কভিড ধাক্কা কাটিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানি দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরছে

0
633

বিশেষ প্রতিনিধি,
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানি দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরছে। সেপ্টেম্বর মাসে পন্য রপ্তানি হয়েছে ৫৭ হাজার ৯শ একক কন্টেইনার; ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে এর পরিমান ছিল ৫৫ হাজার ৫৮৬ একক। অর্থ্যাৎ গত বছরের একই মাসের তুলনায় এবার সেপ্টেম্বর রপ্তানি বেড়েছে ২ হাজার ২শ একক কন্টেইনার। শুধু তাই নয় আগস্টের চেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে সেপ্টেম্বরে। কভিড-১৯ মহামারির ধকল কাটিয়ে বাংলাদেশ রপ্তানিতে আগের অবস্থানে ফিরার প্রমান এই অগ্রগতি।
চট্টগ্রাম চেম্বার সহ-সভাপতি তরফদার রুহুল আমিন শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, কভিড-১৯ মহামারি কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক, চ্যালেঞ্জিং এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণেই আমরা রপ্তানিতে বড় সুফল পাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রণোদনা, নীতিগত সহায়তা, কঠিন সময়ে কারখানা খুলে দেয়া এবং কারখানায় শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আন্তরিকতাও প্রশংসা করার মতো। তখন যদি দেশের সব শিল্প কারখানা না খুলত, তাহলে এই সেক্টরের অবস্থা কোথায় গিয়ে ঠেকত কল্পনাই করতে পারতাম না।করোনা মহামারির মধ্যেই কারখানা-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল করে দেওয়ার মতো প্রধানমন্ত্রীর সাহসী সিদ্ধান্তের ফলেই দেশের অর্থনীতি গতি ইতিবাচক ধারায় ফিরছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনের চিত্র থেকে দেশের মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সার্বিক প্রমাণ মিলে। অর্থনীতির লাইফলাইন চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে দেশের মোট আমদানির ৮২ শতাংশ আসে; আর রপ্তানি পণ্যের ৯১ শতাংশই যায় এই বন্দর দিয়ে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে পণ্য পরিবহন করে থাকে জাহাজের মেইন লাইন অপারেটর (এমএলও)। তাদের হিসাবে, মার্চে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানি পণ্য পরিবহন হয়েছে ৬১ হাজার ৭০০  কনটেইনার। করোনার ধাক্কায় এপ্রিলে রপ্তানিতে ধস নেমে ১৩ হাজারে নেমে আসে। মে মাসে কিছুটা বেড়ে ৩০ হাজার এককে উন্নীত হয়; জুন মাসে সেটি আরো বেড়ে ৫০ হাজার এককে উন্নীত হয়েছে। আর জুলাই মাসে রপ্তানি বেড়ে ৭২ হাজার ৩৫৯ এককে উন্নীত হয়েছে। জুলাই মাসের এই রপ্তানি শুধু ২০২০ সালের জানুয়ারি-জুন এই ছয় মাসের মধ্যে ছিল সর্বোচ্চ। আগস্টে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৫৫ হাজার ৪৩১ একক; আর সেপ্টেম্বরে রপ্তানি হয়েছে ৫৭ হাজার ৯শ একক। ধারাবাহিকভাবে রপ্তানি বাড়ার এই চিত্র থেকেই বোঝা যায় করোনা মহামারির ধকল বিশ্বে সবার আগেই কাটিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।
জানতে চাইলে বিদেশি জাহাজ পরিচালনকারী জিবিএক্স লজিস্টিকস লিমিটেডের অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনতাসির রুবাইয়াত শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, কভিডের ধাক্কা কাটিয়ে বাংলাদেশ রপ্তানিতে আগের ধারায় যে ফিরছে তার প্রমান আমরা গত কয়েকমাস ধরে পাচ্ছি। এই সময়ে আমরা ৫৫ থেকে ৫৭ হাজার একক কন্টেইনার রপ্তানি করে থাকি; আর সেপ্টেম্বরে করেছি ৫৭ হাজার ৮৫৫ একক। ফলে রপ্তানির ধারা একেবারেই স্বাভাবিক।আর আমদানির ধারা গত বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে কম থাকলেও ২০২০ সালের আগস্টের চেয়ে বেড়েছে;  আগামীতে এই ধারা আরো বাড়বে। আমদানিতেও আগের ধারায় ফিরছে।
পণ্য পরিবহন নিয়ে খুব ভালো ও হালনাগাদ জ্ঞান রাখা কর্মকর্তা মুনতাসির রুবাইয়াত বলেন, কভিড-১৯ মহামারির কারণে অনেকেই সীমিত পরিসরে ঋণপত্র খুলেছেন। গত কয়েকমাসে আবারো পুরোদমে ঋণপত্র খুলছেন। সেই পণ্য দেশে আসতে শুরু করায় আমদানি বেড়েছে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে চীনে গোল্ডেন উইক চলছে।সেটি শেষ হলে বাংলাদেশমুখি আমদানি প্রবাহ আরো বাড়বে। এখনই আমদানি স্বাভাবিক প্রবাহ আছে। আগামী কয়েকমাস আমরা আমদানিতে আরো ভালো করবো।
শিপিং কম্পানিগুলো বলছে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরাসরি জাহাজে ইউরোপ-আমেরিকা-আফ্রিকা অঞ্চলে রপ্তানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার পাঠানোর সুযোগ নেই। চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে সাড়ে নয়মিটার গভীরতার জাহাজ এবং সর্ব্চ্চো ১৮৯ মিটার দীর্ঘ জাহাজ ভিড়তে পারে। কিন্তু বিশ্বের সমুদ্রবন্দরগুলোতে এরচেয়ে বড় গভীরতার জাহাজ ভিড়ে বলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছোট কন্টেইনার জাহাজে পণ্য নিয়ে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং শ্রীলংকার বন্দরে নেয়া হয়। সেখান থেকে মাদার ভ্যাসেল বা বড় জাহাজে পণ্য ইউরোপ-আমেরিকা নিয়ে যাওয়া হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here