এখন চট্টগ্রাম থেকে রপ্তানি পণ্য ইউরোপ যাচ্ছে ভারতের কৃঞ্চপাটনাম বন্দর দিয়ে

0
63

বিশেষ প্রতিনিধি
সিঙ্গাপুর-কলম্বোর মতো ট্রান্সশিপমেন্ট  বন্দরের জাহাজজট এড়িয়ে ভারত হয়ে পণ্য ইউরোপ -আমেরিকা পাঠাচ্ছে দেশের কয়েকটি শিপিং লাইন। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দ্রুত রপ্তানি পণ্য পাঠাতে শিপিং লাইনগুলো ভারতের কৃঞ্চপাটনাম বন্দরকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
গত ৯ জুলাই এ নৌপথে ‘এসএসএল কচি’ জাহাজে একসাথে ৫১৫ একক রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়ে কৃঞ্চপাটনাম বন্দরে পৌঁছে। সেখান থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে জাহাজটি চট্টগ্রাম পৌঁছবে আগামী ১৯ জুলাই। এরপর রপ্তানি পণ্য নিয়ে পুণরায় চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়বে।
চট্টগ্রাম থেকে ভারতের কৃষ্ণপাটনাম রুটে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক কনটেইনার আনা-নেওয়া হচ্ছে জার্মান শিপিং কোম্পানি হ্যাপাগ লয়েডের মাধ্যমে। হ্যাপাগ লয়েডের বাংলাদেশের মহাব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, কৃষ্ণপাটনাম বন্দর থেকে চেন্নাই ও কলম্বো হয়ে সপ্তাহে এক দিন বড় জাহাজ (মাদার ভ্যাসেল) ইউরোপে যায়। সিঙ্গাপুর-কলম্বোতে কনটেইনারের জট রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক সংকটের কারণে নিয়মিত পথের পাশাপাশি এ পথে কনটেইনার আনা-নেওয়া বেড়েছে। সংকটের সময় গ্রাহকদের সেবা দিতে বিকল্প পথে রপ্তানি পণ্য পরিবহনের চেষ্টাই এ সময়ে স্বস্তির খবর।
জানা গেছে, গত ৯ জুলাই এ নৌপথে ‘এসএসএল কচি’ নামের জাহাজটি ৫১৫ একক রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার নিয়ে বন্দর ছেড়ে গেছে। এর আগে জুন মাসে তিনটি জাহাজে এ নৌপথে ১ হাজার ১৭৯ একক কনটেইনার রপ্তানি হয়েছে। এর আগে মে মাসে ৩১৮ একক, এপ্রিলে ৪৫৩ একক, মার্চে ৪৮৫ একক কনটেইনার রপ্তানি হয়। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ একক কনটেইনার রপ্তানির হচ্ছে; সেই তুলনায় ভারত হয়ে রপ্তানির সংখ্যা খুবই কম। এরপরও সংকটের এই সময় এ ধরনের বিকল্প পথে কিছু কনটেইনার রপ্তানি হলে চাপ কমবে বলে মনে করছেন শিপিং এজেন্টরা।
কন্টেইনার ডিপো মালিকরা বলছেন, কারখানায় পণ্য উৎপাদিত পণ্য জাহাজীকরনের আগে ১৮টি বেসরকারী কন্টেইনার ডিপােতে নেয়া হয়। সেখানে কাস্টমসের যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে কার্টনগুলো কন্টেইনারে বোঝাই করা হয়। সে হিসেবে কন্টেইনার ডিপােতে গতকাল ১৭ জুলাই পর্যন্ত রপ্তানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার ছিল ১৫ হািজার ৭৬৪ একক। আর গত ১৬ জুলাই   ছিল ১৫ হাজার ৫৫৬ একক।  ১৫ জুলাই পর্যন্ত রপ্তানি কন্টেইনারের সংখ্যা বাড়ছিল। কিন্তু গতকাল ১৫ জুলাই থেকে কমতে শুরু করে। এর মুল কারণ জেটিতে বাড়তি জাহাজ ভিড়ানো এবং ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরে নতুন জাহাজের অনুমোদন এবং ভারত হয়ে পণ্য রপ্তানি অন্যতম।
গত ১৫ জুলাই ডিপোতে রপ্তানি কন্টেইনার ছিল ১৬ হাজার ৪৯১ একক। অথচ ১৩ জুলাই ছিল ১৫ হাজার ৩১৪ একক। আর  ৮ জুলাই ছিল ১২ হাজার ২২৩ একক। এই তথ্যই প্রমান হচ্ছে ডিপাে থেকে রপ্তানি কন্টেইনার কমছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here