অধিদপ্তরের আদেশে নৌপথে পণ্য পরিবহন নিয়ে জটিলতা

বিশেষ প্রতিনিধি
নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের একটি আদেশ নিয়ে দেশের নৌপথে লাইটার বা ছোট জাহাজে পণ্য পরিবহন নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরী হয়েছে। ২৩ আগস্ট সেই আদেশে নৌ পথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বেসরকারী ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের সিরিয়াল মেনে পণ্য পরিবহনের বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়েছে। আদেশ না মানলে যথাযথ আইনী পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।
আদেশটি এখনো কার্যকর করেনি অধিদপ্তর কিন্তু এরইমধ্যে আদেশ নিয়ে জটিলতা তৈরী হয়েছে। সবচে বেশি উদ্বেগে পড়েছেন নিজস্ব জাহাজে পণ্য পরিবহনকারী শিল্প উদ্যোক্তারা।
নতুন নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে সিমেন্ট শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আলমগীর কবির বলেন, আমদানি করা কাঁচামাল কম সময়ে এবং কম খরচে কারখানায় নেওয়ার জন্যই লাইটার জাহাজ কিনে পরিচালনা করছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। এখন নতুন যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তাতে এই খাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়বে। দিন শেষে তা ভোক্তার ওপর গিয়ে পড়বে।
নদীপথে পণ্য পরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে জাহাজ মালিকদের সংগঠন ২০০৩ সালে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল গঠন করে। সেলটি গঠনের পর পণ্য পরিবহনে ডাব্লিউটিসি থেকে লাইটার জাহাজ ভাড়া করতে হতো। লাইটার জাহাজের চরম সংকটে ২০১৩ সালে কখনো কখনো একটি জাহাজ বরাদ্দ পেতে এক মাসের বেশি সময় লেগে যেত। ফলে পণ্য পরিবহনে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে দেশের বড় শিল্পগ্রুপগুলো। এমন পরিস্থিতিতে দেশের অন্তত ২৫ জন শিল্পমালিক নিজেদের বিনিয়োগে তৈরি করেন লাইটার জাহাজ। এসব জাহাজ তৈরিতে প্রতিটির জন্য খরচ হয় ১০ কোটি টাকার বেশি। তখন থেকেই নিজেদের জাহাজে নিজের আমদানি পণ্য পরিবহন শুরু করেন মালিকরা।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২০ সালের জুন মাসে একই আদেশ কার্যকর করতে গেলে বিপত্তি ঘটে। তখন শিল্প উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করলে সেই আদেশ আর কার্যকর করা যায়নি। এখন নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক যোগদান করে আগের সেই আদেশের পুনরাবৃত্তি করছেন।
তবে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের কর্মকর্তারা বলছেন, এই উদ্যোগ জাহাজে পণ্য পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্যই। এখন যে যার ইচ্ছেমত জাহাজে পণ্য পরিবহন করছেন। ফলে কেউ বেশি ট্রিপ পাচ্ছেন আবার কেউ মাসে একটি ট্রিপও পাচ্ছেন না।
তবে ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের সেই যুক্তি আছে কেবল কাগজে-কলমে। একাধিক জাহাজ মালিক বলছেন, ডাব্লিউটিসির শীর্ষস্থানীয় নেতারা জাহাজের সিরিয়াল না মেনে নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী পণ্য পরিবহন করছেন। করোনাকালীন সাধারণ জাহাজ মালিকরা কোনো ট্রিপ না পেয়ে অলস বসে থাকলেও নেতারা ঠিকই পণ্য পরিবহন করে আয় করেছেন। নেতাদের জাহাজ সিরিয়ালে আনা গেলেই শৃঙ্খলা ফিরবে। আর ঘুরেফিরে কযেক নেতাই এই অবৈধ কাজটি করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *