অত্যাধুনিক ‘সিমুলেটর কমপ্লেক্স’ স্থাপন করছে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট

Dhaka Post Desk

বিশেষ প্রতিনিধি

5 December, 2021 14 Views

14
বিশেষ প্রতিনিধি,

জাহাজ পরিচালনায় আর্ন্তজাতিক মানসম্পন্ন ক্যাডেট তৈরীতে এই প্রথম ‘সিমুলেটর কমপ্লেক্স’ স্থাপন করছে চট্টগ্রামের সরকারী ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট (এনএমআই)। মেরিটাইম সেক্টরে দক্ষ জনবল তৈরীর অংশ হিসেবে নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয় এটি স্থাপন  করছে। প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে এটির নির্মানকাজ শুরু হয়েছে। চলতি বছরের জুনে কাজ শেষ হওয়ার আশা কর্তৃপক্ষের।

ভবনের নির্মাণ কাজ চলমান

ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) নিদের্শিত নিয়মে ক্যাডেট প্রশিক্ষনে অবশ্যই ‘সিমুলেট বেইজড’ প্রশিক্ষন বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশের অন্য ক্যাডেট প্রশিক্ষন প্রতিষ্ঠান যেমন-বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি ও বেসরকারি একাডেমিগুলোতে সিমুলেটর থাকলেও তা পূর্ণাঙ্গ নয়। সরকারী ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে সিমুলেটর স্থাপন হলে আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষ নাবিক তৈরীতে বাংলাদেশ একধাপ এগিয়ে যাবে। এই বিষয়ে জানতে চাইলে নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তরের চীফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন কেএম জসিম উদ্দিন সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, আগে ক্যাডেটদের জাহাজে উঠেই এই প্রশিক্ষনটা নিতে হতো কিন্তু পরবর্তীতে সেটি কঠিন হয়ে পড়লো। এই কারণে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) জাহাজে না উঠে জাহাজের মতোই রিয়েল টাইম, রিয়েল এনভায়রনমেন্ট ট্রেনিং বাধ্যতামূলক করলো। এরপর থেকেই মুলত সিমুলেটর বেইজড ট্রেনিং শুরু হয়। তিনি বলছেন, এনএমআই যে সিমুলেটর বসাচ্ছে সেটি সবচেয়ে আধুনিক এবং সমন্বিত বলে জেনেছি। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত ক্যাডেটরা অবশ্যই অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকবে। প্রশিক্ষন নেয়ার পর সরাসরি জাহাজে উঠে নিজেদের নিয়োজিত করতে পারবে। বিশ্ববাজারেও তারা এগিয়ে থাকবে কোন সন্দেহ নেই।

পূর্ণাঙ্গ ভবনের নকশা।

জানা গেছে, বাংলাদেশে সরকারী ‘বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি’তে ডেক ক্যাডেটদের প্রশিক্ষনে সিমুলেটর থাকলেও, ইঞ্জিন ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণে প্রয়োজনীয় সিমুলেটর নেই। তবে ক্যাডেট প্রশিক্ষণের বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ‘আই এম এ’  সিমুলেটর বেইজড ট্রেনিংএ সরকারি ও বেসরকারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট গুলো থেকে কিছুটা এগিয়ে আছে।

ভবিষ্যতের যোগ্য জনবল তৈরীর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার চট্টগ্রাম ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে রেটিং প্রশিক্ষনের পাশাপাশি মেরিন ক্যাডেট প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সিমুলেটর কমপ্লেক্স নির্মান করছে।
সিমুলেটর বেইজড ট্রেনিং থাকলে একজন ক্যাডেট কিভাবে এগিয়ে থাকবে—জানতে চাইলে মেরিন একাডেমির নৌ শিক্ষা বিভাগের প্রধান ও ক্যাপ্টেন সাব্বির মাহমুদ বলেন, ‘একজন ক্যাডেট খোলা জাহাজ, কনটেইনার জাহাজ ও ট্যাংকার জাহাজের প্রশিক্ষণ পান। কিন্তু এনএমআইয়ের আধুনিক ও সমন্বিত সিমুলেটর দিয়ে বিশেষায়িত কিছু প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে, যা বাংলাদেশে প্রথম ও একেবারে নতুন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রিমোর্ট অপারেটেড ভেসেল, অফশোর ভেসেল এবং এলপিজি-এলএনজিভিত্তিক জাহাজ পরিচালনা। তিনি বিলেন, শুধু জাহাজ পরিচালনাই নয়, এই কেন্দ্রে বন্দর পরিচালনায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ভারী যন্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষণও দেওয়া যাবে। এখান থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা বিদেশে দক্ষ কর্মী হিসেবে চাকরি পাবে; যার চাহিদা প্রচুর।

ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট এর অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন ফয়সাল আজিম কালের কণ্ঠকে বলেন, দক্ষিন এশিয়ার মধ্যে সিমুলেটর বেইজড সমন্বিত ট্রেনিং এর জন্য এই ধরনের স্থাপনা এটাই প্রথম। ব্রিজ, ইঞ্জিন, জি. এম. ডি. এস. এস. ছাড়াও ট্যাংকার, কেমিক্যাল ট্যাংকার ও গ্যাস ট্যাংকার সিমুলেটর থাকছে এখানে। তাছাড়া বয়া  হ্যান্ডেলিং টাগ, ক্রেন অপারেশন, হাই ভোল্টেজ, সালফার ক্যাপ, ব্যালাস্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট সিমুলেটর এর সাথে যুক্ত থাকছে। আভ্যন্তরীণ নদীবন্দর গুলো এই সিমুলেটর এর সাথে যুক্ত থাকছে, ফলে ইনল্যান্ড ও কোস্টার জাহাজের নাবিকদেরও নৌ-নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া সম্ভব হবে। নৌ চলাচল নিরাপদ রাখার স্বার্থে নাবিকদের প্রশিক্ষিত করাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি নিদর্শনাও রয়েছে। নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয় আগামীর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ সিমুলেটর কমপ্লেক্স স্থাপন করছে। প্রায় ৪০ কোটি ব্যয়ের এই প্রকল্পের ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন ভৌত অবকাঠামো নির্মানকাজ চলছে। আমরা আশা করছি নির্ধারিত সময়ের (আগামী জুন মাস) মধ্যেই এটি সম্পন্ন হবে।’

জানা গেছে, সরকার বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম নাবিক তৈরী করতে চট্টগ্রাম ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটকে সর্বাধুনিকভাবে গড়ে তুলছে। গত আট বছরে এই প্রতিষ্ঠানের আমুল পরিবর্তন হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে বর্তমানে রেটিং ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে; বছরে সক্ষমতা ৬শ জন। রেটিং  তৈরী করতে সরকার ইতোমধ্যে মাদারীপুরে শাখার অনুমতি দিয়েছে; যেটির অবকাঠামো নির্মান চলছে। মাদারিপুরের প্রশিক্ষন চলছে চট্টগ্রামে। একইসাথে কুড়িগ্রামেও ইনস্টিটিউটের একটি শাখা স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *