কন্টেইনারের পাশাপাশি খোলা জাহাজেও পেঁয়াজ আসছে চট্টগ্রাম বন্দরে

0
1583

বিশেষ প্রতিনিধি
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনার ভর্তি করে নিয়মিতই জাহাজে পেঁয়াজ আসছে চট্টগ্রাম বন্দরে। কিন্তু বাল্ক বা খোলা জাহাজে বস্তাভর্তি করে পেঁয়াজ আমদানির ঘটনা খুব একটা নেই। এখন সেই খোলা জাহাজে করেই পেঁয়াজ এসেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। মায়ানমার থেকে ‘হাই ফং সান’ জাহাজে করে এই পেঁয়াজ এনেছেন এক আমদানিকারক। জাহাজটিতে ছিল সাড়ে ৫শ টন পেঁয়াজ এবং ৫শ টন ডাল। দুটি পণ্যই জাহাজের খোপের ভিতর বস্তাভর্তি করে বোঝাই করা। জাহাজ থেকে পণ্য নামিয়ে ট্রাকে বোঝাই করে ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ, ঢাকার মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন আড়তে বিক্রির জন্য পৌঁছেছে এসব পেঁয়াজ। আসার পথে রয়েছে আরও বেশ কটি জাহাজ।

সরবরাহ সংকটের মধ্যে মুলত দ্রুত সময়ে পেঁয়াজ দেশে পৌঁছানো নিশ্চিত করে পুরো জাহাজ ভাড়া করে পেঁয়াজ এনেছেন আমদানিকারক।
জানতে চাইলে জাহাজটির শিপিং এজেন্ট আরগো শিপিংয়ের এক কর্মকর্তা শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, কন্টেইনার জাহাজে পেঁয়াজ আনলে সময় বেশি লাগছে; একইসাথে পণ্য পরিবহন খরচও বেশি পড়ছে। সেই কারণে পরীক্ষামূলকভাবে আমরা একটি খোলা জাহাজ ভাড়া করে পেঁয়াজগুলো এনেছি। পেঁয়াজের গুনগতমানও খুব ভালো ছিল; নষ্টও হয়নি। এবার সফল হওয়ায় ভবিষ্যতে খোলা জাহাজে আরও পেঁয়াজ আনার চিন্তা করছি।

তিনি বলেন, আমরা হাই ফং সান যে জাহাজটি ভাড়া করেছি সেটি মাত্র ৯০ মিটার দীর্ঘ; আমরা আরেকটু বড় জাহাজ দিয়ে মায়ানমার থেকে পেঁয়াজ আনার চেষ্টা চালাচ্ছি।

শিপিং কম্পানিগুলো বলছে, মিয়ানমারের ইয়াংগুন বন্দর থেকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের দুরত্ব মাত্র ৮৩১ নটিক্যাল মাইল। সরাসরি কন্টেইনার জাহাজ সার্ভিস চালু থাকলেও এই সুযোগটি কাজে লাগানো যেতো; অর্থ্যাৎ মাত্র তিনদিনে জাহাজ নিয়ে পেঁয়াজ ইয়াংগুন থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা যেতো। এখন সেই সরাসরি জাহাজ সার্ভিসটি চালু নেই। ফলে ইয়াংগুন থেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনারে করে পেঁয়াজ প্রথমে ১৩৪২ নটিক্যাল মাইল পাড়ি দিয়ে সিঙ্গাপুরে পৌঁছতে হবে। সেখানে কন্টেইনার নামিয়ে আরেকটি জাহাজে করে ১৮৬৬ নটিক্যাল মাইল পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছতে হবে। ইয়াংগুন-সিঙ্গাপুর-চট্টগ্রাম পাড়ি দিতে হবে ৩২শ নটিক্যাল মাইল; সময় লাগবে ১২দিন।

শিপিং সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ-মায়ানমারের মধ্যে বাণিজ্য সহায়ক হিসেবে ভারত-বাংলাদেশ-মায়ানমার (আইবিএম) নাম দিয়ে একটি সার্ভিস চালু করা হয়েছিল। বিভিন্ন কারণে মায়ানমার এই রুট থেকে বাদ পড়ে। পরে মায়ানমারকে বাদ দিয়ে সার্ভিসটির নাম ভারত-বাংলাদেশ (আইবি)  হিসেবে পরিচালনা করে বিএলপিএল সিঙ্গাপুর। কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে চাল সংকটের সময় মায়ানমার থেকে সরকারীভাবে চাল আমদানির করতে এই কন্টেইনার জাহাজ সার্ভিসটি বেশ সুফল দিয়েছিল। যদিও পরে অনিয়মিত হয়ে একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। এখন বিএলপিএল সিঙ্গাপুর কম্পানিটি ইয়াংগুন-ভারত রুটে সার্ভিস চালু রাখলেও বাংলাদেশ-মায়ানমার সার্ভিস চালু নেই।

খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক ওকেএম ট্রেডিং এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অসিয়র রহমান শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, ভারত রপ্তানি বন্ধের খবর আঁচ করতে পেরে আমরা সেপ্টেম্বরেই মায়ানমার থেকে ট্রলার ভাড়া করে ইয়াংগুন থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে পেঁয়াজ আনার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু মায়ানমারের রপ্তানিকারক শেষদিকে বাতিল করায় তা আনা যায়নি। এখন আমাদের পেঁয়াজ ইয়াংগুন থেকে সিঙ্গাপুর বন্দর হয়ে চট্টগ্রাম আসতে সময় লাগবে ১৪/১৫ দিন। ফলে মায়ানমার থেকে দ্রুত পেঁয়াজ আনার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে। এখন ছোট ট্রলারে যদি কেউ আনে তাহলে সময় ও খরচ অনেক কম হবে।

জানা গেছে, এতদিন ভারত থেকে পেঁয়াজ আসতো সড়কপথে ট্রাকে করে স্থলবন্দর দিয়ে। সেগুলো আমদানির সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু সমুদ্রপথে সিঙ্গাপুর, কলম্বো, দুবাই, চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে যে পেঁয়াজ আসছে সেগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কন্টেইনারে করে আসছে। এখন যে পেঁয়াজ আসলো সেগুলো খোলা জাহাজে এসেছে।,

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এপর্যন্ত ১৫ হাজার টন পেঁয়াজ বিভিন্ন দেশ থেকে সমুদ্রপথে আমদানি হয়েছে। আসারপথে রয়েছে আরও অনেক পেঁয়াজের কন্টেইনার। সারাদেশের ব্যবসায়ীরা এপর্যন্ত পৌণে আট লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তরের কাছ থেকে অনুমতি পত্র নিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here