কভিডের নতুন সংক্রমনে চীনের দক্ষিন বন্দরে পণ্যজট বিশ্বের পণ্য সরবরাহে ব্যাঘাতের শঙ্কা

0
105

বিশেষ প্রতিনিধি
চীনের দক্ষিনাঞ্চলে নতুন করে কভিড সংক্রমন দেখা দেয়ায় সেই এলাকার বন্দরগুলোতে পণ্যজট দেখা দিয়েছে। এর ফলে আমদানিতে তো বটেই; রপ্তানিতে পণ্য সরবরাহ মারাত্নক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে বিশ্বের পণ্য সরবরাহচক্রে আঘাত হানছে। এটি অব্যাহত থাকলে পণ্য পরিবহনে খরচ বাড়বে; এতে করে পণ্যের দাম বাড়বে; পণ্য উৎপাদনে চরম ব্যাঘাত ঘটবে।
চীনভিত্তিক শিপিং লাইনগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, সর্বশেষ সুয়েজ খালে জাহাজ দুর্ঘটনায় সবচে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছিল সমুদ্রপথে বিশ্বের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা। এখন চীনের দক্ষিনাঞ্চলের বন্দরে পণ্যজট তাদের উদ্বেগ আরো বাড়িয়েছে।
এব্যাপারে সাপ্লাই চেইন ইন্টেলিজেস ফার্ম প্রজেক্ট-৪৪ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট জস ব্রাজিল বলেন, “কন্টেইনার সঙ্কট ও তার সঙ্গে বাড়তি রপ্তানি চাহিদা ইতোমধ্যেই চীনের অভ্যন্তরীণ পণ্য পরিবহনের খরচ অস্বাভাবিক পরিমাণে বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। এই বাড়তি খরচের কারণে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির আসন্ন হুমকিটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।”
ড্রিউরি শিপিং কনসালটেন্টস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক সাইমন হ্যানি বলেন, চীনের প্রযুক্তি শিল্প কেন্দ্র শেনঝেন নগরীর ইয়ানতিয়ান বন্দর এলাকায় ভাইরাসের নয়া প্রাদুর্ভাবের কারণে ইতোমধ্যেই জলপথে পণ্য পরিবহনের বৈশ্বিক খরচ স্ফীত হয়েছে। যেকারণে গত তিন সপ্তাহ ধরেই ১০ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে রয়েছে ড্রিউরি’র ওয়ার্ল্ড কন্টেইনার ইনডেক্স- সূচক।
“আমরা অনুমান করছি, তৃতীয় প্রান্তিকের রপ্তানির পিক সিজনের কারণে খরচের পরিমাণটি আরও বাড়বে। তাছাড়া, পণ্য আসতে দেরি হওয়ায় বন্দরে জাহাজের অপেক্ষার সময় বাড়লে আমদানি ও রপ্তানিকারক উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হবে,” বলে জানান সাইমন।
জানা গেছে, সিঙ্গাপুর বন্দরে বড় জাহাজগুলোতে চীন থেকে অন্যান্য আকারের জাহাজের মালামাল লোড ও আনলোড করা হয়, নৌপরিবহন বাণিজ্যে যাকে বলা হয়; ট্রান্সশিপমেন্ট। প্রজেক্ট-৪৪ এর হিসাব অনুসারে, এই মুহূর্তে ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য সিঙ্গাপুর বন্দরে জাহাজগুলোকে আট- নয়দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অথচ মাত্র এক বছর আগেও অপেক্ষার মেয়াদ ছিল সর্বোচ্চ পাঁচদিন।
এই জটিলতা এড়াতে পণ্যভর্তি বড় জাহাজগুলো সিঙ্গাপুরের পরিবর্তে সরাসরি চীনা বন্দরেই ভেড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি জুন মাসেই কসকো শিপিং লাইনস কোম্পানির একটি কার্গো জাহাজ সিঙ্গাপুর বন্দরে নোঙ্গর করার পরিকল্পনা বাতিল করেছে। কারণ সিঙ্গাপুরে এখন ১৫ দিনের জাহাজজট চলছে।
সিঙ্গাপুর বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান- পিএসএ জানিয়েছে, মূলত ইয়ানতিয়ান বন্দরের কার্যক্রমে দেরি হওয়াতেই সমুদ্রগামী নৌযানের সময়সূচি ও পরিবহন সেবা ব্যাহত হচ্ছে। পণ্যের বাড়তি চাপ ছড়িয়ে পড়েছে নিকটবর্তী চীনের শেকুও এবং নানশা টার্মিনালেও। এতে সিঙ্গাপুর বন্দরে আসা জাহাজগুলোও প্রভাবিত হবে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।”
এদিকে আবার চীনে দেখা দিয়েছে চরম কন্টেইনার সঙ্কট। মহামারি কালে দেশটির অধিক রপ্তানি ও সে তুলনায় কম আমদানির কারণেই পর্যাপ্ত কণ্টেইনার মিলছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here