এবার জেটিতে ভিড়াতে স্ক্র্যাপপণ্যের জাহাজ খুঁজছে চট্টগ্রাম বন্দর

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

19 October, 2021 1 Views

1

বিশেষ প্রতিনিধি

একমাস আগেও একটি স্ক্র্যাপ পণ্যবাহি বা পুরাতন জাহাজ ভাঙ্গার লোহাবাহি জাহাজ বহির্নোঙরে পৌঁছার পর চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়তে সময় লাগতো ২০ থেকে ৩০ দিন। স্ক্র্যাপ পণ্যবাহি এই জাহাজজট সামাল দিতে জাহাজ মেরামতের চট্টগ্রাম ড্রাইডকের জেটিতে জাহাজ ভিড়িয়েছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ; তাতেও পরিস্থিতি সামাল না দেয়ায় শেষমেস কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে বেসরকারী কর্ণফুলী ড্রাইডক জেটিতে জাহাজ ভিড়িয়েছে। অথচ আজকের পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টো।

বন্দর কর্তৃপক্ষ এখন একসাথে তিনটি স্ক্র্যাপ পণ্যের জাহাজ বন্দর জেটিতে ভিড়িয়েছে; যা রেকর্ড। সাধারন একটি স্ক্র্যাপ পণ্যের জাহাজ জেটিতে ভিড়ার সুযোগ পায়। এখন তিনটি ভিড়ানোর কারণে বহির্নোঙরে আর কোন স্ক্যাপ পণ্যের জাহাজ অপেক্ষমান নেই। অবস্থা এমন হয়েছে; স্ক্র্যাপ পণ্যের জাহাজ না পেয়ে জেটি খালি পড়ে আছে। এই অবস্থায় বন্দর একটি জেটিকে নিয়মিত খনন কাজ করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, বন্দর জেটিতে একটি স্ক্র্যাপ পণ্যের জাহাজ ভিড়ার সুযোগ পায়; কারণ ভোগ্যপণ্যের জাহাজকে আমাদের সবসময় অগ্রাধিকার দিতে হয়। এরপর সাধারন পণ্যের জাহাজ তালিকায় থাকে। এসব জাহাজ বহির্নোঙরে থাকলে আমরা স্ক্র্যাপ জাহাজকে অগ্রাধিকার দিতে পারি না। ফলে তখন জট লেগেছিল।

বন্দরের পরিবহন বিভাগের চৌ্কস এই কর্মকর্তা বলছেন, যখন দেখছি খোলা জাহাজ বহির্নোঙর নেই ;তখনই স্ক্র্যাপ পণ্যের জাহাজকে জেটিতে ভিড়িয়েছি। আমরা চাইলে আরো একটি জাহাজ ভিড়তে পারতাম কিন্তু সেই জাহাজ তো নেই। তাই খালি থাকা জেটিকে রক্ষনাবেক্ষন করতে খনন কাজ চালাচ্ছি। আমাদের যেহেতু জেটি সংকট আছে তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে অগ্রাধিকার তালিকা করতে হয়। চাহিদার বাড়তি জেটি থাকলে ইচ্ছেমতাে জাহাজ জেটিতে ভিড়াতে পারতাম।

জানা গেছে, বন্দর জেটিতে ভিড়তে না পারায় গত মার্চ মাসে স্ক্র্যাপ পণ্যের একটি জাহাজকে ২০ থেকে ৩০ দিন বহির্নোঙরে অপেক্ষমান থাকতে হয়েছিল। দেশের শীর্ষ শিল্পগ্রুপ বিএসআরএম এর জন্য স্ক্র্যাপ পণ্যবাহি ‘দিনা ওশান’ জাহাজও বন্দর জেটিতে ভিড়ার সুযোগ না পাওয়ায় গত ২৩ মার্চ কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে বেসরকারী কর্ণফুলী ড্রাইডক জেটিতে ভিড়েছিল। সেখানে পণ্য নামিয়ে ট্রাকে তুলে আবার কর্ণফুলি সেতু পাড়ি দিয়ে সীতাকুন্ডে নিজেদের কারখানায় নিতে হয়েছিল। এতে তাদের পরিবহন খরচ অনেক বেশি হয়েছিল। কিন্তু বহির্নোঙরে একটি জাহাজ ২০-২৫ দিন অলস বসে থাকার চেয়ে সাশ্রয় বিবেচনায় নিয়ে জাহাজ মেরামতের জেটিতে জাহাজ ভিড়িয়েছিল আমদানিকারক নিজে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় বন্দর জেটিতে জাহাজ ভিড়াতেই আগ্রহী আমদানিকারকরা।

বন্দরের এক কর্মকর্তা বলছেন, একটু বাড়তি স্ক্র্যাপ পণ্যের জাহাজ জেটিতে ভিড়তে দেরি করলে স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানিকারকরা যেভাবে হৈ চৈ শুরু করেন; চাল, ডাল, খাদ্যপণ্যের জাহাজ ভিড়তে দেরি করলে কী করতেন কে জানে? বন্দরকে আপন গতিতে চলতে দিতে হবে। তাহলে শৃঙ্খলা আসবে। এখন যেভাবে শৃঙ্খলা আসলো, সব জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারলো। এখন কিন্তু কারো প্রশংসাসূচক টু শব্দ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *