এবার দুটি কন্টেইনার স্ক্যান মেশিন কিনছে চট্টগ্রাম বন্দর

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

30 June, 2022

Views

এতদিন পণ্যভর্তি কন্টেইনার স্ক্যান কেনা এবং পরিচালনার কাজটি করতো চট্টগ্রাম কাস্টমস। এই প্রথম নিজস্ব তহবিল থেকে দুটি স্ক্যান মেশিন কিনছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। মুলত স্ক্যান মেশিন কিনতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ভাবমূর্তির সংকটে পড়া থেকে বাঁচতে নিজ উদ্যোগে কন্টেইনার স্ক্যান মেশিন কিনছে বন্দর। এই মেশিন কিনলে পরিচালনার কাজটি করবে চট্টগ্রাম কাস্টমস।
দুটি স্ক্যান মেশিন কেনার জন্য গত ২১ মার্চ আর্ন্তজাতিক দরপত্র ডেকেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ১২০ দিনের মধ্যে সেই মেশিন সরবরাহের নির্দেশনা আছে। ইতোমধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনেছে। তাদেরকে নিয়ে গত ৪ এপ্রিল প্রি বিড মিটিং করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ।
তবে কন্টেইনার স্ক্যান মেশিন কেনার দরপত্র ডাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে প্রতিদ্বন্দ্বী একটি পক্ষ; যারা আমেরিকায় স্ক্যান মেশিন প্রস্তুতকারক। তাদের মতে, চীনা কম্পানি থেকে স্ক্যান মেশিন কিনলে নিরাপত্তা নিয়ে একটি সংকট তৈরী হবে। কারণ পোশাক রপ্তানির পুরোটাই ইউরোপ-আমেরিকা নির্ভর।
তবে অভিযোগ উঠা চীনা কম্পানি নুকটেক লিমিটেডের বাংলাদেশি এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, নুকটেক আর্ন্তজাতিক মানসম্পন্ন স্ক্যান মেশিন প্রস্তুতকারক। ইউরোপ-আমেরিকা ছাড়া সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইনে আমাদের স্ক্যান মেশিন ব্যবহৃত হচ্ছে। নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তারা ব্যবহার করতো না। আর চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যবহৃত সব স্ক্যান মেশিনই তো নুকটেকের। এতদিন রপ্তানি পণ্য স্ক্যান নিয়ে নিরাপত্তা প্রশ্ন উঠলে হঠাৎ কী এমন হলো যে নিরাপত্তার ঘাটতি তৈরীর অভিযোগ আসলো।
তিনি বলেন, আসলে স্ক্যান মেশিন কেনার সময় আসলে প্রায়ই এমন অভিযোগ উঠে। যেগুলোর কোন ভিত্তি নেই। আর অভিযোগটা করা হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রেপিস্ক্যান এবং এস্ট্রোফিজির পক্ষ থেকে। ফলে বুঝে নেন আসল রহস্য কী।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ২০২১ সালে ১৫ লাখ একক রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনার স্ক্যান ছাড়াই বিদেশে গেছে। এখনো রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার স্ক্যান ছাড়াই জাহাজে করে বিদেশে যাচ্ছে। এর ফলে বিপজ্জনক, নিষিদ্ধ ও অবৈধ পণ্য রপ্তানির আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। অথচ স্ক্যান মেশিন বসালে নিরাপত্তা নিশ্চিত হতো; পাশাপাশি কাস্টমসের রাজস্ব আয় হতো বছরে ৫৭ কোটি টাকা
চট্টগ্রাম বন্দরে এখন সব আমদানি কনটেইনার স্ক্যান করেই বন্দর থেকে ছাড় হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল শিপিং অ্যান্ড পোর্ট সিকিউরিটি সিস্টেম বা আইএসপিএস কোডের আওতায় ইউএস কোস্ট গার্ড অনেকবার চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করে রপ্তানি পণ্য স্ক্যান করে বিদেশে পাঠানোর চাহিদা জানায়। মূলত সেই শঙ্কা এড়াতেই রপ্তানি কনটেইনার স্ক্যান মেশিন স্থাপনে অনেকবার তাগাদা দেওয়া হয়। কিন্তু স্ক্যান মেশিন বসেনি। সর্বশেষ ২০১৯ সালে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশের সব বন্দরে স্ক্যান মেশিন কেনার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে নির্দেশ দেন। ২০২০ সাল থেকেই সেই নির্দেশনা কার্যকরের সিদ্ধান্তও জানান। এরপর রাজস্ব বোর্ড দরপত্র ডাকে; কিন্তু এখনো স্ক্যান মেশিন কিনতে পারেনি।

উল্লেখ্য, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের ১২টি গেটে স্ক্যানার আছে ৭টি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ১ নম্বর গেট এবং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ৩ নম্বর গেটে আছে এফএস ৬০০০ সিরিজের অত্যাধুনিক ফিক্সড কনটেইনার স্ক্যানার। চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ২, ৪ ও ৫ নম্বর গেটে আছে একটি করে এফএস ৩০০০ মডেলের ফিক্সড কনটেইনার স্ক্যানার। এ ছাড়া সিসিটি-২ ও জিসিবি-২ নম্বর গেটে রয়েছে একটি করে মোবাইল স্ক্যানার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.