অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দরের ভিতর থেকে সরছে জরাজীর্ণ ‘অকশন শেড’

0
663

বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত এলাকার ভিতর কাস্টমসের ‘অকশন শেড’ অবশেষে সরানো হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ এবং নিলামযোগ্য পণ্য আইনী জটিলতার কারণে এই ইয়ার্ডে বছরের পর বছর পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছিল। কিছু পণ্য নিয়মিত নিলামে তোলা গেলেও অনেক পণ্য অন্তত ২০ বছর ধরে পড়ে আছে। এসব পণ্য বন্দরের ভিতর পণ্য উঠানামা এবং পরিচালন কাজে ব্যবহৃত সবচে মূল্যবান জমি দখল করে থাকায় বন্দরের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছিল। আর কাস্টমস বঞ্চিত হচ্ছিল রাজস্ব আয় থেকে।

চট্টগ্রাম বন্দর সংরক্ষিত এলাকার বাইরে বন্দর স্টেডিয়ামের সামনে ২০১৭ সালে বিশাল অকশন শেড তৈরী করে দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বন্দর-কাস্টমস-রেলের আইনী জটিলতার কারণে সেটি সচল করা যায়নি। এখন পুরণো অকশন শেডে থাকা পণ্যের মধ্যে ধ্বংসযোগ্য পণ্য বাছাই করে বাকিগুলো আইনী নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাস্টমসের নতুন অকশন শেডে নেয়া হবে। বন্দরের বাইরে থাকা নতুন এই অকশন শেড থেকেই এসব পণ্যের পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহন করা হবে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার ফখরুল আলম শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, এখন আর আইনী জটিলতা নেই। বন্দরের ভিতর থেকে পড়ে থাকা পণ্যগুলো সরানোর জন্য একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি। তারা পণ্য বাছাই করে সরানো এবং স্থানান্তরের পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহন করবে।

এদিকে বন্দরের পুরাতন গোলা থেকে মালামাল সরাতে কাস্টমসের দুই যুগ্ম কমিশনারকে সদস্য করে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন কাস্টমস কমিশনার। কমিটির সদস্যরা হলেন মোহাম্মদ মাহাবুব হাসান ও মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ। তাদের তত্ত্বাবধানে স্থানান্তর হবে গোলাটি। আগামী সপ্তাহেই সেই কাজ শুরু হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতরে থাকা জীর্ণশীর্ণ ‘নিলাম গোলা’ শেষ পর্যন্ত ভেঙে ফেলা হচ্ছে। তার আগেই অবশ্য তৈরি হয়ে গেছে নতুন ‘নিলাম গোলা’। বন্দরে কাস্টমসের সব মালামাল এই নিলাম গোলাতেই রাখা হয়। সেখানে এখনও রয়েছে নিলামযোগ্য ১৯০টি গাড়ি। আছে মোটরসাইকেল, মেয়াদোত্তীর্ণ গুঁড়ো দুধ, প্রসাধনী, কাপড়-কম্বলের মতো পণ্যও। এসব পণ্য সময়ে সময়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস নিলামে তোলে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের পুরনো ‘নিলাম গোলা’য় ২০ বছরেরও পুরনো মালামাল সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে বেশি পুরনো পণ্যগুলো ধ্বংস করে ফেলা হবে। অপেক্ষাকৃত ভালো পণ্যগুলো নতুন নিলাম গোলায় নিয়ে যাওয়া হবে। পরে সেগুলো নিলামে তোলারও পরিকল্পনা রয়েছে কাস্টমসের। পুরাতন অকশন গোলায় ১৯০টি গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ড্রাম ট্রাক, মিক্সার ট্রাক, কার, মোটর সাইকেল। এছাড়া রয়েছে ফটোকপি মেশিন, মেয়াদোত্তীর্ণ গুঁড়ো দুধ, প্রসাধনী, কাপড় কম্বলসহ আরও নানা পণ্য।বন্দরের পুরনো নিলাম গোলায় পড়ে থাকা অনেক পণ্য নষ্ট হয়ে ওপরে রীতিমতো ঘাস জন্মেছে। অনেক পণ্যের ওপর গজিয়েছে গাছও। মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় পড়া অনেক পণ্য বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে এ গোলায়। সেখানে ১৯৯৬-১৯৯৭ সালের মামলায় পড়া পণ্যও রয়ে গেছে এখনও যেসব মামলা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।

কাস্টমসের নিলাম শাখার ডেপুটি কমিশনার ফয়সাল বিন রহমান বলেন, ‘মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পণ্যগুলো নতুন অকশন গোলায় সংরক্ষণ করা হবে। কিন্তু যেগুলোর বিপরীতে কোনো মামলা নেই এবং পণ্যও ভালো অবস্থায় আছে সেগুলো আগামী নিলামে তোলার পরিকল্পনা আছে আমাদের।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here