কভিড মহামারির ধকল কাটিয়ে উঠছে বাংলাদেশ, রপ্তানি পণ্য পরিবহনের সর্বোচ্চ রেকর্ড জুলাইয়ে

0
999

নিজস্ব প্রতিবেদক
কভিড-১৯ মহামারির মধ্যেই রেকর্ড পরিমান পণ্য রপ্তানি করে করোনার ধকল সামলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। জুলাই মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৭২ হাজার একক কনটেইনার; যা অতীতের যেকোন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। করোনার মধ্যে এমন রেকর্ড দেশের রপ্তানিকারকদের মধ্যে লক্ষমাত্রা পুরণের আতœবিশ^াস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশে^ যখন কভিড মহামারিতে চরম আর্থিক মন্দা চলছে তখন আমাদের রপ্তানিতে সর্বোচ্চ রেকর্ড সত্যিই অনুপ্রেরনাদায়ক। করোনা মহামারির মধ্যেই কারখানা-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল করে দেওয়ার মতো প্রধানমন্ত্রীর সাহসী সিদ্ধান্তের ফলেই রপ্তানিতে বড় ধরনের সুফল মিলেছে।

গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি ও এশিয়ান গ্রুপের কর্ণধার আবদুস সালাম বলছেন, কারখানা খোলার ব্যাপারে সরকারের সঠিক, চ্যালেঞ্জিং এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণেই আমরা রপ্তানিতে বড় সুফল পাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা, নীতিগত সহায়তা এবং শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আন্তরিকতাও প্রশংসা করার মতো। তখন যদি কারখানা না খুলত, তাহলে এই সেক্টরের অবস্থা কোথায় গিয়ে ঠেকত কল্পনাই করতে পারতাম না।

শিপিং কম্পানিগুলো বলছে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরাসরি জাহাজে ইউরোপ-আমেরিকা-আফ্রিকা অঞ্চলে রপ্তানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার পাঠানোর সুযোগ নেই। চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে সাড়ে নয়মিটার গভীরতার জাহাজ এবং সর্ব্চ্চো ১৮৯ মিটার দীর্ঘ জাহাজ ভিড়তে পারে। কিন্তু বিশে^ সমুদ্রবন্দরগুলোতে এরচেয়ে বড় গভীরতার জাহাজ ভিড়ে বলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছোট কন্টেইনার জাহাজে পণ্য নিয়ে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং শ্রীলংকার বন্দরে নেয়া হয়। সেখান থেকে মাদার ভ্যাসেল বা বড় জাহাজে পণ্য ইউরোপ-আমেরিকা নিয়ে যাওয়া হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে পণ্য পরিবহন করে থাকে জাহাজের মেইন লাইন অপারেটর (এমএলও)। তাদের সর্বশেষ হিসাবে, মার্চে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানি পণ্য পরিবহন হয়েছে ৬১ হাজার ৭০০ একক কনটেইনার। করোনার ধাক্কায় এপ্রিলে রপ্তানিতে ধস নেমে ১৩ হাজারে নেমে আসে। মে মাসে কিছুটা বেড়ে ৩০ হাজার এককে উন্নীত হয়; জুন মাসে সেটি আরো বেড়ে ৫০ হাজার এককে উন্নীত হয়েছে। আর জুলাই মাসে রপ্তানি বেড়ে ৭২ হাজার ৩৫৯ এককে উন্নীত হয়েছে। জুলাই মাসের এই রপ্তানি শুধু ২০২০ সালের জানুয়ারি-জুন এই ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। শুধু চলতি বছর অতীতের যেকোন মাসের মধ্যে এই রপ্তানি সর্বোচ্চ। এই চিত্র থেকেই বোঝা যায় করোনা মহামারির ধকল কাটিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।
বিদেশি জাহাজ পরিচালনকারী জিবিএক্স লজিস্টিকস লিমিটেডের অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনতাসির রুবাইয়াত বলেন, ‘আমার জানা মতে অতীতে এক মাসে এত বেশি পরিমাণ পণ্য রপ্তানি আমরা করিনি। দুই কারণে এই রপ্তানি বেড়েছে। একটি হচ্ছে, বিদেশি ক্রেতারা পুরনো অর্ডারগুলো নেওয়া শুরু করেছেন। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, অনলাইন বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আগের চেয়ে ৫ শতাংশ বেড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আগস্টে রপ্তানির এই প্রবৃদ্ধি হয়তো থাকবে না; কিন্তু অবশ্যই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে। আর আগস্টে আমদানিও স্বাভাবিক গতিতে থাকবে। তবে জুলাইয়ে গার্মেন্ট খাতের কাঁচামাল কতটা আমদানি হয়েছে সেটি জানা গেলে আগস্টে রপ্তানির ট্রেন্ডও আগে থেকেই জানা যেত।’

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য উঠানামার চিত্র থেকে দেশের মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রমাণ মিলে। অর্থনীতির লাইফলাইন চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে দেশের মোট আমদানির ৮২ শতাংশ আসে; আর রপ্তানি পণ্যের ৯১ শতাংশই যায় এই বন্দর দিয়ে। চট্টগ্রাম বন্দরে জুলাই মাসে এক লাখ চার হাজার ৪৯৯ একক আমদানি পণ্য উঠানামা হয়েছে। আর রপ্তানি পণ্য উঠানামা হয়েছে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার একক। এই পণ্য উঠানামার হিসাবের মধ্যে খালি কনটেইনারও যুক্ত আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here