অবশেষে ঝুঁকিপূর্ণ জেটি মেরামত শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর

0
641

বিশেষ প্রতিনিধি
গর্তের পর গর্ত, সিমেন্ট ঢালাইয়ের স্ল্যাব ভেঙ্গে একাকার হয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান জেটিগুলো (জিসিবি) সংস্কার কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। গর্তগুলো এমনস্থানে সৃষ্টি হয়েছিল জাহাজ থেকে পণ্য নামিয়ে চলাচলের সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পড়ে বড় ধরনের অঘটন ঘটতো। এ নিয়ে শিপিং এক্সপ্রেসে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় গত এপ্রিলে; এরপরই টনক নড়ে চট্টগ্রাম বন্দরের। প্রতিবেদন প্রকাশের দু্ইমাস পর এসে জেটি মেরামত কাজ শুরু করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। জেটি মেরামত শেষ হতে অন্তত তিন সপ্তাহ সময় লাগবে; ততদিন পর্যন্ত এই জেটিতে স্ক্র্যাপ পণ্যবাহি, প্রকল্পের অধীনে আসা ভারী মালামাল ভর্তি জাহাজ ভিড়ানো বন্ধ রাখবে চট্টগ্রাম বন্দর।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক শিপিং এক্সপ্রেসকে বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের ২ থেকে ৭ নম্বর পর্যন্ত প্রধান জেটিগুলোর বিভিন্নস্থানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সিমেন্ট ঢালাইয়ের স্ল্যাব ভেঙ্গে অনেকস্থানে জাহাজ থেকে পণ্য নামানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় আমরা সব গর্ত মেরামত করে জেটিতে জাহাজ ভিড়ানোর উপযোগি করছি।
তিনি বলছেন, এসব জেটি মেরামতের কাজ গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে; শেষ হতে তিন সপ্তাহ সময় লাগবে। মেরামত চলাকালীন সময়ে বন্দরের এসব জেটিতে ভারী পণ্যবাহি জাহাজ ভিড়ানো বন্ধ থাকবে। তবে লাইট বা হাল্কা পণ্যবাহি জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারবে। একইসাথে কেউ যদি চায় জেটির অপরপ্রান্তে ওভারসাইডে জাহাজ থেকে পণ্য নামাতে পারবে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান এই জেটিগুলোতে সাধারন পণ্যবাহি জাহাজ ভিড়ানো হয়। ১৯৫৪ সালে এই জেটিগুলো নির্মিত হয়েছিল। এরপর ১৯৭৯ সালে এই জেটি সংস্কার করা হয়েছিল। জাহাজ থেকে জেটিতে পণ্য নামানোর সময় এই স্থানেই ট্রাক বা লরি থাকে। সেখানে বােঝাই করেই পণ্যভর্তি ট্রাক বন্দর থেকে বের হয়ে যায়। এমন গুরুত্বপূর্ণস্থানেই এই গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
কিভাবে গর্তের সৃষ্টি হলো জানতে চাইলে বন্দর পরিবহন বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, গত সপ্তাহে একটি স্ক্র্যাপ জাহাজ থেকে পণ্য নামানোর সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। বন্দর জেটিতে স্ক্র্যাপ পণ্য নামানোর সময় প্রায়ই এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। পরে সেগুলো আমরা মেরামত করি। মুলত জেটি পুরণো হওয়ার কারণেই বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান ১২জেটি নির্মিত হয়েছিল ১৯৫৪ সালে; এরপর ১৯৭৯ সালে জেটিগুলো পুননির্মান করা হয়েছিল। পুরণো হয়ে যাওয়ায় এসব জেটি ভেঙ্গে ‘আধুনিক বাল্ক টার্মিনাল’ নির্মানের পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।
এদিকে জেটিতে স্ক্যাপ জাহাজ ভিড়ানো বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে চিঠি দিয়েছে শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশন। তারা বলছে এই মুহুর্তে স্ক্র্যাপ জাহাজ জেটিতে ভিড়ানো বন্ধ করলে জাহাজজট বাড়বে।
কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর বলছে, জেটি মেরামতের সময় শুধু স্ক্র্যাপ নয়; ভারী জাহাজ মেরামতের সিদ্ধান্ত বার্থিং মিটিংয়ে হয়েছে। শিপিং এজেন্টদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। এমনকি বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজে স্ক্র্যাপ আমদানিকারক বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানকে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তাদের সহযোগিতা চায়া হয়েছে। এই সমযে এসে চিঠি দেয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই।
বন্দর বলছে, স্ক্র্যাপ জাহাজ ভিড়ানোর জন্য সদরঘাট লাইটার জেটি আছে, চট্টগ্রাম ড্রাইডক জেটি আছে, পাশাপাশি কর্ণফুলী নদীর ওইপাড়ে বেসরকারী কর্ণফুলী ড্রাইডক জেটিও আছে। সাময়িক সময়ের জন্য সেসব জেটি ব্যবহারের সুযোগ আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here