গাড়িবাহী কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর একটি তালিকা তৈরি করেছে। তাতে দেখা যায়, সিংহভাগ গাড়ি রয়েছে ৮৯টি কনটেইনারে। বেশির ভাগ গাড়িই আনা হয় ২০১১ সালে। প্রতিটি গাড়ি রাখা বাবদ বন্দর এখন ভাড়া পাবে কমবেশি ৭৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত গাড়িগুলো বন্দর চত্বরে রাখা বাবদ মোট ভাড়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯০ কোটি টাকার বেশি। আর যতবেশি দিন ইয়ার্ডে থাকচে গাড়িগুলো প্রতিদিন ততই যোগ হচ্ছে আড়াই লাখ টাকা ভাড়া।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, এসব গাড়ি নিলামে বিক্রি হলেও এখন আর বন্দরের পাওনা ভাড়া আদায়ের সম্ভাবনা নেই। কারণ, গাড়ি বিক্রির ৮০ শতাংশ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়, আর বন্দর পায় মাত্র ২০ শতাংশ। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমস উপ কমিশনার (নিলাম) মো. আল আমিন বলছেন, নিলামে এবার আমরা সর্বোচ্চ প্রচারনা চালাচ্ছি যাতে যেকােন ভাবে গাড়িগুলো বিক্রি করতে পারি। কারণ এই গাড়ি এভাবে কতদিন নিলামে তুলব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *