কলম্বো বন্দরে জাহাজজট; সারচার্জ আরোপে বিপাকে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা

0
1537

বিশেষ প্রতিনিধি
শ্রীলংকার কলম্বো বন্দরে ব্যাপক জাহাজজট দেখা দিয়েছে। সেই বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছার পর একটি কন্টেইনার জাহাজকে ৪ থেকে ৫দিন অপেক্ষার পর জেটিতে ভিড়ার সুযোগ পাচ্ছে। আগে দিনে দিনেই বা একদিন পর জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারতো। জেটিতে ভিড়তে বাড়ি সময় লাগায় কলম্বো বন্দর ব্যবহারকারী জাহাজের অপারেটররা নির্ধারিত সময়ে পণ্য পরিবহনে জটিলতায় পড়েছেন। বাংলাদেশের ৩৭ শতাংশ পণ্য পরিবহন হয় শ্রীলংকার কলম্বো বন্দরের মাধ্যমে। আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনে তারাও  বিপাকে পড়েছেন।
এই অবস্থায় বাড়তি খরচ পোষাতে এই রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন জাহাজের ফিডার অপারেটররা ‘সারচার্জ’ আরোপ করেছে। আগামী সপ্তাহ থেকেই এই ‘ইমারজেন্সি কস্ট রিকভারি সারচার্জ’ আদায় শুরু হবে। এরফলে একটি চট্টগ্রাম-কলম্বো রুটে পণ্যভর্তি ২০ ফুটের একটি কন্টেইনার পরিবহনে বাড়তি ৭৫ মার্কিন ডলার গুনতে হবে।
চট্টগ্রাম-কলম্বো রুটে চলাচলকারী ফার শিপিং লাইনস গত ১ নভেম্বর চিঠি দিয়ে এই সারচার্জ আরোপের কথা সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের জানিয়ে দিয়েছে। সেখানে তারা বলেছে, ২০ ফুট পণ্যভর্তি কন্টেইনারের জন্য ৭৫ মার্কিন ডলার এবং খালি কন্টেইনারের জন্য সাড়ে ৩৭ মার্কিন ডলার সারচার্জ দিতে হচ্ছে। জিবিক্স লাইন, মায়ের্কস লাইনসহ এই রুটে চলাচলকারী অন্য শিপিং লাইনগুলো এই সপ্তাহেই সারচার্জ আরোপের চিঠি দিচ্ছে বলে জাহাজের মেইন লাইন অপারেটররা জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে ফার শিপিং লাইনসের দেশিয় শিপিং এজেন্ট মার্কো শিপিং কম্পানির কর্মকর্তারা উদৃত হয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করে শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, ‌কভিড-১৯ মহামারি নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় কলম্বো বন্দরের প্রডাক্টিভিটি অনেক কমেছে। একটি জাহাজ ভিড়তে ৪/৫ দিন লেগেছে। আমাদের একটি জাহাজ ‌ক্যাপিটান আফানাসিয়েভ’ সেই বন্দরে ভিড়তে সাতদিন লেগেছে। এরফলে বাড়তি সময় বসে থাকার কারণে প্রথমত আমাদের নির্ধারিত শিডিউল ভেঙে পড়ছে। খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সব অপারেটরদের একই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ফলে খরচ পোষাতে সারচার্জ আরোপ ছাড়া উপায় নেই। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ভালো হচ্ছে। এরপর সারচার্জ প্রত্যাহার হবে কিনা হেড অফিস বলতে পারবে।
এই রুটে চলাচলকারী আরেক শিপিং লাইনের এক কর্মকর্তা বলছেন, মুলত কলম্বোতে কভিড-১৯ বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে কোয়ারেন্টিন কারফিউ জারি করা হয়েছে।  এরফলে শ্রমিক উপস্থিতি একেবারে কমে যায়ায় বন্দরের কাজের গতি কমেছে। পরে শ্রমিকরা কভিডে কাজ করতে বেতনের সম পরিমান বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। সেটি সুরাহা করা হয়েছে গতকাল। এখন কাজের গতি বেড়েছে কিন্তু শুক্রবারের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।
জাহাজের মেইন লাইন অপারেটরদের হিসাবে, কন্টেইনার জাহাজে আমদানি ও রপ্তানি দুই ধরনের পণ্য পরিবহনে চট্টগ্রাম বন্দর প্রধানত চারটি সমুদ্রবন্দরের ওপর নির্ভরশীল। এরমধ্যে সবচে বেশি ৪৪ শতাংশ পণ্য পরিবহন হয় সিঙ্গাপুর বন্দরের মাধ্যমে; ৩৭ শতাংশ পণ্য হয় শ্রীলংকার কলম্বো বন্দরের মাধ্যমে। এরপর মালয়েশিয়ার তানজুম পেলিপাস বন্দরে হয় সাড়ে ১২ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাঙ বন্দরের মাধ্যমে হয় ৭ শতাংশ। ফলে কলম্বো বন্দর ব্যবহারকারী ৩৭ শতাংশ পণ্যের ব্যবসায়ীরা এতে বিপাকে পড়বেন কোন সন্দেহ নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here