অভিযোগের মধ্যেও জমে উঠেছে শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশন নির্বাচন

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

20 October, 2021 0 Views

0

বিশেষ প্রতিনিধি

জমে উঠেছে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশন নির্বাচন। ৪ এপ্রিল অনুষ্টিতব্য নির্বাচনে চলছে এখন জমজমাট প্রচারনা। এর আগে বেশ কটি নির্বাচন ছিল একেবারেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন। ফলে শিপিং সেক্টরে কর্মরতরা বেশ আগ্রহ ভরেই বিষয়টি উপভোগ করছেন।

তবে নির্বাচনে শুরু থেকেই অনিয়মের অভিযোগ উঠে। ভুয়া সনদ, পুরণো আয়কর সনদ এবং অফিস কর্মীদের ভোটার করার অভিযোগ উঠে সাহেদ সারোয়ার প্যানেলের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে প্রতিদ্বিন্দ্বী সম্মিলিত পরিষদের এক নেতা নির্বাচনী আপিল বোর্ড এবং শ্রম দপ্তরে ভুয়া ভোটার বাতািলের লিখিত অিভেযাগ করেন। কিন্তু নির্বাচন আপীল বোর্ড মাত্র একটি ভোটার বাতিল করে দায় সারেন। ফলে বাকি সাত ভোটারদের বিরুদ্ধে অনিয়মের চুড়ান্ত সুরাহা হয়নি এখনো।

নির্বাচনে মোট আটজন ভোটারের বিরুদ্ধে জাল, অসত্য এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠে। এরমধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়। বাকি সাত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো নিষ্পত্তি করেনি শ্রম দপ্তর। সেগুলো হচ্ছে, এসােসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ড. পারভেজ সাজ্জাদ আকতারের অফিস কর্মীদের দিয়ে একাধিক ভোটার করার লিখিত অভিযোগ উঠে। মুলত নির্বাচনে তার প্রভাব খাটাতেই পুরণো বা ১০ সংখ্যার টিআইএন দিয়ে তিনজনকে ভোটার করেন। নির্বাচন বিধি অনুযায়ী ১২ সংখ্যার ইটিআইএন ছাড়া কাউকে ভোটার করার সুযোগ নেই। এ নিয়ে অভিযোগের নিষ্পত্তি করে নির্বাচন বোর্ড। সবগুলো অভিযােগই সাহেদ সারোয়ার প্যানেলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ গুলো হচ্ছে, সারতাজ মোহাম্মদ ইমরান তিনটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে ভোটার হয়েছেন। এরমধ্যে সিমনি শিপিং লাইনস বৈধ হলে বাকি দুটি প্রতিষ্ঠান ইউনি মেরিন শিপিং সার্ভিসেস এবং ইউনি স্টার শিপিং সার্ভিসেসের জমা দেয়া টিআইএন সঠিক নয়। আয়কর বিভাগে এই দুটি প্রতিষ্ঠানের কোন হালনাগাদ ফাইল নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই দুটি প্রতিষ্ঠান ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ভালো ব্যবসা করেছিল; এরপর থেকে নতুন প্রতিষ্ঠানের নামে তারা ব্যবসা শুরু করেন। পুরনো প্রতিষ্ঠানের নাম এসোসিয়েশনের সদস্য তালিকায় রাখার জন্য কেবল বার্ষিক ফি পরিশোধ করেছেন কিন্তু হালনাগাদ টিআইএন নেই; আয়কর ফাইলও নেই।

এছাড়া এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ড.পারভেজ সাজ্জাদ আকতারের অফিসের কর্মচারীদের নামে একাধিক ভোটার হয়েছে কিন্তু তাদের কারোরই ইটিআইএন জমা পড়েনি। সেই সাথে প্রতিনিধি হিসেবে মালিকের স্বাক্ষর সঠিক নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। আর সমুদ্রযাত্রা শিপিং কম্পানির নামে যিনি ভোটার হয়েছেন তার টিআইন ফাইল যাচাই করে দেখা গেছে অন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠান মার্শা হোল্ডিংস লিমিটেড।

জানতে চাইলে শিপিং এজেন্টস এসােসিয়েশনের সম্মিলিত পরিষদের প্রার্থী খায়রুল আলম সুজন বলছেন, অনেক বছর পর একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করছি। কিন্তু ভুল তথ্য দিয়ে এবং অনিয়মের মাধ্যমে ভোটার হওয়ার অভিযোগের সঠিক তদন্ত এবং নিস্পত্তি না হওয়া খুবই দুঃখজনক।

তবে নির্বাচন কমিশন বলছেন, আপিল বোর্ডে আসা অভিযোগ যাচাই করে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে তিন সদস্যের মধ্যে দুজন একমত হলে আরেকজন সদস্য এসব অভিযোগ নিষ্পত্তিতে একমত হননি।

উল্লেখ্য, এবার শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশন নির্বাচনে ২৬৭ জন ভোটার হয়েছেন। গতবার নির্বাচনে মাত্য ৯৭ জন ভোটার ছিল; এরমধ্যে আবার ৪৮জনই ছিল প্রার্থী। সে হিসেবে এবার নির্বাচন অনেক বেশি জমজমাট হচ্ছে। নির্বাচনে ২২ ভোটার এসোসিয়েটস গ্রুপ থেকে এবং ১৪৫ ভোটার অর্ডিনারি গ্রুপ থেকে ভৈাট দিবেন। ২৬৭ ভোটারের ভোটে ২৪ পরিচালক নির্বাচিত হবেন। এই ২৪ পরিচালক সরাসরি ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচন করবেন। আর অর্ডিনারি গ্রুপের ভোটে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং এসোসিয়েটস গ্রুপের ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন। তারা আগামীতে শিপিং সেক্টরের নেতৃত্ব দিবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *