আটকে পড়া ১১শ কন্টেইনার রপ্তানি পণ্য বোঝাই ‘এমএসসি কায়েমি’ কলম্বো পৌঁছছে ৫ আগস্ট

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রায় ১১শ একক কন্টেইনার রপ্তানি পণ্যবোঝাই করে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আটকে থাকা বিদেশি জাহাজ ‘এমএসসি কায়েমি’ আগামীকাল ৫ আগস্ট শ্রীলংকার কলম্বো বন্দরে পৌঁছবে। এরপর ৯ আগস্ট কলম্বো বন্দর থেকে ইউরোপ-আমেরিকার পণ্য ক্রেতার গন্তব্যে রনা দিবে এসব রপ্তানি পণ্য।
উল্লেখ্য, মোট ২ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি পণ্য বোঝাই করে জাহাজটি গত ২০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর জেটি ছাড়ে; উদ্দেশ্য কলম্বো বন্দর। কিন্তু এক আমদানিকারকের সাথে বিদেশি পণ্য সরবরাহকারীর মামলা জটিলতায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে জাহাজটি আটক করে নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তর ও বন্দর কর্তৃপক্ষ। ১১ দিন আটকে থাকার পর গত ৩১ জুলাই আদালতের রায় নিয়ে ‘এমএসসি কায়েমি’ জাহাজ চট্টগ্রামের জলসীমা ছেড়ে যায়।
মেডিটেরানিয়ান শিপিং কম্পানির (এমএসসি) ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আজমীর হোসাইন চৌধুরী বলছেন, মামলা জটিলতা শেষ হয়নি কিন্তু আমরা আদালতে আবেদন করেছি, মামলার রায় যাই হোক না কেন। জাহাজে থাকা রপ্তানি পণ্যগুলো যাতে গন্তব্যে যেতে দেয়া হয়। উচ্চ আদালত আমাদের আবেদন আমলে নিয়ে পণ্যসহ জাহাজ ছেড়ে যায়ার নির্দেশনা দেয়। এরপর ৩১ জুলাই বহির্নোঙর থেকে রওনা দিয়ে জাহাজটি ৫ আগস্ট কলম্বো বন্দরে পৌছবে।
তিনি বলছেন, কলম্বো বন্দর থেকে বড় জাহাজে ২ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণের শিডিউল ছিল কিন্তু ১১ দিন আটকে থাকায় সেগুলো নির্ধারিত দুটি জাহাজ মিস করেছে।  এখন আমরা কলম্বো বন্দর ছেড়ে যাওয়া ৯ আগস্টের জাহাজে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়ে সেই রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণ করবো।
জানা গেছে, মুলত বাংলাদেশি এক পণ্য আমদানিকারকের সাথে বিদেশি সরবরাহকারীর এলসি সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন জটিলতায় ‘এমএসসি কায়েমি’ জাহাজের বিরুদ্ধেই উচ্চ আদালতে মামলা করে দেয় খোদ আমদানিকারক ঢাকা শ্যামপুরের ‘আরবি কনকাস্ট এন্ড রি রোলিং মিলস’ । হাইকোর্টের এডমিরালিট স্যুট মামলা আমলে নিয়ে ১৯ জুলাই জাহাজটি আটকের নির্দেশ দিলে বিপাকে পড়ে জাহাজে থাকা পণ্যের রপ্তানিকারক।
জানা গেছে, এলসি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বাংলাদেশি আমদানিকারক বিদেশি সরবরাহকারীর বদলে সরাসরি জাহাজের বিরুদ্ধেই মামলা করে দিয়েছে। এতে ১০৮৪ এক রপ্তানি পণ্য বোঝাই করে জাহাজটি ২০ জুলাই বহির্নোঙরে আটক আছে।
বিদেশি শিপিং কম্পানি এমএসসি’র হেড অব অপারেশন এন্ড লজিস্টিকস আজমীর হোসাইন চৌধুরী বলছেন, কলম্বোগামি রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণে বন্দর কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে; যাতে রপ্তানিকারকরা নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছাতে পারেন। ঠিক সেই চ্যালেঞ্জিং সময়ে দেশিয় উৎপাদকদের এতগুলো রপ্তানি পণ্য ৬ দিন ধরে আটক আছে বহির্নোঙরে। এটা তো ভাবাই যায় না। প্রতিদিন জাহাজ অলস বসে থাকার আর্থিক ক্ষতির বোঝা বইতে হচ্ছে আমাদের।
জানা গেছে, ঢাকা কলিমউল্লাহবাদ ফরিদাবাদের শ্যামপুরের আমদানিকারক ‘আরবি কনকাস্ট এন্ড রি রোলিং মিলস প্র্রাইভেট লিমিটেড’ মুলত হাউকোর্টের অ্যাডমিরালিটি স্যুটে এই মামলাটি করেন। মামলায় জাহাজ মালিক, চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান, কাস্টমস কমিশনার থেকে শুরু করে
১৪ জনকে বিবাদি করা হয়েছে। আবেদনকারী ২ কোটি ৬১ লাখ টাকার ক্ষতিপুরণ মামলা করেছেন। মামলায় ৫শ টন স্ক্র্যাপ কেনা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল চট্টগ্রামের ‌’এইচ এম স্টিলের’ সাথে ‘আরবি কনকাস্ট এন্ড রি রোলিং মিলস প্র্রাইভেট লিমিটেডের।
অভিযোগ আছে, ‘আরবি কনকাস্ট এন্ড রি রোলিং মিলস প্র্রাইভেট লিমিটেড’ এলসি সংক্রান্ত টাকা পরিশোধের মানি লন্ডারিং জটিলতা এড়াতেই এই মামলা করেছে। আর এই মামলায় কোন কারণ ছাড়াই আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন জাহাজে থাকা রপ্তানি পণ্যের মালিকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *