আসলেই খালি কন্টেইনার সংকট আছে? ৪০ হাজার খালি কন্টেইনার আছে চট্টগ্রাম বন্দর-অফডকে

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

25 October, 2021 1 Views

1

বিশেষ প্রতিনিধি
এই মুহুর্তে চট্টগ্রাম এবং বিভিন্ন কন্টেইনার ডিপোতে ৪০ হাজার একক খালি কন্টেইনার আছে। ফলে খালি কন্টেইনার সংকটে রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণ ব্যাহত হওয়ার বিজিএমইএ এবং বিকডার অভিযোগের সত্যতা নিয়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ ডিপোতে যে পরিমান রপ্তানি পণ্য জমা আছে; তার চেয়ে অনেক বেশি খালি কন্টেইনার রয়েছে।
বিকডার হিসাবমতে, ৮ জুলাই পর্যন্ত তাদের ১৮ ডিপোতে সাড়ে ৩৩ হাজার খালি কন্টেইনার আছে; আর রপ্তানি কন্টেইনার জমা আছে মাত্র ১২ হাজার ২২৩ একক। এর বাইরে চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডে রয়েছে অনেক খালি কন্টেইনার। ফলে বিকডার তথ্যেই সত্যতা মিলছে না।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক গতকাল লিখিত তথ্য দিয়ে বলেছেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর এবং অফডক সমূহে প্রায় ৪০ হাজার এককের বেশি খালি কন্টেইনার সংরক্ষিত আছে তন্মধ্যে বিভিন্ন কন্টেইনার ডিপাতে ১৩ হাজার ৬৪৭ টি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের এবং ১২ হাজার ৬৮৯ টি ৪০ ফুট দীর্ঘ কন্টেইনার রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে ২ হাজার ৪৩১ টি  ২০ ফুট দীর্ঘ এবং ১ হাজার ৪৭৭ টি ৪০ ফুট দীর্ঘ খালি কন্টেইনার রয়েছে। তাই বন্দরে খালি কন্টেইনারের কোন সংকট পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বাংলাদেশে বিভিন্ন জাহাজের মেইন লাইন অপারেটর (এমএলও) গণের যে খালি কন্টেইনার রয়েছে, তা পরস্পরের মধ্যে ‘ডিরেক্ট ইন্টারচেঞ্জ’ এর মাধ্যমে সমন্বয় করে ব্যবহার করলে  ক্রমবর্ধিষ্ণু  রপ্তানী চাহিদা খুব সহজেই পুরণ করা সম্ভব।

বন্দরের এমন তথ্যের পর অভিযোগকারী বন্দর ব্যবহারকারীরা নড়েচড়ে বসেছে। তারা এখন ভুল বুঝতে পেরে তারা এখন বলছে, কন্টেইনার ডিপাে মালিকদের পক্ষ থেকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
এই অভিযোগের সত্যতা মিলেছে, গত বুধবার নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষ থেকে ‘চট্টগ্রাম বন্দরে রপ্তানীপণ্য জাহাজীকরণ সংক্রান্ত’ এক ভার্চুয়াল সভার আলােচনায়। বিকডা সেক্রেটারি রুহুল আমিন সিকদার এতদিন অভিযোগ করে আসছিলেন, ১৮টি অফডকে ১৪ হাজার একক রপ্তানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার আটকে ছিল।কারণ দেশে খালি কন্টেইনার সংকট ছিল। অভিযোগের দুদিনর পর গত বুধবার এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানতে চাইলে বিকডা সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান বলছেন, অফডকে শুধুমাত্র ৬ হাজার একক রপ্তানি কন্টেইনার পড়েছিল। এই কথা শুনে ভার্চুয়াল সভায় উপস্থিত অনেকেই হাসাহাসি করেন। এরপরই মুলত নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয় বিবৃতি দিয়ে বলেছে চট্টগ্রাম বন্দরে কোন খালি কন্টেইনার সংকট নেই।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, দুদিনের ব্যবধানে অফডক থেকে ৮ হাজার রপ্তানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার কোথায় ছিল? মুলত বিকডাই বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে।কেন তারা এই কাজটি করেছে সেটি তদন্তের দাবি উঠেছে।
জানতে চাইলে বিকডা সেক্রেটারি রুহুল আমিন সিকদার অবশ্য বলছেন, রপ্তানি পণ্যের যে হিসাব সভাপতি দিয়েছেন সেটি বক্সের, টিইইউএসে নয়। টিইইউএস অনুযায়ী ৮ জুলাই পর্যন্ত রপ্তানি কন্টেইনার জমে ছিল ১২ হাজার ২২৩ একক। আর ডিপােতে খালি কন্টেইনার ছিল ৩৩ হাজার ৬০৭ একক।
রপ্তানির চেয়ে বেশি খালি কন্টেইনার থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে দেখতে হবে কোন কন্টেইনার লাইনের কত খালি কন্টেইনার আছে। কারণ এক লাইনের কন্টেইনার তো অন্যরা ব্যবহার করবে না। আর ৪০ ফুট দীর্ঘ খালি কন্টেইনারেই মুলত রপ্তানি পণ্য পরিবহন হয়। সে অনুযায়ী ১০ হাজার ৬শ একক খালি কন্টেইনার আছে।
তিনি স্বীকার করেছেন, কিছু লাইনের খালি কন্টেইনার সংকট আছে; তবে সবার নয়। মোট ৮টি লাইনের খালি কন্টেইনার স্বল্পতা আছে। স্বল্পতা আছে বলেই যে রপ্তানি বন্ধ তাতো নয়। মার্চ এপ্রিল মে মাসের তুলনায় জুন মাসে তো আমরা ১০ হাজার রপ্তানি কন্টেইনার বেশি পাঠিয়েছি।
জাহাজের এক মেইন লাইন অপারেটর বলছেন, এক বা দুটি কন্টেইনার লাইনের খালি কন্টেইনার সংকট থাকতে পারে। আমাদের কোন খালি কন্টেইনার সংকট নেই। কিন্তু তার মানে এই নয় যে চট্টগ্রাম বন্দরে খালি কন্টেইনার সংকটে রপ্তানিতে অচলাবস্থা নেমেছে। আর সেটি যদি হতো জুন মাসে এত রেকর্ড রপ্তানি পণ্য পাঠানো হতো না। জুলাই মাসে রপ্তানি কন্টেইনার পরিবহেন নতুন রেকর্ড হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *