ইংল্যান্ডের ফেলিক্সটো সমুদ্রবন্দরে জট; আটকা পড়েছে বাংলাদেশিসহ বিপুল রপ্তানি পণ্য

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

7 December, 2021 22 Views

22

যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম বাণিজ্যিক বন্দর পূর্ব ইংল্যান্ডের ফেলিক্সটো সমুদ্রবন্দরে বিপুল পরিমাণ কনটেইনার আটকা পড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসব পণ্যভর্তি কন্টেইনার জাহাজ থেকে নামানোর পর সেগুলো বন্দর থেকে বের করা সম্ভব হচ্ছে না। এই অবস্থায় ক্রিসমাসের জন্য আমদানি করা বিপুল পণ্য বন্দরে আটকা পড়েছে; এরমধ্যে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো রপ্তানি পণ্যও আছে।
ক্রিসমাস ঘিরে এসব পণ্য পাঠানো হয়েছিল; উদ্দেশ্য নভেম্বরেই যাতে যুক্তরাজ্যের ব্রান্ডেড শো রুমে বিক্রি সম্ভব হয়। কিন্তু কন্টেইনার জটের কারণে সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।
গার্মেন্ট ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমইএ’র এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেছেন, এখন আমাদের কোন দায় নেই, ক্ষতি নেই। কারণ পণ্যগুলো তাদের বন্দরে ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছে। প্রায় সময়ই বাংলাদেশে সামান্য ঘটনা ঘটলে পণ্য পৌঁছাতে বিলম্ব হলে বিদেশি ক্রেতারা ডিসকাউন্ট চান। এখন তারাই সেই সংকটে পড়েছে। এতে আমরা খুশি নই; বরঞ্চ দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি চাইছি।

সংবামাধ্যম এপি’র প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ব্রিটিশ বন্দরে চলমান পণ্যজট ক্রিসমাসের ছুটির সময়গুলোয় খেলনা ও খাবারের মতো পণ্যের ঘাটতি তৈরি করতে পারে। কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাজ্যের জ্বালানি তেল ও গ্যাস স্টেশনে দীর্ঘ সারি এবং সুপারমার্কের তাকগুলো খালি হয়ে পড়েছে। ক্রিসমাসের কেনাকাটার মৌসুমের আগে এ সংকট আরো ঘনীভূত হতে পারে। একটি সমীক্ষা বলছে, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ক্রিসমাস পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের আমদানি করা প্রায় ১৫০ কোটি পাউন্ডের পণ্য সরবরাহ বিলম্বের মুখোমুখি হবে।

কভিডজনিত বিপর্যয় কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনীতি। দীর্ঘদিনের ঘরবন্দি অবস্থা শেষে সৃষ্টি হয়েছে তুমুল ভোক্তা চাহিদা। এমন পরিস্থিতিতে জটিলতা দেখা দেয় সরবরাহ চেইনে। এরই মধ্যে পণ্যজট সৃষ্টি হয়েছে যুক্তরাজ্যের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক বন্দরে। ফেলিক্সটো বন্দরটি দেশটির পণ্যবাহী কনটেইনারের ৩৬ শতাংশ পরিচালনা করে। কনটেইনার জটের কারণ হিসেবে ট্রাকচালক ঘাটতিকে দায়ী করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি বিশ্বের বৃহত্তম শিপিং কোম্পানি মায়ের্কস লাইনকে তার কিছু বড় জাহাজ ইউরোপীয় বন্দরে সরিয়ে নিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ঝুঁকি মডেলিং কোম্পানি রাসেল গ্রুপের একটি সমীক্ষা বলছে, ফেলিক্সটোয় জটের কারণে ক্রিসমাস পর্যন্ত ১৫০ কোটি পাউন্ডের পণ্য সরবরাহে বিলম্বের সৃষ্টি হবে। এ জটের কারণে সবেচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে পোশাক আমদানি। ক্ষতির মুখে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে এশিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে পোশাক আমদানি করা হাই স্ট্রিটের কিছু নামি ব্র্যান্ড। এরমধ্যে আসদা, টেসকো, জন লুইস ও মার্কস অ্যান্ড স্পেন্সারের (এমঅ্যান্ডএস) মতো খুচরা বিক্রেতারা বন্দর ব্যাঘাতের সবচেয়ে বেশি বাধার মুখে পড়বে। প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল পরিমাণ পোশাক আমদানি করে থাকে।

রাসেল গ্রুপ জানিয়েছে, সুপার মার্কেট চেইন আসদার আমদানি করা ৪ কোটি ৬২ লাখ পাউন্ডের পোশাকে বন্দর বিলম্বের প্রভাব পড়তে পারে। টেস্কোর ক্ষেত্রে এ হিসাব ৩ কোটি ৩৭ লাখ পাউন্ড এবং জন লুইস ও এমঅ্যান্ডএসের প্রত্যেকের ২ কোটি ৯৩ লাখ পাউন্ডের পোশাক সরবরাহে বিলম্বের প্রভাব পড়বে।

ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়ামের খাদ্য ও টেকসই-বিষয়ক পরিচালক অ্যান্ড্র অপি বলেন, চালক ঘাটতির কারণে সৃষ্ট ফেলিক্সটোয় পণ্যজট আরেকটি অযাচিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। এ পরিস্থিতি আগামীতে আরো খারাপ হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। যদিও সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। আরো দেশীয় ট্রাকচালককে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে এবং বিদেশী চালকদের টানতে কয়েক হাজার স্বল্পমেয়াদি ভিসার ঘোষণা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকার। তবে ভিসাগুলো কয়েক মাসের জন্য হওয়ায় কতজন কর্মী এতে আকৃষ্ট হবেন তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এছাড়া পণ্য ও চালকদের ঘাটতি এমন একসময়ে আসছে, যখন সরবরাহ চেইনের সমস্যাগুলোর কারণে ব্রিটিশ অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এরই মধ্যে গতি হারাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *