একসাথে ১৩ কন্টেইনার জাহাজ বার্থিং দিচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

5 December, 2021 0 Views

0

বিশেষ প্রতিনিধি
একসাথে ১৩টি কন্টেইনার জাহাজ জেটিতে বার্থিং দিচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর; যা চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য নতুন রেকর্ড। সাধারন সময়ে ১০টি কন্টেইনার জাহাজ জেটিতে ভিড়ানো  হতো; বাকি গুলো খোলা পণ্যের জাহাজ ভিড়তো। কিন্তু খোলা পণ্যের (বাল্ক) জাহাজ কমে আসায় বাড়তি কন্টেইনার জাহাজ ভিড়ার সুযোগ দিচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বাড়তি কন্টেইনার জাহাজ ভিড়ার সুযোগ দেয়ায় ব্যাপক খুশি জাহাজ এবং কন্টেইনার পরিচালনাকারী কম্পানিগুলো। তারা বলছেন,  আমদানি পণ্য দ্রুত ছাড় করা সম্ভব হবে ; এতে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা তৈরী হবে।আর রপ্তানি পণ্য নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতার কাছে পৌঁছবে। সবচে বড় বিষয় চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবর্মূতি বিশ্বে উজ্জ্বল হবে। খরচ কমে আসায় নিজেদের মধ্যে খরচ কমানোর প্রতিযোগিতা হবে। আর সুফল ভোগ করবেন ব্যবসায়ীরাই।
বাড়তি কন্টেইনার জাহাজ ভিড়ার সুযোগ দেয়ায় জাহাজের পরিচালন ব্যয় অনেক কমে আসবে জানিয়ে জিবিক্স লজিস্টিকসের অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনতাসির রুবাইয়াত শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, চট্টগ্রাম-সিঙ্গাপুর-চট্টগ্রাম রুটে একটি জাহাজ রাউন্ড ট্রিপের জন্য আমরা ১৬দিন ধরে সবকিছু হিসাব করি। কন্টেইনার জট থাকলে প্রতিদিনের জন্য জাহাজের মানভেদে সাড়ে ৮হাজার মার্কিন ডলার থেকে ১০হাজার মার্কিন ডলার বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়। এখন ১৬দিনের স্থলে আমরা ১৩দিনেই জাহাজ রাউন্ড ট্রিপ করতে পারছে। ফলে তিন দিন সাশ্রয় হচ্ছে।
তিনি বলছেন, ওই তিনদিনের জন্য আমাদের জাহাজ ভাড়া এবং জ¦ালানি তেল (বাংকারিং) খরচ বাবদ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার সাশ্রয় হচ্ছে। এই সাশ্রয়ের সুফল সবাই ভোগ করেেব তাই সব মিপিং কম্পানির মধ্যে কম ভাড়া দেয়ার প্রতিযোগিা তৈরী হবে। আর সুফল ভোগ করবেন আমদানি-রপ্তানি খাতের ব্যবসায়ীরাই।
জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে বাড়তি কন্টেইনার জাহাজ ভিড়ার সুযোগ দিচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। মুলত সাধারন কার্গো জাহাজ কমে আসায় সেসব জেটিতেই কন্টেইনার জাহাজ ভিড়ার সুযোগ দিচ্ছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। গত সোমবার ও মঙ্গলবার দুদিনই প্রতিদিন ১৩টি কন্টেইনার ভিড়ানোর সুযোগ দেয়া হয়েছে। এরফলে বহির্নোঙরে কোন কন্টেইনার জাহাজ বসে থাকতে হচ্ছে না। পণ্যবাহি কন্টেইনার জাহাজ বহির্নোঙর থেকে সরাসরি ‘অন এরাইভাল’ জেটিতে ভিড়ার সুযোগ পাচ্ছে। গত সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরে মাত্র ৬ ঘন্টার ব্যবধানে কন্টেইনার জাহাজ বার্থিং পেয়েছে ‘মানাতি’; জাহাজটি শ্রীলংকার কলম্বো বন্দর থেকে বহির্নোঙরে পৌঁছে গত সোমবার সকাল ৯টায়; আর সেদিন বিকাল ৩টায় জাহাজটি জেটিতে ভিড়ে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে তিনদিন বহির্নোঙরে জাহাজকে অপেক্ষায় থাকতে হতো। বাড়তি কন্টেইনার জাহাজ ভিড়তে দেয়ায় এই তিনদিন সময় সাশ্রয় হচ্ছে।
পিআইএল বাংলাদেশের মহাব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ জহীর শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, একসাথে ১৩টি কন্টেইনার জাহাজ বার্থিং দেয়ার ঘটনা বিরল। আমরা ১১টি পর্যন্ত কন্টেইনার জাহাজ বার্থিং দেখেছি। যদিও এটি সবসময়ের জন্য নয় কিন্তু আমরা তো সুফল পাচ্ছি। বাড়তি জাহাজ বার্থিং দেয়ায় আমদানিকারকরা অনটাইমে পণ্য পাবেন; রপ্তানিকারকরা নির্ধারিত সময়ে পণ্য বিদেশি ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে পারবেন। বন্দর ঘিরে দুশ্চিন্তা কমে যাবে। একইসাথে চট্টগ্রাম বন্দর যদি অন এরাইভাল বন্দর হয়ে উঠে তাহলে কি বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বন্দরের পণ্য উঠানামা এবং স্থানান্তরে আধুনিক যন্ত্রপাতি যোগ হওয়া, বন্দরের কন্টেইনার রাখার স্থান বেড়ে যাওয়া এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় উন্নতির কারণেই জাহাজ দ্রুত এসে দ্রুত চলে যাওয়ার সুযোগ তৈরী হয়েছে। আমরা সেই ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *