‘এক্সপ্রেস কহিমা’ জাহাজের বুকিং করা রপ্তানি পণ্যের কী হবে? বিশেষ প্রতিনিধি

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

25 September, 2022

Views

বিদেশি কন্টেইনার জাহাজ এক্সপ্রেস কহিমা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১৩শ একক রপ্তানি পণ্য বোঝাই করে শ্রীলংকার কলম্বো বন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার শিডিউল ছিল। জাহাজটি বন্দরের চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনালের জেটিতে রপ্তানি পণ্য বোঝাই করছিল ১৮০ একক কন্টেইনার বোঝাই করা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বন্দর ছাড়ার আগেই গত ৩০ মে জাহাজটিকে আচমকা এসে ধাক্কা দেয় ট্যাংকার জাহাজ ‘মদিনা-৭’। জেটিতে থাকা জাহাজকে ধাক্কা দেয়ায় কহিমা জাহাজের পাশে বড় আকারের ফুটো হয়ে যায়। অচল হয়ে পড়ে জাহাজটি। এই অবস্থায় জাহাজটিতে পণ্য উঠানাে স্থগিত করে মেরামতের জন্য পাঠানো হয়।
জাহাজটি সচল না হয়া পর্যন্ত বুকিং থাকা রপ্তানি কন্টেইনারের কী হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরী হয়েছে।
জানতে চাইলে জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট সী কনসোর্টিয়ামের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মাইকেল রুদ্রিগ্রেজ বলেন, ৬জুন পর্যন্ত লাগতে পারে জাহাজটি মেরামতে। এরপর অন্য প্রক্রিয়া শেষ করে জাহাজটি বন্দরে আনা গেলে ততদিন পর্যন্ত বুকিং থাকা রপ্তানি কন্টেইনার থাকবে কিনা তো জানি না। তবে এতে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেল। জাহাজটি সচল না হয়া পর্যন্ত তো জাহাজে থাকা ১৮০ কন্টেইনার নামানো সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, এখনো আমরা ক্ষতির পরিমান কত জানি না। এটি জরীপ করছে পৃথক একটি টীম।

জানা গেছে, মদিনা-৭ নামের লাইটার ট্যাংকার জাহাজটি আটক করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। জাহাজটির মালিক ঢাকার সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম। সার্ভে টীম আর্থিক ক্ষতি নিরুপনের পরই জাহাজটির ক্ষতিপুরণ দিতে হবে হাজী সেলিমকে।

এদিকে ১৮শ একক রপ্তানি কন্টেইনার সঠিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়তে না পারায় বিদেশি ক্রেতার কাছে পৌঁছানো বিলম্বিত হয়েছে। এসব কন্টেইনারভর্তি পণ্য চট্টগ্রাম থেকে ছেটা কন্টেইনার জাহাজে কলম্বো গিয়ে সেখান থেকে বড় জাহাজে ইউরোপ-আমেরিকা যায়ার কথা ছিল। কিন্ত দুর্ঘটনায় সব এলোমেলো হলো।

তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, উপর্যুপরি দুটি দুর্ঘটনায় দুটি জাহাজে দুই হাজারেরও বেশি রপ্তানি পণ্য বোঝাই কন্টেনার আটকা পড়েছে। এর ৮০ শতাংশেরও বেশি তৈরি পোশাক। এসব পোশাক তৈরি এবং রপ্তানি করলেও তা সময়মতো না ক্রেতার কাছে না পৌঁছায় আমরা পেমেন্ট পাচ্ছি না।

তিনি বলেন, ইউরোপ, আমেরিকার পোশাকগুলো সিজননির্ভর। দুই–চারদিন এদিক–ওদিক হলেও অনেক সময় তারা পণ্য রিসিভ করে না। দর কমাতে বাধ্য করে। এই দুটি জাহাজের পণ্যগুলোর ভাগ্যে কী ঘটবে তা নিয়ে শিল্পপতিদের মাঝে উদ্বেগ রয়েছে। এই ধরনের অনাকাক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.