ইয়েমেনে বিদ্রোহিদের জিম্মি থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরছেন চট্টগ্রামের পাঁচ নাবিক

0
858

বিশেষ প্রতিনিধি
মধ্যপ্রাচ্যের ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হলেন চট্টগ্রামের পাঁচ নাবিক। নয়মাস আগে বাংলাদেশিসহ ১৫ নাবিককে জিম্মি করে মুক্তিপন দাবি করে বিদ্রোহিরা। বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ কূটনৈতিক তৎপরতায় অবশেষে এই নাবিকরা হুতি বিদ্রোহীদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছেন গত ২ ডিসেম্বর। মুক্তির পর ইয়েমেনের রাজধানী সানার একটি হোটেলে রাখা হয়েছিল; সেখান থেকে গতকাল ৪ ডিসেম্বর সব এই নাবিকদের ইয়েমেনের সরকার নিয়ন্ত্রিত শহর এডেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আগামী সপ্তাহেই চট্টগ্রামের পাঁচ নাবিক দেশে ফিরবেন বলে আশা করছে বাংলাদেশ সরকার।

হুতি বিদ্রোহীদের হাতে জিম্মি থাকা পাঁচ নাবিক হলেন, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, মোহাম্মদ ইউসুফ, রহিম উদ্দিন, মোহাম্মদ আলমগীর ও আবু তৈয়ব। ওমানের ‘মাসিরা’ নামের একটি জাহাজ কম্পানিতে কাজ করতেন তারা। মোট ১৫ নাবিক ওমান থেকে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে পৌঁছানোর পর এই নাবিকেরা খবর পান লোহিত সাগরে একটি জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছে। সেই জাহাজের নাবিকদের উদ্ধার করার জন্য তাদের জাহাজটি ইয়েমেন উপকূলে নোঙর করে। এর একপর্যায়ে হুতি বিদ্রোহীরা জাহাজে থাকা নাবিককে বন্দি করে। পরে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানায়। সেই থেকে নয়মাস নাবিকেরা বন্দি ছিলেন হুতি বিদ্রোহীদের বন্দিশালায়।

পরে এই বন্দিদের মুক্তিপন দাবি করলে জাহাজ কোম্পানি কিছু অর্থ বিদ্রোহিদের পরিশোধ করে। এদের মধ্যে বাংলাদেশি একজন নাবিক দুই মাস আগে হুতিদের বন্দিশালা থেকে মোবাইলে যোগাযোগ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে। এরপর শুরু হয় অন্য প্রচেষ্টা। মধ্যপ্রাচ্যের ওমান ও কুয়েত দূতাবাস তাদের মুক্ত করতে তৎপর হয়ে ওঠে। বন্দিদের মধ্যে যেহেতু ছিল ভারতীয় নাগরিকও, সে কারণে আফ্রিকার জিবুতির ভারতীয় দূতাবাসও এই প্রচেষ্টায় যোগ দেয়।

দুদেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রায় দুই মাসের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বন্দিরা সবাই মুক্ত হয়। ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে এই বন্দিরা এডেন শহরে যায়; সেখান থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশের পাঁচ নাবিকই আন্তর্জাতিক শরণার্থী সংস্থার সহায়তায় ভারতের রাজধানী দিল্লি হয়ে বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here