অর্থবছর শেষ না হতেই চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার উঠানামা ছাড়ালো ৩০ লাখ একক

0
953

বিশেষ প্রতিনিধি
কভিড মহামারির মধ্যেই পণ্য উঠানামার নতুন রেকর্ড করেছে দেশের চট্টগ্রাম প্রধান সমুদ্রবন্দর। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ২৭ জুন পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর মোট ৩০ লাখ ৭১ হাজার একক কন্টেইনার উঠানামা করে নতুন রেকর্ড করেছে এই বন্দর। অর্থবছরের বাকি কদিন শেষ হলে পণ্য উঠানামার এই পরিমান ৩১ লাখ ছাড়িয়ে যাবে; যা বন্দরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড হবে।
কভিড মহামারির মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে যাওয়ার প্রমান এই পণ্য উঠানামার রেকর্ড; কারণ চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রপ্তানির চিত্র দেখেই দেশের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে ধারনা মিলে।
বন্দরের হিসাবে, বিগত ২০১৯-২০ অর্থবছরে পণ্য উঠানামার পরিমান ছিল প্রায় ২৮ লাখ একক কন্টেইনার। চলতি অর্থবছর ২০২০-২১ শেষ হলে এবার পণ্য উঠানামার পরিমান ৪ লাখ বেশি হবে; অর্থ্যাঃ ৩১ লাখ একক ছাড়িয়ে যাবে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, আমরা আশা করছি অর্থবছল শেষে পণ্য উঠানামার পরিমান ৩১ লাখ একক ছাড়িয়ে যাবে। এটা চট্টগ্রাম বন্দর নয়; বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার প্রমান। কভিড ধাক্কা কাটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক গতি যে আগের অবস্থায় ফিরছে বন্দরে পণ্য উঠানামার সূচক সেটিই প্রমান করছে।
তিনি বলছেন, পণ্য উঠানামার কভিড মহামারি সময়ে চট্টগ্রাম বন্দর পুরোদমে সচল ছিল। কভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন অনেক কর্মী, অনেকেই জীবন ঝূঁকি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে কভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু অর্থনীতি সচলের বন্দরের কোন কর্মীই পিছু হটেননি। সেই অর্জন এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি বন্দরের পণ্য উঠানামার রেকর্ডে।
চট্টগ্রাম বন্দরের হিসাবে, কভিড মহামারি শুরুর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরের পন্য উঠানামা হয়েছিল ২৮ লাখ ৮ হাজার একক কন্টেইনার। কভিড মহামারি শুরুর পর ২০১৯-২০ অর্থবছরে বন্দরের পণ্য উঠানামায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সেই বছর পণ্য উঠানামা হয়েছিল ২৭ লাখ ৯৭ হাজার একক কন্টেইনার। এর পর থেকেই পণ্য উঠানামার ধকল কাটিয়ে উঠতে শুরু করে বাংলাদেশ। এর প্রমান মিলে চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য উঠানামায়। ২০২০-২১ অর্থবছরের (জুলাই-২৬ জুন পর্যন্ত) চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য উঠানামা হয় ৩০ লাখ ৭১ হাজার একক কন্টেইনার। ৩০ জুন শেষ মোট পণ্য উঠানামা ৩১‌ লাখ ছাড়িয়ে যাবে কোন সন্দেহ নেই।
জানতে চাইলে সাইফ মেরিটাইম লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার আবদুল্লাহ জহির শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, কভিড ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে সরকার সঠিক সময়ে শিল্প কারখানা খোলার সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে বন্দরে পণ্য উঠানামার প্রবৃদ্ধি আমরা দেখতাম না। এটা অবশ্যই প্রশংসনীয় যে চট্টগ্রাম বন্দর যদি কভিড সময়ে নিজের কাজটা সঠিকভাবে করেছে।
বন্দরের দ্রুত পণ্য উঠানামা এবং প্রবৃদ্ধির পেছনে বন্দর ব্যবহারকারীদের একটি বড় অবদান রয়েছে। ব্যবহারকারীদের দক্ষতার পর বন্দরের গতিশীলতা অনেকখানি নির্ভরশীল।
শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের পরিচালক মুনতাসির রুবাইয়াত বলছেন, সিঙ্গাপুর, কলম্বো সর্বশেষ চীনের বন্দরগুলো পর্যন্ত কভিড সময়ে পণ্য উঠানামায় বিপদে পড়েছে। শ্রমিকরা বন্দরে কাজ না করায় জাহাজজট হয়েছে; লকডাউনের কারণে পণ্য ডেলিভারিতে চরম বিঘ্ন ঘটেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এরপরও চট্টগ্রাম বন্দর কিন্তু সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে বন্দর সচল রাখার চেষ্টা করেছে। বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে পণ্য উঠানামার গতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছে এবং এখনো করছে। এর প্রমান আমরা পেয়েছি গত রমজানে, বাজেটে। আমরা আশা করছি এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here