এবার সিঙ্গাপুর বন্দরে ২ দিনের জাহাজ জট

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

7 December, 2021 6 Views

6

বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজজট হলে ব্যাপক হৈ চৈ পড়ে যায়; উদ্বিগ্ন হন ব্যবসায়ীরা। অতিরিক্ত জটের কারণে সারচার্জ আরোপের হুমকি দেয় বিদেশি ফিডার অপারেটর বা জাহাজ পরিচালনাকারীরা। সবাই তখন উদাহরন টানেন সিঙ্গাপুর বন্দরের। এবার সেই সিঙ্গাপুর বন্দরে দেখা দিয়েছে জাহাজজট; বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কন্টেইনার জাহাজ সিঙ্গাপুর বন্দর জেটিতে ভিড়তে ২দিন অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। এরফলে পণ্য রপ্তানিতে নির্ধারিত শিডিউল ঠিক রাখা যাচ্ছে না; সিঙ্গাপুর বন্দর থেকে বড় জাহাজে করে ইউরোপ-আমেরিকার গন্তব্যে পণ্য পৌঁছানোতে ঝুঁকি তৈরী হয়েছে। একইসাথে পণ্য আমদানিতে বাড়তি সময় লাগছে আর এই খরচ যোগ হচ্ছে পণ্যের দামে।
জানা গেছে, ট্রান্সয়ার্ল্ড ফিডার অপারেটর চট্টগ্রাম-সিঙ্গাপুর রুটে চলাচলকারী জাহাজগুলোতে সারচার্জ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২০ নভেম্বর থেকে তারা সারচার্জ আদায় শুরু করতে গ্রাহকদের চিঠি দিচ্ছে। তবে বিষয়টি জানতে ট্রান্সয়ার্ল্ড ফিডার অপারেটর এর দেশিয় এজেন্ট মার্কো শিপিংয়ের সাথে যোগাযোগ করলে কেউই মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে নিশ্চিত হওয়া যায়নি কী পরিমান এবং কবে নাগাদ সারচার্জ আদায় হবে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম-সিঙ্গাপুর রুটে জাহাজ পরিচালনাকারী ফিডার অপারেটর প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, আমরা এখনো সারচার্জের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিইনি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করছি। বার্থিংয়ের অপেক্ষমান সময় অব্যাহত থাকলে আমাদের কেন্দ্রীয় অফিস চিন্তা করে সিদ্ধান্ত জানাবে।
তিনি বলছেন, কভিড-১৯ মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ আসার প্রস্তুতি হিসেবে আগের মতোই কড়াকড়ি আরোপ করছে সিঙ্গাপুর বন্দর কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে তারা কোন ধরনের ছাড় দিতে রাজি নয়। বাধ্যতামূরক কোয়ারেন্টিন, কভিড পরীক্ষা সনদসহ বিভিন্ন সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ কার্যকর করায় সাময়িকভাবে জাহাজ ভিড়তে দেরি হচ্ছে। এটি স্বাভাবিক হয়ে আসবে নভেম্বরের মধ্যেই।
জাহাজের ফিডার অপারেটররা বলছেন, কন্টেইনার জাহাজে আমদানি ও রপ্তানি দুই ধরনের পণ্য পরিবহনে চট্টগ্রাম বন্দর প্রধানত চারটি সমুদ্রবন্দরের ওপর নির্ভরশীল। এরমধ্যে সবচে বেশি ৪৪ শতাংশ পণ্য পরিবহন হয় সিঙ্গাপুর বন্দরের মাধ্যমে; ৩৭ শতাংশ পণ্য হয় শ্রীলংকার কলম্বো বন্দরের মাধ্যমে। এরপর মালয়েশিয়ার তানজুম পেলিপাস বন্দরে হয় সাড়ে ১২ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাঙ বন্দরের মাধ্যমে হয় ৭ শতাংশ। ফলে সিঙ্গাপুর বন্দরে দুদিনের জাহাজজটে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বেশি।
জানতে চাইলে একাধিক আমদানিকারক শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, সিঙ্গাপুর বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ পৌঁছতে সময় লাগে তিনদিন; সিঙ্গাপুরে যেহেতু জাহাজজট থাকে না তাই পণ্য বুকিংয়ের সময় আমরা সেই বিষয় মাথায় রেখেই পণ্য জাহাজীকরণ করি। প্রস্তুতি না থাকায় এখন জাহাজজটের কারণে রপ্তানি পণ্য নিয়ে সবচে বেশি জটিলতায় পড়েছি। চীন থেকে সবচে বেশি পণ্য আসে সিঙ্গাপুর বন্দর হয়ে। ফলে সেই বন্দরে জাহাজ ভিড়তে দেরি হওয়ায় শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে।
এর আগে শ্রীলংকার কলম্বো বন্দরে ব্যাপক জাহাজজটের কারণে সেই বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছার পর একটি কন্টেইনার জাহাজকে ৪ থেকে ৫দিন অপেক্ষার পর জেটিতে ভিড়ার সুযোগ পাচ্ছে। বাড়তি সময় বসে থাকার আর্থিক ক্ষতি পোষাতে চট্টগ্রাম-কলম্বো রুটে চলাচলকারী ফার শিপিং লাইনস গত ১ নভেম্বর চিঠি দিয়ে এই সারচার্জ আরোপের কথা সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের জানিয়ে দিয়েছে। সেখানে তারা বলেছে, ২০ ফুট পণ্যভর্তি কন্টেইনারের জন্য ৭৫ মার্কিন ডলার এবং খালি কন্টেইনারের জন্য সাড়ে ৩৭ মার্কিন ডলার সারচার্জ দিতে হচ্ছে। জিবিক্স লাইন, মায়ের্কস লাইনসহ এই রুটে চলাচলকারী অন্য শিপিং লাইনগুলো এই সপ্তাহেই সারচার্জ আরোপের চিঠি দিচ্ছে বলে জাহাজের মেইন লাইন অপারেটররা জানিয়েছেন। এখন সিঙ্গাপুর রুটের জাহাজগুলো সারচার্জ আরোপ করতে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *