আমদানি-রপ্তানিসহ সব ব্যবসার জন্য ইউনিক আইডি হচ্ছে

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

8 August, 2022

Views

আমদানি-রপ্তানি, ট্রেডিংসহ সব ধরনের ব্যবসা পরিচালনার জন্য একটি ইউনিক আইডি দেয়ার উদ্যোগ বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের। দেশের সব ধরনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে ইউনিক বিজনেস আইডেনটিফিকেশনের (ইউবিআইডি) আওতায় আনতে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে সুপারিশ পাঠিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে সরকারের পক্ষে সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয়ভাবে তদারকি করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে আমদানির জন্য একটি, রপ্তানির জন্য একটি, ট্রেডিংয়ের জন্য একটি এবং ই কমার্সের জন্য ভিন্ন ভিন্ন আইডি’র প্রচলন আছে। নতুন উদ্যোগে ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ইস্যু করা বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) নেওয়া বাধ্যতামুলক করার পাশাপাশি ইউবিআইডি’র সঙ্গে বিআইএন ও ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বরও (টিআইএন) সংযুক্ত করা হবে। এতে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত গড়ে উঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে রাজস্ব আদায় সহজ হবে।
ইউবিআইডি’র রূপরেখা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি প্রণয়ন কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‌’সকল ব্যবসাকে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করার পাশাপাশি কর, ভর্তুকিসহ সব ধরনের আর্থিক সুবিধার আওতায় আনা ও সব ধরনের স্বতন্ত্র ব্যবসার জন্য একটি কেন্দ্রীয় বিজনেস প্রোফাইল তৈরি করে একটি ‘অনন্য ব্যবসা শনাক্তকরণ প্লাটফর্মের’ আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।”

বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে চলতি ডিসেম্বর থেকে শুধু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইউবিআইডি নিবন্ধনের আওতায় আনার কাজ শুরু করা হবে। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পরিচালিত ব্যবসাগুলোকেও এই নিবন্ধন নিতে হবে। সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে এ ধাপটি শেষ হবে।দ্বিতীয় ধাপে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্ম সমূহের দপ্তরে (আরজেএসসি) নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইউবিআইডির আওতায় আনার কাজ শুরু হবে। সর্বোচ্চ ছয়মাসের মধ্যে এ ধরনের কোম্পানিগুলোর নিবন্ধন সম্পন্ন করা হবে।তৃতীয় ধাপে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসারত সকল প্রতিষ্ঠানকে ইউনিক বিজনেস আইডেনটিটির আওতায় আনা হবে। পরবর্তী এক বছরের মধ্যে এ কাজ সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য ইউবিআইডি সনদ গ্রহণ বাধ্যতামুলক করতে হলে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন প্রয়োজন হবে এবং একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করতে হবে। তার আগে আমাদের সাথে বসে ত্রুটিগুলে দুর করতে হবে, যাতে বিদ্যমান ব্যবসায়ীরা নতুন করে ভোগান্তিতে না পড়েন। তবে, প্রাথমিক পর্যায়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে নিবন্ধন ও মনিটরিং অব্যাহত রাখা যেতে পারে।

আরজেএসসির তথ্য অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৫৯ হাজার ১১৪টি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন দিয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি রয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮২৫টি, বিদেশি ফার্ম ৯৭৪টি, অংশীদারি ফার্ম ৫১ হাজার ৩৩২টি, ট্রেড অর্গানাইজেশন ১ হাজার ১৪৩টি, সোসাইটি ১৫ হাজার ২৫৩টি ও পাবলিকি লিমিটেড কোম্পানি রয়েছে ৩ হাজার ৫৮৭টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.