এবার চট্টগ্রাম-বার্সেলোনা, চট্টগ্রাম-রটারড্যাম কন্টেইনার জাহাজ সার্ভিস চালু হচ্ছে

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

30 June, 2022

Views

এবার ইউরোপের ব্যস্ততম দুটি সমুদ্রবন্দরের সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের সরাসরি কন্টেইনার জাহাজ সার্ভিস চালু হচ্ছে। বন্দর দুটি হচ্ছে, স্পেনের বার্সেলোনা এবং নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম বন্দর। চট্টগ্রাম থেকে সেই দুই বন্দরে সরাসরি রপ্তানি পণ্য পরিবহনে সময় লাগবে ১৯-২০ দিন। এখন সিঙ্গাপুর ও কলম্বোতে জটের কারণে ঘুরে যেতে সময় লাগছে দ্বিগুন সময় লাগছে।
আগামী মে মাসে তিনটি জাহাজ দিয়ে এই সার্ভিস চলবে; পরবর্তীতে জাহাজের সংখ্যা বাড়বে। এরমধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম-ইউরোপ রুটে জাহাজ সার্ভিস তিনটিতে উন্নীত হবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম-ইতালি রুটে দুটি কন্টেইনার জাহাজ দিয়ে চলছে একটি সার্ভিস; যেটি পরিচালনা করছে ইতালির ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠান রিফ লাইন ও তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ক্যালিপসো কোম্পানিয়া ডি নেভিগেশন।

চট্টগ্রাম থেকে ইতালিতে সরাসরি রপ্তানি পণ্য পরিবহন সেবা চালু হয় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। ছোট কন্টেইনার জাহাজে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ইউরোপে পণ্য পরিবহনের সাফল্য দেখে নতুন জাহাজ চালু করছে সুইজারল্যান্ডের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘কমোডিটি সাপ্লাইজ এজি’।
প্রতিষ্ঠানটির জাহাজগুলোর দেশিয় এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে চট্টগ্রামভিত্তিক রিলায়েন্স শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, আমরা তিনটি কন্টেইনার জাহাজ দিয়ে বার্সেলোনা এবং রটারডামে সরাসরি পণ্য পরিবহন শুরু করবো। এতে সময় লাগবে ১৯–২০ দিন। এখন ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর সিঙ্গাপুর ও কলম্বোতে জটের কারণে ঘুরপথে যেতে সময় লাগছে ৩৫–৪০ দিন।

জানা গেছে, বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানির ৪৫ শতাংশই রপ্তানি হয় ইউরোপের ২৭টি দেশে। গত ২০২০–২১ অর্থবছরে এসব দেশে ১ হাজার ৭৪৬ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানি হওয়া মোট ৭ লাখ ২৯ হাজার একক কনটেইনারের মধ্যে ৩ লাখ কনটেইনারই নেওয়া হয়েছে ইউরোপে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বর্তমানে স্পেন চতুর্থ ও নেদারল্যান্ডস অষ্টম স্থানে রয়েছে। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাস জুলাই–মার্চে স্পেনে রপ্তানি হয়েছে ২৩৮ কোটি ডলারের পণ্য। একই সময়ে নেদারল্যান্ডসে রপ্তানি হয়েছে ১৩১ কোটি ডলারের পণ্য। ইউরোপে রপ্তানি হওয়া পণ্যের সিংহভাগই তৈরি পোশাক।
এশিয়ান অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ সালাম বলছেন, এটা অবশ্যই আমাদের জন্য সুখবর। করোনা পরবর্তী এখন বাংলাদেশে প্রচুর পোশাক ক্রয়ের অর্ডার আসছে। সেই অর্ডার ধরে রেখে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে ইউরোপ সার্ভিস অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.