আটকে পড়া রপ্তানি কন্টেইনার  নিতে ‘এমসিসি টকিও’ চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে

বিশেষ প্রতিনিধি
বাংলাদেশ থেকে আটকে পড়া রপ্তানি পণ্য দ্রুত জাহাজীকরণ নিশ্চিত করতে বিশেষ জাহাজ এনেছে ‘এমসিসি টকিও’; জাহাজটি আজ শুক্রবার চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে ভিড়েছে। একসাথে ১৮শ একক রপ্তানি পণ্য নিয়ে জাহাজটি  চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়ে শ্রীলংকার কলম্বো বন্দর যাবে। সেখান থেকে বড় জাহাজে করে ইউরোপ-আমেরিকায় পৌঁছবে।
এরফলে বেসরকারী কন্টেইনার ডিপোতে আটকে থাকা কলম্বোগামি রপ্তানি পণ্য দ্রুত জাহাজীকরণ সম্ভব হবে। আটকে পড়া রপ্তানি কন্টেইনারের মধ্যে বেশিরভাগই বিদেশি শিপিং কম্পানি মায়ের্কস লাইনের। এত বিপুল কন্টেইনার থাকলে চট্টগ্রাম-কলম্বো রুটে মায়ের্কস লাইন বা তাদের সহযোগি সংস্থার নিজস্ব কোন জাহাজ ছিল না। প্রতিষ্ঠানটি এতদিন তৃতীয় পক্ষের জাহাজের স্লট ভাড়া নিয়ে রপ্তানি পণ্য কলম্বো পৌঁছাতো। ‌’এমসিসি টকিও’ হচ্ছে বিশেষ জাহাজ যেটি সরাসরি চট্টগ্রাম-কলম্বো যাবে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলছেন, বেসরকারী কন্টেইনার ডিপোতে যেহেতু সায়ের্কস লাইনের রপ্তানি কন্টেইনারই বেশি তাই তাদেরকে আমরা তাগাদা দিয়েছিলাম বিশেষ জাহাজ দিযে এসব রপ্তানি কন্টেইনার দ্রুত কলম্বো বন্দরে নিতে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই জাহাজটি বন্দরে ভিড়েছে।
তিনি বলেন, এই রুটে সাধারনত ১ হাজার একক থেকে ১২শ একক কন্টেইনার সক্ষমতার জাহাজ চলাচল করে। কিন্তু সেই তুলনায় ‘এমসিসি টকিও’ জাহাজটি বেশ বড় ১৮শ একক কন্টেইনার। একটি জাহাজেই বেশ কিছু কন্টেইনার নেয়া সম্ভব হবে।
জানা গেছে, কারখানায় পণ্য উৎপাদিত পণ্য জাহাজীকরনের আগে ১৮টি বেসরকারী কন্টেইনার ডিপােতে নেয়া হয়। সেখানে কাস্টমসের যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে কার্টনগুলো কন্টেইনারে বোঝাই করা হয়। সে হিসেবে কন্টেইনার ডিপােতে গত ১৬ জুলাই পর্যন্ত রপ্তানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার ছিল ১৫ হাজার ৫৫৬ একক। গত ১৫ জুলাই পর্যন্ত রপ্তানি কন্টেইনারের সংখ্যা বাড়ছিল। কিন্তু গতকাল ১৫ জুলাই থেকে কমতে শুরু করে। এর মুল কারণ কলম্বোগামি জাহাজকে জেটিতে ভিড়তে অগ্রাধিকার দেয়া।
এরপর গত ২০ জুলাই ঈদের ছুটিতে আবারো রপ্তানি কন্টেইনারের সংখ্যা বেড়ে গিয়ে ১৭ হাজারে উন্নীত হয়্ কিন্তু ২২ জুলাই সেটি কমে প্রায় ১৬ হাজার এবং ২৩ জুলাই আরো কমে ১৪ হাজার এককে নেমে আসে। এই তথ্যই প্রমান হচ্ছে ডিপাে থেকে রপ্তানি কন্টেইনার কমছে।
শিপিং লাইনগুলো বলছে, চট্টগ্রাম-কলম্বো রুটে এখন সাতটি নতুন জাহাজের অনুমোদন দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। একইসাথে এই রুটে চলমান আগের জাহাজ এবং নতুন অনুমোদন প্রাপ্ত জাহাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেটিতে ভিড়ার সুযোগ পাচ্ছে। এই দুই কারণে কলম্বোগামি আটকে পড়া কন্টেইনার সংখ্যা কমছে। ‘এমসিসি টকিও’ চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়তে পারে ২৫ জুলাই; সে হিসেবে অনেক কন্টেইনার কমবে। যদি ‘এমসিসি টকিও’ জাহাজ শুধুমাত্র মায়ের্কস লাইনের রপ্তানি কন্টেইনার নিয়েই বন্দর ছাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *