এভারেস্টের চেয়ে ৮২ কোটি কম দর দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে খালি কন্টেইনার সরানোর কাজ পাচ্ছে সাইফ পাওয়ারটেক

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

20 October, 2021 1 Views

1

বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বন্দরের সাধারন কার্গো বার্থ (জিসিবি) এলাকার ইয়ার্ডে খালি কন্টেইনার স্থানান্তরের কাজ পাচ্ছে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড; প্রতিষ্ঠানটি বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এর  টার্মিনাল অপারেটর। বন্দরের ডাকা উম্মুক্ত দরপত্রে সর্বনিম্ন দর দিয়ে সাইফ পাওয়ারটেক নির্বাচিত হচ্ছে। আগামী সাত বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটি বন্দরে এই কাজটি করবে; এজন্য ১১৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় হবে বন্দর তহবিল থেকে।

এতদিন বেশি দরে খালি কন্টেইনার সরানোর কাজটি করে আসছিল বন্দরের বার্থ অপারেটর এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেড। গত চার বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি এই কাজ করে আসছিল। প্রথমবার এই কাজে দরপত্র কিনে প্রতিযোগিতায় নামে সাইফ পাওয়ারটেক। এভারেস্টের চেয়ে সাইফ পাওয়ারটেক ৮২ কোটি ১৯ লাখ কম দেয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়। কিন্তু এবার প্রতিযোগিতা থাকায় কম দরে এমনকি বন্দরের পর্যবেক্ষন দরের চেয়েও কমদামে কাজটি করাতে পারছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।এতে বন্দরের প্রচুর টাকা সাশ্রয় হবে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক বলেন, ‘এখনো চুড়ান্ত অনুমোদন মিলেনি। কারিগরিভাবে যোগ্যদের মধ্য থেকে আর্থিকভাবে যোগ্যদের দর মূল্যায়ন করতে আজ ৮ ডিসেম্বর দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি কাজ করছে। সেখানে সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচন করা হবে। এরপর বন্দর থেকে প্রতিষ্ঠানের নাম প্রস্তাব করে ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখানে অনুমোদনের পর বন্দরের সাথে চুক্তির মাধ্যমে কাজ শুরু হবে।’

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের জিসিবিতে মোট জেটি আছে ১২টি; এরমধ্যে কন্টেইনার জেটি আছে ৬টি; বাকি ৬টি জেটিতে বাল্ক বা খোলা পণ্য উঠানামা হয়। ২০১৯ সালে ৬টি কন্টেইনার জেটিতে পণ্য উঠানামা হয়েছিল ১১ লাখ ৮০ হাজার একক। এরমধ্যে ৩ লাখ একক খালি কন্টেইনার ইয়ার্ডে সরানো হয়েছিল। জাহাজ থেকে পণ্যভর্তি কন্টেইনার নামিয়ে ইয়ার্ডে রাখার পর; সেখানে কন্টেইনার খুলে পণ্য বের করে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানে বন্দর থেকে সরবরাহ নেয়া হয়। এই খালি কন্টেইনার বিভিন্ন ইয়ার্ড থেকে সরিয়ে নির্ধারিত খালি কন্টেইনার রাখার ইয়ার্ডে রাখতে হয়। এই কাজটি করার জন্য বন্দর দরপত্রের মাধ্যমে অপারেটর নিয়োগ করে থাকে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, এতদিন কাজটি করে আসছিল এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস। তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এই কাজটি করার জন্য ১৪ অক্টোবর ২০২০ সালে উম্মুক্ত দরপত্র ডাকে বন্দর কর্তৃপক্ষ। সাতটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনে; এরমধ্যে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান-সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড এবং এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেড দরপত্র জমা দেয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই করে দুটি প্রতিষ্ঠানকেই কারিগরি দিক থেকে সক্ষম ঘোষনা করে।

পরে ৮ ডিসেম্বর দুই প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধির উপস্থিতিতে আর্থিক দরপত্র খোলে বন্দর কর্তৃপক্ষ। সেখানে ১১৫ কোটি ৯১ লাখ টাকায় সর্বনিু দর দেয় সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। আর এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেড দর দেয় ১৯৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। অর্থ্যাৎ এভারেস্টের চেয়ে সাইফ পাওয়ারটেক ৮২ কোটি ১৯ লাখ কম দেয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়। আগামী সাত বছরের জন্য তারা এই দরে কাজটি করবে। জানতে চাইলে এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের কর্ণধার শাহাদাত হােসেন সেলিম শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেছন, আমি আগে এই কম্পানিতে ছিলাম। ২০১৮ সালের পর থেকে আমি আর এই প্রতিষ্টানে নেই; চট্টগ্রাম বন্দরের কোন কাজেই এখন আমি যুক্ত নই।

উল্লেখ্য শাহাদাত হোসেন সেলিম এখন পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ। তিনি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সদস্য সচিব। কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন দল থেকে বেরিয়ে এসে একই নামে নতুন দল গঠন করেন আব্দুল করিম আব্বাসী ও শাহাদাত হোসেন সেলিমের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *