এবার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙের আটকা ভারতীয় ট্রানজিট চালান

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

1 February, 2023

Views

চট্টগ্রাম বন্দর জেটি থেকে গত ১৯ অক্টোবর রওনা দিলেও বহির্নোঙের গিয়ে আটকা পড়েছে ট্রানজিট পণ্যের চালানটি। শুক্রবার পর্যন্ত ট্রানজিট চালানসহ অন্য পণ্যভর্তি জাহাজ ‘ট্রান্সসামুদেরা’ সাগরে রয়েছে। আগামী রবিবার নাগাদ সেটি কলকাতা শ্যামাপ্রাসাদ সমুদ্রবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।

৩৪ দিন পর চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়েছিল ট্রানজিট পণ্যের চালানটি। ভারতের মেঘালয় থেকে চা পাতা বোঝাই ট্রানজিট পণ্যের ওই চালান চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছিল গত ১৫ সেপ্টেম্বর। ২০সেপ্টেম্বর ট্রান্সসামুদেরা জাহাজে করে সেটি কলকাতা শ্যামাপ্রাসাদ মুখার্জি বন্দরে রওনা দেয়ার শিডিউল ছিল কিন্তু কারিগরি ত্রুটির কারণে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে ছাড়তে পারেনি। এরপর থেকেই চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে আটকা পড়ে।

মেরামত শেষে ট্রান্সসামুদেরা জাহাজটি গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ট্রানজিটসহ অন্য পণ্যবোঝাই করে জাহাজটি কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে ঠিকই কিন্তু বহির্নোঙরে গিয়ে আবারো আটকে গেছে।

জানতে চাইলে ট্রান্সসামুদেরা জাহাজের শিপিং এজেন্ট ম্যাঙ্গো লাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াকুব সুজন ভূঁইয়া বলেন, জাহাজে নতুন একজন মাস্টার যোগ দিবেন আগামী রবিবার। জাহাজটি তখনই রওনা দিবে ততদিন পর্যন্ত বহির্নোঙরেই থাকবে পণ্যসহ জাহাজটি।

৩৪ দিন চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে পড়ে থাকার কারণে বিপুল মাশুল গুনতে হবে এই ট্রানজিট চালানকে। সাধারনত তিনদিন ফ্রি টাইমের পরই নির্দিষ্ট হারে মাশুল দিতে হয় বন্দরকে। চালানটি জাহাজে উঠার পরই বিল করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ফলে মোট কত মাশুল আসবে তার হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

ইয়াকুব সুজন ভূঁইয়া বলেন, রপ্তানি পণ্য কখনোই এতদিন থাকে না। বেসরকারী ডিপো থেকে জেটিতে এসে দিনে দিনেই বোঝাই হয়ে যায়। ট্রানজিট পণ্যের রপ্তানি চালান হ্যান্ডলিং আমাদের জন্যও নতুন। ফলে এতদিন বন্দরে থাকার কত মাশুল আমরা এখনো জানি না। বন্দর বিল দিলেই আজকে জানতে পারবো।

তিনি বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর ট্রানজিটের চালানটি সড়কপথে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। কিন্তু চট্টগ্রাম-কলকাতা রুটে আর কোন জাহাজ এই মুহুর্তে চলাচলে না থাকায় ট্রান্সসামুদেরা জাহাজের ওপর নির্ভর করেই থাকতে হয়েছে ট্রানজিট চালানটিকে।

উল্লেখ্য, এর আগে কলকাতা বন্দর থেকে রওনা দিয়ে মাত্র ৪৮ ঘন্টায় গত ৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছিল ট্রানজিটের একটি চালান। সেটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সড়কপথে রওনা দিয়ে সিলেটের শ্যাওলা স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের আসামে পৌঁছেছিল। সেখানে সময় লেগেছিল ২০ ঘন্টার মতো। সবমিলিয়ে কলকাতা থেকে চট্টগ্রাম-সিলেট হয়ে আসাম পৌঁছতে তিনদিন সময় লেগেছিল। কিন্তু ফিরতি চালানে শুধু বাংলাদেশ সীমান্ত পাড়ি দিতেই ৩২দিন লাগলো।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, এখনকার চালানে যে বাড়তি সময় ও খরচ লাগছে সেটি কারিগরি ত্রুটির কারণে। আমি নিশ্চিত ট্রানজিটের খরচ-সময় যখন হিসাব করা হবে তখন অবশ্যই এই বাড়তি হিসাব যোগ করা হবে না। কারণ সবসময় তো আর দুর্যোগ কিংবা কারিগরি ত্রুটি সেটি হবে না।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, চট্টগ্রাম-কলকাতা রুটে এখন মাত্র একটি কন্টেইনার জাহাজ ‘ট্রান্সসামুদেরা’ পণ্য পরিবহন চালু রেখেছে। এর আগে একটি জাহাজ ছিল মেরিন ট্রাস্ট-১ জাহাজ; সেটি কলকাতা বন্দর গিয়ে কাত হয়ে ডুবে যায়। এরপর থেকেই সেই জাহাজটি অচল আছে। ফলে চট্টগ্রাম-কলকাতা পণ্য পরিবহনের জন্য এখন একটি জাহাজই ভরসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.