এপ্রিলে রপ্তানি কমার কারণ সাতটি ভয়েজ রপ্তানি পণ্য না নেয়া

0
628

বিশেষ প্রতিনিধি
মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিল মাসের আমদানি দেড় হাজার একক কন্টেইনার বাড়লেও রপ্তানি কমেছে। রপ্তানির প্রচুর চাহিদা থাকার পরও মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিল মাসে রপ্তানি ৫ হাজার একক কন্টেইনার কমেছে। যদি ২০১৯ এবং ২০২০ সালের এপ্রিল মাসের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে।
জাহাজের মেইন লাইন অপারেটররা বলছেন, চট্টগ্রাম থেকে প্রচুর রপ্তানির চাহিদা আছে  জেটিতে ভিড়তে জাহাজের একটু বাড়তি সময় লাগা এবং এপ্রিল মাসে জাহাজের অন্তত সাতটি ভয়েজ রপ্তানি পণ্য না নিয়েই বন্দর ছেড়েছে। ফলে রপ্তানি কম হয়েছে।
জানতে চাইলে জিবিক্স লজিস্টিকসের অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনতাসির রুবাইয়াত বলছেন, আমরা দেখেছি এপ্রিল মাসে চারটি কন্টেইনার জাহাজ অন্তত সাতটি ভয়েজ চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্য নিয়ে ভিড়েছে কিন্তু কোন রপ্তানি পণ্য না নিয়েই বন্দর ছেড়ে গেছে। এসব জাহাজের প্রতিটিতে অন্তত আটশ একক কন্টেইনার রপ্তানি পণ্য নিলে সাড়ে ৫ হাজার একক রপ্তানি পণ্য চট্টগ্রাম থেকে যেতো। এই পণ্য এপ্রিল মাসের পণ্য ঊঠানামার তালিকায় যুক্ত হতো। এখন তা হয়নি।
তিনি বলছেন, বন্দরে প্রতিমাসে কত জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারবে তার নির্ধারিত সংখ্যা আছে। মার্চ মাসে ১১৫টি কন্টেইনার জাহাজ ভিড়েছে; এপ্রিলে ভিড়েছে ১১১টি। এপ্রিলে এমনিতেই জাহাজ কম ভিড়েছে, তার ওপর সাতটি জাহাজ রপ্তানি পণ্য না নিয়েই বন্দর ছাড়ায় রপ্তানির সংখ্যা কম হয়েছে।
মার্চের মতো এপ্রিল মাসে রপ্তানির চাপ আছে সেটি কিভাবে বুঝবো জানতে চাইলে শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের পরিচালক মুনতাসির রুবাইয়াত বলছেন,  দেখুন মে মাসে প্রতিটি জাহাজে বিপুল পরিমান রপ্তানি পণ্য নিয়ে বন্দর ছাড়ছে জাহাজ। মে মাসে দুটি জাহাজ তো দেড় হাজার একক রপ্তানি নিয়ে বন্দর ছেড়েছে। রপ্তানির চাপ আছে বলেই এত পণ্য নিচ্ছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রপ্তানির চিত্র থেকেই গোটা দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, গতি-প্রকৃতি নিয়ে আঁচ করা যায়। ২০১৯ সালে এপ্রিল মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রায় ৫৩ হাজার একক রপ্তানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার গেছে। ২০২০ সালে কভিড মহামারি লকডাউনের ধাক্কায় রপ্তানিতে ব্যাপক ধ্বস নেমে এপ্রিল মাসে ১৩ হাজার এককে নেমেছিল। সে হিসেবে ২০২১ সালের এপ্রিলে রপ্তানি হয়েছে ৫৫ হাজার ৮৮৩ এককে।
পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত জাহাজের মেইন লাইন অপারেটরদের হিসাবে, ২০২১ সালের মার্চে আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার এসেছে ১ লাখ ১৭ হাজার একক। আর রপ্তানি ছিল ৬০ হাজার ৮৫২ একক। ফেব্রুয়ারিতে আমদানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার এসেছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ৭শ একক; আর রপ্তানি ছিল ৫৭ হাজার ৮৫৪ একক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here