আন্দামান সাগরে জাহাজডুবি, উৎকণ্ঠায় আমদানিকারকেরা 

বিশেষ প্রতিনিধি
ভিয়েতনাম থেকে চট্টগ্রামে আসার পথে বাংলাদেশের আমদানিকারকদের পণ্য বোঝাই একটি বাল্ক জাহাজ ডুবে গেছে। গত ১ আগস্ট মালাক্কা প্রণালীর সঙ্গে যুক্ত আন্দামান সাগরে জাহাজটি ডুবে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। তবে একমাসেও জাহাজটি ডুবে যাওয়ার ঘোষণা দেয়নি মালিকপক্ষ। এ ঘটনায় আমদানিকারকেরা উৎকণ্ঠায় আছেন।
প্রায় ২০ বছরের পুরনো ‘এমভি তান বিন ১২৭’নামের জাহাজটিতে বাংলাদেশী আমদানিকারকদের ১১ হাজার টন ইস্পাতের পাত রয়েছে। এসব পাতের বাজারমূল্য শতকোটি টাকা।
শিপিং বিষয়ক অনলাইন মেরিটাইম বুলেটিনের খবরে বলা হয়, ‘এমভি তান বিন ১২৭’ জাহাজটি থেকে সাহায্যের জন্য সংকেত পাঠানো হয়। জাহাজটিতে পানি ঢুকে ডুবে যাচ্ছিল। নাবিকদের বাঁচাতে জাহাজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন জাহাজের মাস্টার। এরপর জাহাজের ১৮ নাবিক একটি লাইফবোটে ওঠে রক্ষা পান। সে সময় চট্টগ্রাম থেকে মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাংমুখী জাহাজ ‘এমসিসি চিটাগাং’ এর মাস্টার এই নাবিকদের উদ্ধার করে।
খবরে আরও বলা হয়, এমসিসি চিটাগাং জাহাজটি প্রথমে মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং বন্দরে পৌঁছে। তবে করোনাভীতির কারণে পোর্ট কেলাংয়ে নাবিকদের নামাতে পারেনি। এরপর জাহাজটি ভিয়েতনামের ক্যাট লাই বন্দরে পৌঁছে। সেখানে ভিয়েতনামের কোস্টগার্ডের কাছে ৮ আগস্ট উদ্ধার নাবিকদের হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার নাবিকদের মধ্যে ১৩ জন ভিয়েতনামের নাবিক ও পাঁচ জন ভারতীয় নাবিক রয়েছে।
উদ্ধার নাবিকদের ভিডিও এবং ছবিও প্রকাশিত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। একটি ভিডিওতে ভিয়েতনামের বন্দরে এমসিসি চিটাগাং নামের জাহাজ থেকে ডুবে যাওয়া জাহাজের নাবিকেরা ব্যাগেজসহ নামতে দেখা যায়।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ভেসেল ফাইন্ডার এর তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি চীন ও কোরিয়া হয়ে প্রথমে ভিয়েতনাম বন্দরে পৌঁছে। ভিয়েতনাম বন্দর থেকে চট্টগ্রামে আসার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে মিয়ানমারের উপকূল থেকে দেড়শ কিলোমিটার দূরে। আবার থাইল্যান্ডের ফুকেট দ্বীপের উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে আন্দামান সাগরে।
জাহাজটিতে পণ্য আমদানিকারক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন শিপিং এক্সেপ্রেসকে জানান, জাহাজটি ডুবেছে বলে খবর বেরিয়েছে। কিন্তু মালিকপক্ষ এখনো ঘোষণা করেনি তা। আমরা রপ্তানিকারককে ব্যাংকের মাধ্যমে সব অর্থ পরিশোধ করেছি। কাস্টম হাউসে আমদানি পণ্য শুল্কায়নও হয়েছে। কিন্তু মালিকপক্ষ জাহাজডুবির ঘোষণা না দিলে ইন্সুরেন্সও দাবি করতে পারবো না।
তবে জাহাজটির বাংলাদেশের স্থানীয় এজেন্ট হক অ্যান্ড সন্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজটির মূল মালিকপক্ষ জাহাজটি নিয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি। মালিকপক্ষ ঘোষণা দিলেই তারা আমদানিকারকদের অবহিত করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *