কর্ণফুলী নদীর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ৫৯ বছর পর বড় ধরনের সমীক্ষা

0
682

বিশেষ প্রতিনিধি
কর্ণফুলী নদী ঘিরে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রথমবার বড় ধরনের সমীক্ষা করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। কর্ণফুৃলী নদীর কাপ্তাই থেকে বন্দর প্রবেশের চ্যানেল বা মোহনা এবং সীতাকুন্ড পর্যন্ত এই সমীক্ষা করার জন্য ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান ‘এইচআর ওয়ালিংফোর্ড’ নিয়োগ দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এজন্য বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ১২ কোটি টাকার বেশি।
কর্ণফুলী নদী ঘিরে বড় ধরনের এই ধরনের সমীক্ষা হয়েছিল ১৯৬১ সালে; এরপর আর কোন সমীক্ষা হয়নি। ৫৯ বছর পর এই নদী ঘিরে বড় ধরনের সমীক্ষা শুরু করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানটি আগামী মাস থেকে সমীক্ষা শুরু করে আগামী ১০ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিবে বন্দরকে। এরপর বন্দর কর্তৃপক্ষ সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা চুড়ান্ত করবে।

‘কর্ণফুলী হাইড্রোলজিক এন্ড হাইড্রোলিক স্টাডি’ সমীক্ষার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরে আরো বড় আকারের জাহাজ ভিড়ানো যায় কিনা সেটি যাচাই করবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে সাড়ে নয় মিটার গভীরতা এবং ১৯০ মিটার দীর্ঘ জাহাজ ভিড়ানোর সুযোগ আছে। নদী খনন করে নাব্যতা বৃদ্ধি করা; নদীর প্রবেশমুখে গুপ্তাবাঁক প্রতিবন্ধকতা দুর করা; নদীর দুপাড়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা। নদীর পলি বিষয়ক তথ্য, নদীর ভাঙন, নদীর আশপাশের স্থাপনা, নদীর সাথে যুক্ত খালের মুখে বর্জ ব্যবস্থাপনা, ভবিষ্যতে বন্দরের সম্প্রসারণ সম্পর্কিত সম্ভাবনার তথ্য, বিদ্যমান অবকাঠামো ও স্থাপনা বিষয়ক তথ্য ও সুপারিশ, ড্রেজিং সংক্রান্ত তথ্য ইত্যাদি।সমীক্ষার মাধ্যমে যেসব বিষয় জানা যাবে, সেগুলো হচ্ছে- চট্টগ্রাম বন্দরের চ্যানেলের বিদ্যমান সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ পর্যালোচনা; কর্ণফুলী নেভিগেশনাল চ্যানেল সংরক্ষণ; বর্ষা মৌসুমে কর্ণফুলী নদীতে চলমান ও জেটিতে অবস্থানরত নৌ-যানগুলোর ওপর কাপ্তাই বাঁধ থেকে নিঃসরিত অতিরিক্ত পানি প্রবাহের নেতিবাচক ভূমিকা; কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্মিতব্য বে-টার্মিনাল এলাকায় হাইড্রোলজিক ও হাইড্রোলিক সম্পর্ক নির্ণয় করবে।
জানতে চাইলে বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের চীফ হাইড্রোগ্রাফার শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, কর্ণফুলী নদী হচ্ছে দেশের অর্থনীতির প্রাণ; কারণ এই নদী ঘিরেই গড়ে উঠেছে বন্দর। কিন্তু সঠিক সমীক্ষা না থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্ণফুলী নদী ঘিরে যেকোন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সঠিকভাবে করতে পারছে না। সর্বশেষ নদীর নাব্যতা ঠিক রাখতে খনন করতে গিয়ে বড় ধরনের জটিলতায় পড়েছি। নদীতে এত বেশি পলিথিন জমেছে কোনভাবেই খনন করে নাব্যতা ধরে রাখা যাচ্ছে না। সমীক্ষার প্রতিবেদন পেলে সঠিকভাবে পরিকল্পনা প্রনয়ন করা সম্ভব হবে।

তিনি বলছেন, শুধু তাই-ই নয়; কর্ণফুলীর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে নদীর দুই পাশের সুবিধাজনক স্থানে বন্দর সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো তৈরি এবং নদীর নাব্যতা বাড়িয়ে বর্তমানের চেয়ে বড় বাণিজ্যিক জাহাজ ভিড়ানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে এই সমীক্ষা ভূমিকা রাখবে। এই সমীক্ষার মাধ্যমে একদিকে নদীর নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা এবং নদীর জন্য ক্ষতিকর অবকাঠামোা নির্মাণ হতে বিরত রাখার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি কর্ণফুলী নদীর দূষণের হার হ্রাস করে পানির গুণগত মান সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here