এলপিজি স্থানান্তরে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি

সাগরে কমবে দুর্ঘটনা ঝুঁকি

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

7 December, 2021 17 Views

17
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) স্থানান্তরে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। জাহাজ থেকে জাহাজে এলপিজি স্থানান্তর ঝুঁকিপূর্ন হয়ে উঠায় তীর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে সাগরের মধ্যে অবস্থান করা জাহাজ থেকে পাইপের মাধ্যমে এলপিজি সংগ্রহের প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে দেশে। মূলত সীতাকুন্ড ও খুলনার মোংলায় সাগরের তীরের এলপিজি স্টোরেজ প্ল্যান্টে জাহাজ থেকে এলপিজি স্থানান্তরের জন্য এই প্রযুক্তি আনা হচ্ছে।
নতুন এই প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে চাইলে এলপিজি আমদানিকারকরা জানান, জাহাজ থেকে জাহাজে এলপি গ্যাস স্থানান্তর ঝুঁকিপূর্ন। আর বঙ্গোপসাগরে প্রচুর ঢেউ থাকে বলে এই পদ্ধতি নিরাপদ নয়। তাই সাগরের তীরে পাইপসহ বয়ার মতো ছোটো একটি স্থাপনা থাকবে। তীর থেকে ১০ বা ১৫ কিলোমিটার দূরে গভীর সাগরে এলপিজি নিয়ে অবস্থান করা মাদার ভেসেলের ( বড় জাহাজ) কাছে চলে যাবে ভাসমান এই বয়া। স্বংয়ক্রিয় ইঞ্জিনচালিত বয়াটি মূলত পাইপ টেনে নিয়ে যাবে। জাহাজ থেকে বয়ার পাইপের সাথে সংযোগ দেয়া হলে এলপিজি তীরের স্টোরেজে স্থানান্তর হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে  গ্যাস আমদানি ও প্ল্যান্ট নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া ইউরোগ্যাস প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হেলাল উদ্দিন চৌধুরী তুফান বলেন, ‘আমরা নতুন এই প্রযুক্তিটি যুক্ত করার চিন্তা করছি। ধীরে ধীরে অনেক কোম্পানি আধুনিক প্রযুক্তির সাথে যুক্ত হবে। জাহাজ থেকে জাহাজে এলপিজি স্থানান্তর ঝুঁকিপূর্ন। আবার সাগরের তীরেও এলপিজিবাহী জাহাজগুলো আনা যাবে না ড্রাফট (পানির গভীরতা) কম থাকায়। সেজন্য নতুন এই প্রযুক্তি যুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে।’

এলপিজি স্থানান্তরে দেশে টেকনিক্যালি দক্ষ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। সরকারি এই সংস্থার কর্মকর্তারাও বলছেন, সাগরে এলপিজি স্থানান্তর ঝুঁকিপূর্ন। আবার বর্ষাকালে সাগরে ঢেউ বেশি থাকে। তখন কি এলপিজি স্থানান্তর বন্ধ থাকবে? এসব চিন্তা করে তীরে কিভাবে বড় জাহাজ থেকে নিরাপদে এলপিজি স্থানান্তর করা যায় তা নিয়েই ভাবা প্রয়োজন। আবার ৫ থেকে ৬ হাজার টন ধারনক্ষমতার জাহাজ দিয়ে এলপিজি আনা হলে তা লাভজনক হবে না। তাই ৫০ থেকে ৬০ হাজার টন এলপিজি ধারনক্ষমতার বড় জাহাজ ( মাদারভেসেল) দিয়ে আনা হলে খরচ সাশ্রয়ী হয়ে থাকে।এদিকে দেশের অন্যতম জ্বালানি হাব হতে যাওয়া মহেশখালীতেও তীর পর্যন্ত জাহাজ ভেড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, সাগরের ভেতরের স্টেশনে এলপিজি বা এলএনজি স্থানান্তরের চেয়ে তীরে সরাসরি সরবরাহ করা অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত। এজন্য তীরের কাছাকাছি একটি স্টেশন বসানো লাগতে পারে। উল্লেখ্য, দেশে গ্যাসের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বাড়তি এই গ্যাসের চাহিদা মেটাতে সরকারের পক্ষ থেকে এলপিজি আমদানি শুরু করেছে। বর্তমানে বেসরকারি পর্যায়ে পুরোদমে আমদানি হচ্ছে এলপিজি। এসব এলপিজি ছোট জাহাজ থেকে সরাসরি প্ল্যান্টের স্টোরেজে নেয়া হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে মাদারভেসেল থেকে ছোট জাহাজেও এলপিজি স্থানান্তর হচ্ছে। এসব ছোটো জাহাজ আবার সরাসরি প্ল্যান্টে সরবরাহ করছে। দেশে প্রতিবছর গড়ে ১২ লাখ মেট্রিকটন এলপিজি আমদানি হয়ে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *